SCORE

সর্বশেষ

রোডসই হলেন প্রধান কোচ

অনেক জল্পনা কল্পনার পর বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার স্টিভ রোডস। দুই বছরের চুক্তিতে টাইগারদের প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন এই সাবেক উইকেটরক্ষক। দীর্ঘ আট মাস পর নতুন হেডকোচের দেখা পেল বাংলাদেশ জাতীয় দল ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ( বিসিবি )।

সাকিবের পরিচিত রোডস!
ছবিঃ গেটি ইমেজেস

 

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় আসেন তিনি। দুপুরে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সাথে বৈঠক করেন। সাবেক এই উইকেট-রক্ষক ব্যাটসম্যান বর্তমানে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সিলেকশন স্কাউট হিসেবে কাজ করছেন।

Also Read - ‘সমর্থন দিন, গালি দিয়েন না’

ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা কোচ গ্যারি কারস্টেনের সূত্র ধরেই রোডস এসেছেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশ দলের সাথে যোগ দিবেন ২০ জুন থেকে। তাঁর মানে আসন্ন উইন্ডিজ সফর হবে রোডসের প্রথম এসাইনমেন্ট।

এর আগে ৫ই জুন সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে বিসিবি সিইও জানান, আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে এসে বোর্ডের কর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন রোডস। বোর্ডের সাথে তার সাক্ষাতের পরই বোঝা যাবে কবে তিনি সাকিব-তামিমদের গুরুর দায়িত্ব নিচ্ছেন, বা আদৌ নিচ্ছেন কি না।

নিজামউদ্দিন বলেন, ‘স্টিভ রোডস আমাদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন। আমরা আশা করছি দুই-তিন দিনের মধ্যে তিনি এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। আপনারা আগেও দেখেছেন রিচার্ড পাইবাস ও ফিল সিমন্স যেভাবে এসেছিলেন তিনিও সে প্রক্রিয়ায় দেখা করবেন।’

এখনও কোনো জাতীয় দলকে কোচিং না করালেও কোচ হিসেবে অভিজ্ঞতা খারাপ নয় রোডসের। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে সুযোগ করে দিয়েছে বাংলাদেশের কোচ হওয়ার। অভিজ্ঞতা আর প্রাপ্যতার মতো যৌথ যোগ্যতাই রোডসকে নিয়ে এসেছে আলোচনায়।

নিজামউদ্দিন চৌধুরীর জানিয়েছিলেন, ‘আমরা অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমরা প্রাথমিকভাবে বেশ কয়েকজন কোচের সাথে কথা বলেছি, যাদের বড় নাম ও অভিজ্ঞতা দুটোই ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে হয়তো উনারা অ্যাভেইলেবল ছিলেন না, বা ফ্যামিলি কমিটমেন্টের কারণে হয়তো উনারা আসতে পারেননি।’

শুধু অভিজ্ঞতা নয়, রোডসের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে আগামী বিশ্বকাপও। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডে বসবে বিশ্বকাপের আগামী আসর, যেখানে অনেকের মতেই বাংলাদেশ ফেভারিট হিসেবে অংশ নেবে। বিশ্বকাপের দেশের কোচ নিয়োগ করা হলে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে পাওয়া যেতে পারে বারতি কিছু সুবিধা। সেদিকে ইঙ্গিত করে বিসিবির প্রধান নির্বাহী জানান, ‘আপনারা জানেন, আগামী বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে হবে। এজন্য এটাও বিবেচ্য বিষয়। ঐ ধরনের কন্ডিশনের কাউকে যদি দলের সাথে সম্পৃক্ত করা যায় তাহলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।’

খেলোয়াড়ি জীবনে রোডস অবশ্য খুব একটা সফল হতে পারেননি। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মাত্র ১১টি টেস্ট ও ৯টি ওয়ানডেতে। ছিলেন মূলত ব্যাটসম্যান, তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও বোলিং করা হয়নি তার। ব্যাটিং পরিসংখ্যানও আহামরি নয়। দুই ফরম্যাট মিলিয়ে অর্ধ-শতক আছে সাকুল্যে দুটি। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি অবশ্য উইকেটরক্ষণটাও পারতেন রোডস। ৫৩ বছর বয়সী এই কোচ খেলেছিলেন উস্টারশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের হয়েও। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০০৪ সালে উস্টারশায়ারে কোচের ভূমিকায় নিযুক্ত হন। এরপর ‘ডিরেক্টর অব ক্রিকেট’ পদেও কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়।

গ্যারি কারস্টেন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বা ফরম্যাটে পৃথক কোচ নিয়োগের যে বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন সেই চিন্তা-ভাবনা থেকে অনেকটাই সরে এসেছে দেশের ক্রিকেটের অভিভাবক বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড- বিসিবি। বরং স্টিভ রোডসকেই এখন তিন ফরম্যাটের জন্য একমাত্র প্রধান কোচের নিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে আফগানিস্তান সিরিজই তাই হতে যাচ্ছে পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট!

বাংলাদেশ দলের একমাত্র সাকিব আল হাসানের সাথেই পরিচয় আছে রোডসের। ২০০৯ সালে এই সাকিবকে দলে ভেড়ান তখনকার উস্টারশায়ার কাউন্টি ক্লাবের ক্রিকেট পরিচালক। অবশ্য বাংলাদেশ অধিনায়কের চেয়েও রোডসকে বেছে নেওয়ার কৃতিত্ব বেশি চাপবে সাবেক ভারতীয় কোচ গ্যারি কারস্টেনের কাঁধে।

আরো পড়ুনঃ পদত্যাগ করলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধান কোচ হেসন

 

Related Articles

উইন্ডিজ সফরেও নেই মুস্তাফিজ

ছুটি কমেছে টাইগারদের

নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন মুমিনুল

আফগান সিরিজের দল ঘোষণা ২০ মে

বাংলাদেশের উইন্ডিজ সফরের চূড়ান্ত সূচি