SCORE

সর্বশেষ

মুশফিকের কাঠগড়ায় ভেন্যুর ‘নতুনত্ব’

আইসিসির টি-২০ র‍্যাংকিংয়ে আফগানিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে আছে- এ কথা সত্যি। তবুও দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া মেনে নেওয়ার মতো নয়। ক্রিকেটীয় ইতিহাস, অভিজ্ঞতা বা পরিসংখ্যান যে বাংলাদেশের জয়জয়কার শোনায়!

বাংলাদেশ-আফগানিস্তান মুশফিক
ছবি: আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

আগের দুটি ম্যাচের পরাজয়ের গ্লানি ভুলে সিরিজের শেষ ম্যাচে দারুণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ১৪৬ রানের লক্ষ্যে শুরুতে খেই হারালেও শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল মুশফিক আর রিয়াদের কল্যাণে। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে হয়েছে ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে।

এই ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন মুশফিকুর রহিম। দল হারলেও পেয়েছেন ম্যাচ-সেরার খেতাব। ৩৮ বলের মোকাবেলায় তিনটি চার আর দুটি ছক্কায় ৪৫ রান করে থেমেছেন। তার ইনিংসে দলও পেয়েছিল জয়ের আশা। শেষদিকে এক ওভারে টানা পাঁচটি চার হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন মুশফিক। তবে শেষ পর্যন্ত রশিদ খানের শিকার হয়ে তার নেওয়া বিদায় থেকেছে ম্যাচের পরাজয়ের সাক্ষী হয়েই।

Also Read - 'টি-২০ ক্রিকেটে এমনটা হতে পারে'

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আলাপকালে মুশফিক বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের এমন নজিরবিহীন ব্যর্থতার জন্য দায়ী করেন দেরাদুনের নতুন ভেন্যুর অচেনা পরিবেশ আর উইকেটকে। আফগানিস্তানের এই হোম সিরিজের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজক হয়েছে দেরাদুনের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম। এই ভেন্যু তাই বাংলাদেশের কাছে ছিল সম্পূর্ণ অপরিচিত। মুশফিক তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল আনতে না পারার কারণ হিসেবে দেখছেন দেরাদুনের অচেনা পরিবেশকে।

মুশফিক বলেন,

‘নতুন পরিবেশ, নতুন পিচ, নতুন মাঠ… আশা করি পরেরবার আসলে আমরা ভালো করতে পারবো।’

অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের চোখে ১৪৬ রানের লক্ষ্য ছিল তাড়া করার মতোই। যদিও বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে বেশ সময় কাটানো মুশফিকের দৃষ্টি ভিন্ন। তার মতে, উইকেট বিবেচনায় এই লক্ষ্য ছিল বড়। সেই সাথে তিনি শেষ ওভারগুলোতে দেখছেন রানের কমতি। এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান বলেন, ‘আমরা জানতাম এমন উইকেটে এই রান তাড়া করা কঠিন হবে। আমি মনে করি শেষ ২ ওভারে ২-৩ রান কম হওয়ায় আমরা পিছিয়ে গেছি। ১৯তম ওভারে ২০ রানের বেশি আসা অপ্রত্যাশিত ব্যাপার। আফগানদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তারা দারুণ খেলেছে।’

এর আগেও অনেক ক্লোজ ম্যাচে হেরেছে বাংলাদেশ, যেখানে ব্যাট হাতে ক্রিজে ছিলেন মুশফিক। তবুও নতুন এই পরাজয়ও যথারীতি কষ্টদায়ক মুশফিকের কাছে। আর তাই হয়ত আশাবাদ জানিয়ে রাখলেন দেরাদুনে পরের সফরে ভালো করার। মুশফিকের ভাষ্য, ‘আপনি যখন ১ রানের ব্যবধানে হারবেন এটা অবশ্যই কষ্টদায়ক। আমরা আগেই সিরিজ হারলেও এই ম্যাচে জিততে পারতাম, সেটা হল না। আগামীবার এখানে আসলে ইনশাআল্লাহ্‌ আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারবো এবং আমিও ভালো করবো।’

১৪৬ রানের লক্ষ্য কেন মুশফিকের চোখে বড়, তার যুক্তি অবশ্য দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তার মতে, এমন উইকেটে আফগানিস্তানের দুর্দান্ত বোলিং লাইনআপের বিপক্ষে ১৪৫ রানের পুঁজি টপকানো কঠিন কাজই। মুশফিক বলেন, ‘যখন আপনার বিপক্ষে আফগানিস্তানের নবী-রশিদ-মুজিবের মতো বোলার আছে তখন ১৪৫-এর বেশি তারা করা বড় লক্ষ্য।’

তবে শুধু নিজেদের ব্যর্থতাই নয়, মুশফিক কৃতিত্ব দিচ্ছেন আফগান ক্রিকেটারদেরও। তিনি বলেন, ‘তারা তাদের কাজটুকু ভালো করে করতে পেরেছে। পুরো সিরিজেই ব্যাটিং-বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে ভালো করেছে।’

৫৩ রানেই ৪ উইকেট হারানোর পর চাপ সামলে পঞ্চম উইকেটে গড়ে ওঠা মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৮৪ রানের জুটি বাংলাদেশকে দেখিয়েছিল জয়ের স্বপ্ন। মুশফিক জানালেন,  দুজনে মিলে পরিকল্পনা করেই নেমেছিলেন এই দুর্দান্ত জুটি গড়তে, ‘দ্রুত কিছু উইকেট হারাই আমরা, সাকিবকেও হারাই। আমরা জানতাম বড় একটা পার্টনারশিপ লাগবে। আমরা আরও অবদান রাখতে চেয়েছিলাম, তবে শেষদিকে উইকেট পক্ষে ছিল না। শেষ ওভারে রশিদ খানকে মোকাবেলা করা সহজ কাজ নয়।’

আরও পড়ুনঃ হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় শেষ দেরাদুন সফর

Related Articles

স্ট্রাইকিং প্রান্তে শুরু করতেই ভালোবাসেন তামিম

“খেলায় আপস অ্যান্ড ডাউনস থাকবেই”

আলোচিত ব্যাঙ্গালোর টেস্টে যত রেকর্ড

আফগানদের পরাজয়ে প্রোটিয়াদের স্বস্তি!

দু’দিনেই শেষ ব্যাঙ্গালোর টেস্ট