SCORE

সর্বশেষ

তুষার ইমরানের আশা ‘এ’ দল

বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত নাম তুষার ইমরান। টেস্ট ক্যারিয়ার শেষ হয়েছে মাত্র ৫ টেস্টেই। আর সেই ৫ টেস্টের সবশেষটি খেলেছেন তুষার ২০০৭ সালের জুলাইয়ে। সেই বছরেরই শেষ দিনে খেলেছেন ৪১ ওয়ানডের সবশেষটি। এরপর আর সুযোগ মেলেনি জাতীয় দলের পোশাকে। ঘরোয়া ক্রিকেটে অবশ্য বরাবরই নিয়মিত পারফর্ম করে আলোচনায় থেকেছেন। সেই পারফরম্যান্সকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন গত কয়েক মৌসুমে। ঘরোয়া বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে হয়ে উঠেছেন রান মেশিন।

সেঞ্চুরির হ্যাটট্রিক তুষারের

তুষার সাদা পোশাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ছাড়িয়ে গেছেন সবাইকে। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে  ছুঁয়েছেন ১০ হাজার রানের মাইলফলক। তার ২৮ সেঞ্চুরিও বাংলাদেশের রেকর্ড। গত মৌসুমে করেছেন এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও।

Also Read - ইঞ্জুরিতে শেষ দুই রাউন্ড মিস করবেন তামিম, তাসকিন, মিরাজ

এবার জাতীয় লিগে ৬ ম্যাচে ৫৩.৮৬ গড়ে করেছেন ৩৭৭ রান। বিসিএলে এখনও পর্যন্ত ৪ ম্যাচে ৪ সেঞ্চুরিতে ৫৫৮ রান করেছেন এই রান মেশিন। ১১১.৬০ গড় বলে দেয় কতটা ধারাবাহিক তুষার।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় ৩৪ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারের জন্য জাতীয় দলে ফেরা বেশ কঠিন। তবে তুষারের পারফরম্যান্স আর ধারাবাহিকতা অতিমানবীয় বলে আলোচনায় তিনি উঠে আসছেন বারংবার। অভিজ্ঞতায় এখন যতটা সমৃ্দ্ধ, তাতে টেস্ট দলে তার জায়গা দেখেন অনেকেই। তুষার নিজে অবশ্য জানেন, জায়গা বের করা কঠিন। তবে তাতে হাল ছেড়ে দিচ্ছেন না তিনি। বরং রানের জোয়ারেই ভাসিয়ে দিতে চান বাস্তবতার সেই কঠিন দেয়াল।

‘এখন যে দলটা খেলছে বাংলাদেশের হয়ে, তাদেরকে পেছনে ফেলা অনেক কঠিন। অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে খেলে যাচ্ছে। বিশেষ করে আমি যে পজিশনে ব্যাট করি, সে পজিশনে মুশফিক আছে, রিয়াদ আছে, সাকিব আছে, মুমিনুল আছে। ওরা তো জাতীয় দলের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে যাচ্ছে।’

‘আমি আমার মতোই চেষ্টা করছি কাউকে পেছনে ফেলা যায় কি না। ওদেরকে পেছনে ফেলতে হলে হয়তো আরও অনেক বেশি রান করতে হবে। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। আর প্রমাণের একটাই জায়গা, ঘরোয়া ক্রিকেটে। আমি এখানে সুযোগ পাচ্ছি, ভালো করে যাচ্ছি, ইনশাল্লাহ সামনেও করব। যদি নির্বাচকরা মনে করে এটা যথেষ্ট, আমাকে নিতে চায়, আমি প্রস্তুত আছি।’

‘এ’ দলের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আসতেও আপত্তি নেই তুষারের। সেই সুযোগ যে সরাসরি জাতীয় দলেই হতে হবে তা কিন্তু নয়। বিসিএলের সবশেষ রাউন্ডে এক ম্যাচের দুই ইনিংসেই করেছিলেন সেঞ্চুরি। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন ছিলেন মাঠে। সেটিই আশান্বিত করেছে তুষারকে। সামনেই বাংলাদেশ সফরে আসবে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল। এরপর বাংলাদেশ ‘এ’ দল যাবে আয়ারল্যান্ড সফরে। এই সিরিজগুলোতে বাংলাদেশ ‘এ’ দলে সুযোগ পাবেন, এই আশায় বুক বাঁধছেন তুষার।

‘নান্নু ভাই (প্রধান নির্বাচক) ছিলেন গত ম্যাচে, পুরো ম্যাচ উপভোগ করেছেন। যদি প্রয়োজন মনে করেন যে ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়ার আগে একটা টেস্ট দেওয়া উচিত, তাহলে ‘এ’ দলের সফর আছে সামনে, শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল আসবে। আরও যারা সিনিয়র আছে, শাহরিয়ার নাফীস, অলক কাপালী, নাঈম ইসলাম এবং রাজ্জাকেরও সুযোগ আসতে পারে। যদি সুযোগ হয় ‘এ’ দলে, তাহলে সেখানে পারফর্ম করেই জাতীয় দলে জায়গা নিতে প্রস্তুত আছে সবাই।’

তুষার যখন প্রথম এবং একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সাদা পোশাকে ১০,০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন, তার কাছাকাছি সময়েই আব্দুর রাজ্জাক প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে স্পর্শ করেছেন ৫০০ উইকেটের মাইলফলক। সেই রাজ্জাক এরপর সুযোগ পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে। পরিপক্কতা ও অভিজ্ঞতার বিচারে রাজ্জাকের মতো ভবিষ্যতেও বয়স্ক ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে তুষার।

তখন তিনি বলেন, ‘আমি এতে আশ্চর্য হইনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি এটাই কালচার হওয়া উচিত। একজন খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া উচিত, যখন সে একটি ফরম্যাটে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো করছে। বয়স্ক ক্রিকেটাররা ভালো পারফর্ম করলে তাদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’

 

আরো পড়ুনঃইনজুরির শিকার মুশফিক

Related Articles

কোচ-অধিনায়কের সম্মতিতেই স্কোয়াডে সৌম্য

সিনিয়রদের পরামর্শ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নাঈম

উপরের দিকে চোখ শান্ত’র

‘ছোট ফরম্যাটের জন্য আফগানিস্তান ভালো দল’

এ বছর হচ্ছে না বিপিএলের আদলে টি-২০ টুর্নামেন্ট