SCORE

সর্বশেষ

রশিদ-সাকিবে ভর করে ফাইনালে হায়দরাবাদ

রশিদ খান আর সাকিব আল হাসানের ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের সুবাদে আইপিএলের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দুজনের দুর্দান্ত অলরাউন্ডিং নৈপুণ্য সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে এনে দিয়েছে ১৪ রানের জয়। 

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দলের ইনিংস সূচনা করতে নামেন শিখর ধাওয়ান এবং ঋদ্ধিমান সাহা। দুজন মিলে দলকে গড়ে দেন ৫৬ রানের শক্ত ভিত। অষ্টম ওভারে তাদের জুটি ভাঙেন কুলদীপ যাদব। ৪ চার এবং ১ ছক্কায় ২৪ বলে ৩৪ রান করেন শিখর ধাওয়ান। কুলদীপের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ঐ ওভারে কুলদীপ কেন উইলিয়ামসনের উইকেটও শিকার করেন।

চার নম্বরে ব্যাটিং করতে আসেন সাকিব আল হাসান। ঋদ্ধিমান সাহাকে নিয়ে যোগ করেন ২৪ রান। পিযূষ চাওলার বলে ঋদ্ধিমান সাহা স্টাম্পিং হলে এ জুটি ভাঙে। ৫ চারে ২৭ বলে ৩৫ রান করেন তিনি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের রানের গতিটাও কমিয়ে আনেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলাররা। দীপক হুদাকে নিয়ে সাকিব আল হাসান গড়েন ২৯ রানের জুটি। ৪ চারে সাজানো ২৪ বলে ২৮ রানের ইনিংস খেলে রান আউট হন সাকিব।

Also Read - নতুন মিশনে ওয়ালশের জ্বালানী নিদাহাস ট্রফি

পরের ওভারে দীপক হুদাও বিদায় নেন। ১৯ বলে ১৯ রান করে হন সুনিল নারাইনের শিকার। এসেই ছক্কা হাঁকিয়ে ঝড়ের আভাস দিয়েছিলেন কার্লোস ব্র‍্যাথওয়েট। কিন্তু ৪ বলে ৮ রান করে তিনি রান আউট হয়ে গেলে তা আর হয়নি। পরের ওভারে শিভাম মাভি ফিরিয়ে দেন ইউসুফ পাঠানকে (৭ বলে ৩)। টানা দুই ওভারে পাঠান আর ব্র‍্যাথওয়েট ফিরে গেলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বড় স্কোরের সম্ভাবনা একদম কমে যায়।

কিন্তু শেষে এসে ঝলক দেখান রশিদ খান। শেষ দুই ওভারে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ সংগ্রহ করে ৩৬ রান। দুই চার আর চার ছক্কায় ১০ বলে ৩৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রশিদ। তার খুনে মেজাজের এই ইনিংস সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে এনে দেয় ১৭৪ রানের বড় পুঁজি। রশিদ খানের স্ট্রাইক রেট ছিল ৩৪০.০০।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে দুইটি উইকেট নেন কুলদীপ। একটি করে উইকেট পান শিভাম, চাওলা এবং নারাইন।

১৭৫ রানের জবাবে শুরুতেই আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের দুই ওপেনার ক্রিস লিন এবং সুনিল নারাইন। চার-ছক্কার ফোয়ারা ছোটান দুই ব্যাটসম্যান। একের পর এক বাউন্ডারিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের রান বাড়ছিল দ্রুতগতিতে। প্রথম তিন ওভারেই কলকাতা নাইট রাইডার্স সংগ্রহ করে বিনা উইকেটে ৩৮।

চতুর্থ ওভারে এ জুটি ভেঙে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে স্বস্তি দেন সিদ্ধার্থ কাউল। কাউলের স্লোয়ারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সুনিল নারাইন ধরা পড়েন কার্লোস ব্র‍্যাথওয়েটের হাতে। ৪ চার আর ১ ছক্কায় ১৩ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন নারাইন।

