SCORE

সর্বশেষ

অভিজ্ঞ ও ইংলিশ বলেই এগিয়ে রোডস

বাংলাদেশ জাতীয় দলের কাঙ্ক্ষিত কোচ হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস। মঙ্গলবার বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন জানান, কেন অন্য কোচদের চেয়ে রোডসকেই বেশি পছন্দ তাদের।

অভিজ্ঞ ও ইংলিশ বলেই এগিয়ে রোডস
স্টিভ রোডস। ছবি: জনাথন ব্যারি

সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিসিবি সিইও জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে এসে বোর্ডের কর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন রোডস। বোর্ডের সাথে তার সাক্ষাতের পরই বোঝা যাবে কবে তিনি সাকিব-তামিমদের গুরুর দায়িত্ব নিচ্ছেন, বা আদৌ নিচ্ছেন কি না।

নিজামউদ্দিন বলেন-

Also Read - ত্রিদেশীয় সিরিজ বয়কটের হুমকি জিম্বাবুয়ের

‘স্টিভ রোডস আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। আমরা আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে তিনি এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। আপনারা আগেও দেখেছেন রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স যেভাবে এসেছিলেন তিনিও সে প্রক্রিয়ায় দেখা করবেন।’

এখনও কোনো জাতীয় দলকে কোচিং না করালেও কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতা খারাপ নয় রোডসের। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার। শেষপর্যন্ত তিনি চন্ডিকা হাথুরুসিংহের উত্তরসূরি হলে অভিজ্ঞতাই হবে বড় প্রভাবক। অভিজ্ঞতা আর প্রাপ্যতার মতো যৌথ যোগ্যতাই রোডসকে নিয়ে এসেছে আলোচনায়।

নিজামউদ্দিন চৌধুরীর ভাষ্য, ‘আমরা অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমরা প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন কোচের সাথে কথা বলেছি, যাদের বড় নাম ও অভিজ্ঞতা দুটোই ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে হয়তো উনারা অ্যাভেইলেবল ছিলেন না, বা ফ্যামিলি কমিটমেন্টের কারণে হয়তো উনারা আসতে পারেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ মুহুর্তে যে কয়জন অ্যাভেইলেবল কোচ পাওয়া গেছে তার মধ্যে সে অভিজ্ঞদের একজন। মূলত আমরা অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।’

শুধু অভিজ্ঞতা নয়, রোডসের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে আগামী বিশ্বকাপও। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে বসবে বিশ্বকাপের আগামী আসর, যেখানে অনেকের মতেই বাংলাদেশ ফেভারিট হিসেবে অংশ নেবে। বিশ্বকাপের দেশের কোচ নিয়োগ করা হলে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পাওয়া যেতে পারে বড় সুবিধা। সেদিকে ইঙ্গিত করে বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘আপনারা জানেন, আগামী বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হবে। এজন্য এটাও বিবেচ্য বিষয়। ঐ ধরনের কন্ডিশনের কাউকে যদি দলের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।’

চন্ডিকা হাথুরুসিংহে বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে শ্রীলঙ্কার দায়িত্ব নিয়ে পাকাপোক্ত করেছেন তার অবস্থান। এখনও বাংলাদেশ রয়ে গেছে হেডকোচবিহীনই। সেই শূন্যতা থেকে রোডসকে পাওয়ার ক্ষেত্রে মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা কোচ গ্যারি কারস্টেন, যিনি কদিন আগে বাংলাদেশ নাড়িয়ে গেছেন কোচ খোঁজার অভিপ্রায়ে।

সাংবাদিকদের নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘বেশ কিছু দিন থেকেই আমাদের কোচিং স্টাফে স্বল্পতা ছিল। আমাদের কাছে যে তালিকা ছিল সেটা আমরা গ্যারি কারস্টেনকে দিয়েছি এবং উনি সেটা নিয়েই কাজ করেছেন। বলা যায় এটা একটা যৌথ চেষ্টা।’

ইতিপূর্বে বিভিন্ন কোচের নিয়োগের ব্যাপারে বোর্ড কর্তৃক অনেকটা নিশ্চিত হয়েও শেষমেশ হাতছাড়া হওয়ার ব্যাপারটি এখন ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণই। সেটি হয়ে থাকলে চলমান আফগানিস্তান সিরিজের পর টাইগারদের পরবর্তী মিশন উইন্ডিজ সফরেই বাংলাদেশ দলের হেড কোচের আসনে দেখা যাবে স্টিভ রোডসকে।

খেলোয়াড়ি জীবনে রোডস অবশ্য খুব একটা সফল হতে পারেননি। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাত্র ১১টি টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডেতে। ছিলেন মূলত ব্যাটসম্যান, তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও বোলিং করা হয়নি তার। ব্যাটিং পরিসংখ্যানও আহামরি নয়। দুই ফরম্যাট মিলিয়ে অর্ধ-শতক আছে সাকুল্যে দুটি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অবশ্য উইকেটরক্ষণটাও পারতেন রোডস। ৫৩ বছর বয়সী এই কোচ খেলেছিলেন উস্টারশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের হয়েও। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০০৪ সালে উস্টারশায়ারে কোচের ভূমিকায় নিযুক্ত হন। এরপর ‘ডিরেক্টর অব ক্রিকেট’ পদেও কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়।

গ্যারি কারস্টেন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বা ফরম্যাটে পৃথক কোচ নিয়োগের যে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন সেই চিন্তা-ভাবনা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি। বরং স্টিভ রোডসকেই এখন ‘একমাত্র’ প্রধান কোচের আসনে দেখতে চাচ্ছেন বোর্ডের কর্তারা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে পা রাখতে পারেন এই ইংলিশ কোচ, দায়িত্ব নিতে পারেন উইন্ডিজ সফরের দলেরও।

আরও পড়ুন:হাথুরুসিংহের উত্তরসূরি হচ্ছেন স্টিভ রোডস!

Related Articles

আত্মবিশ্বাসই মুশফিকের জ্বালানী

পাল্টাচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটের যেসব নিয়ম

“সত্যি কথা, আমি ভেঙে পড়িনি”

আইসিসি বিশ্বকাপ ২০১৯-এর প্রোমোতে বিসিএসএ

‘আন্ডারডগ’ নয় পাকিস্তান?