SCORE

সর্বশেষ

হায়দরাবাদের জয়ে আলো ছড়াতে পারেননি সাকিব

ব্যাটিংয়ে কেন উইলিয়ামসনের নৈপুণ্যে আর সন্দ্বীপ শর্মা এবং সিদ্ধার্থ কাউলের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সুবাদে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ১১ রানে জয় পেয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দলের জয়ের দিনে সাকিব আল হাসান ছিলে নিষ্প্রভ। ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। ব্যাটিংয়ে করেছেন ৬ বলে ৬।

ছবি – বিসিসিআই

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। শুরুটা তেমন ভালো হয়নি সাকিবদের। ওপেনার শিখর ধাওয়ানকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ হারায় তৃতীয় ওভারেই। গোথামের বলে বোল্ড হন ধাওয়ান। ৪ বলে ৬ রান করে সাজঘরে ফিরে যান তিনি। এরপর হাল ধরেন এলেক্স হেলস এবং কেন উইলিয়ামসন। ৯২ রানের জুটি গড়েন দুজন। দলের রানের গতিও বাড়ান দুজন মিলে। তাদের বড় জুটি সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে বড় ইনিংসের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাদের জুটিও ভাঙেন গোথাম। ৪ চারের সাহায্যে ৩৯ বলে ৪৫ রান করে বিদায় নেন অ্যালেক্স হেলস।

হেলস-উইলিয়ামসনের জুটি ভাঙার পর কমতে থাকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের রানের গতি। ছন্দ ফিরে পান রাজস্থান রয়্যালসের বোলাররা। ১৩ তম ওভারের প্রথম বলেই দলীয় ১০০ পূর্ণ করেছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কিন্তু শেষ ৪৭ বলে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫১ রান করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

Also Read - লর্ডসকে স্মরণীয় করে রাখতে চান তামিম

অ্যালেক্স হেলসের বিদায়ের পরের ওভারেই বিদায় ঘটে কেন উইলিয়ামসনের। ইশ সোধির বলে উইকেটরক্ষক জস বাটলারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান উইলিয়ামসন। ৭ চার এবং ২ ছক্কার সাহায্যে ৪৩ বলে ৬৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন উইলিয়ামসন। উইলিয়ামসনকে ফিরিয়ে দিয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে আরো চেপে ধরে রাজস্থান রয়্যালসের বোলাররা। দলীয় ১১৬ রানের মাথায় আউট হন উইলিয়ামসন।

এরপর ব্যাটিংয়ে আসেন সাকিব আল হাসান। শুরুটা ভালোই হয়েছিল সাকিবের। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান সাকিব। সাকিব ও মনিশ পান্ডের হাত ধরে তখন বড় স্কোর গড়ার আশায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কিন্তু সেই আশা পূরণ হতে দেননি রাজস্থানের বোলাররা। ৬ বলে ৬ রান করে জফরা আর্চারের বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন সাকিব। দুর্দান্ত এক ওভার করেন আর্চার। প্রথম বলে সাকিবকে ফেরানোর পর, শেষ বলে ফেরান ইউসুফ পাঠানকে। ৩ বলে ২ রান করে বিদায় নেন পাঠান।

পরের ওভারে আঘাত হানেন জয়দেব উনাদকাট। উনাদকাটের বলে আজিঙ্কা রাহানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন মনিশ পান্ডে। ১৫ বলে ১৬ রান করেন মনিশ। তার ইনিংসে ছিল একটি চার। শেষদিকে ৭ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলেন ঋদ্ধিমান সাহা। রাশিদ খান ফিরে যান ৩ বলে ১ রান করে। ৭ উইকেটে ১৫১ রান করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ২৬ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট পান আর্চার। দুই উইকেট নেন গোথাম। একটি করে উইকেট শিকার করেন জয়দেব উনাদকাট এবং ইশ সোধি।

১৫২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় রাজস্থান রয়্যালস। ৫ বলে ৪ রান করে সন্দ্বীপ শর্মার বলে বোল্ড হন রাজস্থান রয়্যালসের ওপেনার রাহুল ত্রিপথি। দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন সন্দ্বীপ শর্মা। নিজের প্রথম দুই ওভারে মাত্র পাঁচ রান দেন তিনি। তবে অন্য বোলারদের ওপর চড়াও হয় রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটসম্যানরা।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই আক্রমণে আনা হয় সাকিব আল হাসানকে। নিজের প্রথম ওভারটা তেমন ভালো হয়নি সাকিবের। চার হয় একটি, রান হয় নয়। বাসিল থাম্পির এক ওভারে  দুই চার ও একটি ছক্কা মারেন সানজু স্যামসন। স্যামসন এবং রাহানে মিলে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন।

সপ্তম ওভারে আবারো বোলিংয়ে আনা হয় সাকিবকে। এ ওভারে সাত রান দেন তিনি। স্যামসন এবং রাহানের জুটি ভাঙেন সিদ্ধার্থ। ৩০ বলে ৪০ রান করে স্যামসন ক্যাচ দেন অ্যালেক্স হেলসকে। পরের ওভারেই বেন স্টোকসকে বোল্ড করেন পাঠান। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান স্টোকস। ৭৩ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে রাজস্থানের। নবম ওভারে বোলিংয়ে এসে নয় রান দেন সাকিব।

দ্বাদশ ওভারে নিজের শেষ ওভার করতে এসে মাত্র পাঁচ রান দেন সাকিব। আটকে রাখেন জস বাটলার এবং রাহানেকে। ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। ১১ বলে ১০ রান করে ৯৬ রানের মাথায় রশিদের শিকার হন বাটলার। রাজস্থানের ব্যাটসম্যানদেরকে চেপে ধরেন রশিদ। হায়দরাবাদের বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় রাজস্থান রয়্যালস। রাহানে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকলেও বল আর রানের টানাপোড়েন কমাতে পারেননি।

শেষ দুই ওভারে ২৭ রান প্রয়োজন ছিল রাজস্থানের। ১৯ তম ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন হায়দরাবাদের সিদ্ধার্থ। শেষ ওভারে জয়টা দুঃসাধ্য ছিল রাজস্থানের জন্য। দরকার ছিল ২১ রান। ৯ রান সংগ্রহ করলে ১১ রানে ম্যাচ হারে তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর 

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৫১/৭, ২০ ওভার
উইলিয়ামসন ৬৩, হেলস ৪৫, সাহা ১১*
আরচার ৩/২৬, গোথাম ২/১৮, সোধি ১/২৫

রাজস্থান রয়্যালস ১৪০/৬ , ২০ ওভার
রাহানে ৬৫*, স্যামসন ৪০, লমরর ১১
সিদ্ধার্থ ২/২৩, সন্দ্বীপ ১/১৫ , পাঠান ১/১৪

আরও পড়ুনঃ লর্ডসকে স্মরণীয় করে রাখতে চান তামিম

Related Articles

কাউন্টির বিতর্ক বন্ধ করতেই কোহলির ইনজুরির ‘নাটক’!

ডি ভিলিয়ার্সের প্রতি কোহলির বিশেষ বার্তা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন সাকিব!

টুইটারে রশিদ খানের বন্দনা

মাঝে রশিদ ও আমার ওভারগুলো টার্নিং পয়েন্ট : সাকিব