নেমেই ঝড় তোলেন নিতিশ রানা। খলিল আহমেদের এক ওভারে হাঁকান দুই ছয়। অপর প্রান্তে থাকা ক্রিস লিনের ব্যাট থেকেও আসছিল চার-ছক্কার মার। পাওয়ারপ্লে’তে কলকাতা নাইট রাইডার্সের রান ছিল এক উইকেটে ৬৭। নিতিশ রানা এবং ক্রিস লিন যোগ করেন ৪৭ রান।

নবম ওভারে বোলিংয়ে আনা হয় সাকিবকে। তার দ্বিতীয় বলেই রিভার্স সুইপ করে চার মারেন নিতিশ রানা। পরের বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন রানা। দলীয় ৮৭ রানের মাথায় ঘটে দ্বিতীয় উইকেটের পতন। ১ চার ও ২ ছক্কার সাহায্যে ১৬ বলে ২২ রান করেন এ ব্যাটসম্যান। প্রথম ওভারে ৭ রান দেন সাকিব।

নিতিশ রানার বিদায়ের পর মাঠে নামেন রবিন উথাপ্পা। কিন্তু বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তিনি। রশিদ খানের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান উথাপ্পা। ৮ বলে করেন ২ রান। 

দ্বাদশ ওভারে আবারো আক্রমণে আনা হয় সাকিব আল হাসানকে। ঐ ওভারের শেষ বলে সাকিব বোল্ড করেন দীনেশ কার্তিককে। পরের ওভারেই এক প্রান্ত আগলে রাখা ক্রিস লিনকে এলবিডব্লিউ করেন রশিদ। ৩১ বলে ৪৮ রান করে সাজঘরে ফিরেন লিন। তার ইনিংসে ছিল ৬ চার ও ২ ছক্কা।

নিজের পরের ওভারে আবার আঘাত হানেন রশিদ। তার বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান আন্দ্রে রাসেল। ১ উইকেটে ৮৭ থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে যায় ছয় উইকেটে ১১৮। শুভমান গিলকে নিয়ে হাল ধরেন পিযূষ চাওলা। তবে বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে বোলিং করে তাদের আটকে রাখে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বোলাররা।

শেষ দুই ওভারে ফাইনালে যেতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রয়োজন ছিল আরও ৩০ রান। ঊনিশতম ওভারের প্রথম বলে এসেই চাওলাকে বোল্ড করেন কাউল। ঐ ওভারের শেষ বলে শুভমান গিলের ছক্কার সুবাদে ১১ রান করে কলকাতা নাইট রাইডার্স। কার্লোস ব্র‍্যাথওয়েটকে আনা হয় শেষ ওভারে। প্রথম বলেই শিভাম মাভি চার মেরে জমিয়ে তোলেন ম্যাচ। পরের বলেই তুলে মারতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে রশিদের হাতে  ক্যাচ দেন মাভি। পরের বলে ফিরে যান শুভমান গিলও। আর এতেই যেন নিভে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্সের শেষ আশার প্রদীপ। শেষ তিন বল থেকে কুলদীপ কোনো রান না নিতে পারলে ১৪ রানের জয় পায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ।

১৯ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নিয়ে সেরা বোলার রশিদ। তিন ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে এক উইকেট নেন সাকিব। দুইটি করে উইকেট নেন কাউল আর ব্র‍্যাথওয়েট।

স্কোরকার্ড-

Related Articles

ইয়ো ইয়ো টেস্টে বাদ পড়লেন ভারতের স্টার ক্রিকেটার

কোহলি নন, মোহাম্মদ নবীর প্রিয় ডি ভিলিয়ার্স

পরিবারের সান্নিধ্যে ঈদ, তবু মুস্তাফিজের আক্ষেপ

ভাগ্যকেই দোষারোপ করছেন মুস্তাফিজ

ঈদের পর অনুশীলন শুরু করবেন মুস্তাফিজ