SCORE

সর্বশেষ

“কথা দিয়ে ক্রিকেট হয় না”

মাত্র কদিন আগেই বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তরুণ ক্রিকেটারের জন্য ব্যাপারটি ছিল হতাশার। এর আগে প্রায় এক বছর ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে চোখের সংক্রমণজনিত সমস্যায়। ক্রিকেট মাঠেই নিয়মিত ছিলেন না অনেকদিন। তবে চুক্তি থেকে বাদ পড়া সেই মোসাদ্দেকই মাস ঘুরতে ডাক পেলেন জাতীয় দলের টি-২০ স্কোয়াডে।

mosaddek মোসাদ্দেক

ভারতের দেরাদুনে অনুষ্ঠিতব্য আফগানিস্তান সিরিজের জন্য দল ঘোষণার দিনে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মোসাদ্দেক জানালেন, কতটুকু দীর্ঘ ছিল তার জন্য ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বিরতিটুকু।

Also Read - "চেষ্টা করেছি সম্ভাব্য সেরা দলটা গঠন করতে"

মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমার কাছে বিরতিটা ছোট নয়। অনেক বড়, প্রায় এক বছর পর আমি আবার রঙিন পোশাকে খেলব বাংলাদেশ দলের হয়ে। আমার কাছে এটা ভালো লাগারই বিষয়। নতুন সুযোগ আমার জন্য।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও নিজের উপর থেকে বিশ্বাস হারাননি এই অলরাউন্ডার, ‘একজন খেলোয়াড়ের ভালো সময়, খারাপ সময় যাবে এটাই স্বাভাবিক। আমার খারাপ সময় গেছে। নিজের উপর বিশ্বাসটা আমারও আছে। সামনে কী হবে বলতে পারব না। তবে আমার চেষ্টা থাকবে সর্বোচ্চটা দেওয়ার। চিন্তা করার চেয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রয়োগটাই বড়। তা করতে পারলে ভালো কিছু করা সম্ভব।’

মোসাদ্দেকের বিরুদ্ধে একটি ‘অভিযোগ’ রয়েছে- পেসারদের বিপক্ষে খুব একটা ভালো করতে পারেন না তিনি। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘আমি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে হয়ত ২৫-২৬টা ম্যাচ খেলেছি। এরমধ্যে তিন থেকে চারটা শুধু দেশের মাটিতে খেলেছি। বাকি সব ম্যাচ দেশের বাইরে। দেশের বাইরে যাদের বিপক্ষে খেলেছি, ওখানে স্পিনার বলতে নাই আসলে। সব পেস কন্ডিশন। এখন আপনারাই ভালো বলতে পারবেন কী পরিস্থিতি ছিল বা কী কন্ডিশন ছিল।’

মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমি পেস বলে ভালো না স্পিন বলে ভালো। সেটা হয়ত সময়ই বলে দেবে।

সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে একটু যেন দ্রোহের ইঙ্গিতও দিলেন স্বল্পভাষী মোসাদ্দেক। তিনি বলেন, ‘কথা দিয়ে যদি ক্রিকেট খেলা যেত তাহলে তো ভালোই হত। কথা দিয়ে ক্রিকেট হয় না। ক্রিকেটটা মাঠেই খেলতে হয়। যদি আমি চিন্তা করি অনেক কিছুই করে ফেলব তাহলে এটার ফলাফল কিছুই আসবে না। আমি যদি চিন্তা করি আমি আমার জায়গাতে থাকব, আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে হয়ত এখান থেকে অনেক ভালো কিছু করতে পারব।’

টি-২০ র‍্যাংকিংয়ে আফগানরা এগিয়ে আছে বাংলাদেশের চেয়েও। তাদের দল নিয়ে তাই বিশদ কাঁটাছেঁড়াই করতে হচ্ছে টাইগারদেরকে। আফগানদের বোলিংকে ভয়ঙ্কর হিসেবে মেনে নিলেও তাদের ব্যাটিং নিয়ে তেমন দুশ্চিন্তা নেই মোসাদ্দেকের, ‘আইপিএলে তাদের (আফগান) ব্যাটসম্যানরা কেউ খেলছে না, বোলাররা খেলছে। আমরা যদি ভাবি, ওদের ব্যাটসম্যানরা এবি ডি ভিলিয়ার্স বা বিরাট কোহলির মতো মারবে তাহলে ভুল চিন্তা হবে।’

মোসাদ্দেকের মতে, আফগানিস্তানের দুর্বলতা অনুযায়ী নিজেদের সামর্থ্য প্রয়োগ করলেও সাফল্যের দেখা পাবে বাংলাদেশ, ‘ওদের সঙ্গে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, ওদের দুর্বলতা জানি। আমাদের কাজ হবে, ওদের শক্তি আর দুর্বল জায়গা খুঁজে বল করা।’

অন্য সবার মতো মোসাদ্দেকও দুই আফগান বোলার রশিদ খান ও মুজিব উর রহমানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘ওদের দুইজন স্পিনার আছে, তারা খুব ভালো। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারা খুব সফল বোলার। আমরা যদি চিন্তা করি যে, (ওদের বিপক্ষে) অনেক রান করে ফেলব, অনেক কিছু করে ফেলব, অনেক অ্যাটাকে যাব সেটা ভুল হবে। আবার অতিরিক্ত রক্ষণে যাওয়াও ভুল হবে। তারা আইপিলে খুব ভালো বল করছে। আইপিএলে যাদের বিপক্ষে বল সেখানে হয়তো সফল হচ্ছে। আমাদের বিপক্ষে তারা যে বল করবে আমরা যেন তা ভালোভাবে সামলাতে পারি। ওদের নিয়ে চিন্তা না করে নিজেদের উপর নজর রাখা উচিত, নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস রাখা উচিত।’

আরও পড়ুনঃ দিল্লির দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে থমকে গেলো মুম্বাই

Related Articles

টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পেলেন রাহী, শান্ত

বাদ পড়লেন তাহির-মরিস

ওয়ানডে র‍্যাংকিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার অবনমন

বল টেম্পারিং: চান্দিমালকে অভিযুক্ত করল আইসিসি

রাইডুর দুর্ভাগ্যে কপাল খুলল রায়নার