অচেনা কন্ডিশনে স্বপ্নপূরণের আশায় নিউজিল্যান্ড

0
490

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলবে নিউজিল্যান্ড। এবারই প্রথম ঝুলিতে একটি আইসিসি ট্রফি নিয়ে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট শুরু করবে কিউইরা। এবছরই আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে তারা।

অচেনা কন্ডিশনে স্বপ্নপূরণের আশায় নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। ছবিঃ গেটি ইমেজস

এবারের বিশ্বকাপে বেশ আত্মবিশ্বাস নিয়েই নামবে নিউজিল্যান্ড। আগে প্রায় সব আইসিসি টুর্নামেন্টেই কিউইদের হৃদয়ভঙ্গের গল্প থাকতো, শেষ মুহুর্তে ম্যাচ হেরে যাওয়া, আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাসহ আরও অনেক কিছুই দেখতে হয়েছে কিউইদের। তবে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-২ এ হেরেছে তারা। যেখানে তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের কোনো সদস্যই ছিলেন না।

Advertisment

দলে সবচেয়ে বড় ভরসার নাম সন্দেহাতীতভাবেই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ঠান্ডা মাথার অধিনায়কত্বের সাথে ব্যাট হাতে দলকে বহু ম্যাচ জিতিয়েছেন তিনি। বড় ম্যাচেও নিজের জাত চেনাচ্ছেন হরহামেশাই। দলের ব্যাটিংয়ে সবচেয়ে বড় আস্থার নাম তাই অবশ্যই উইলিয়ামসন।

সেই সাথে ওপেনিংয়ে বিস্ফোরক ব্যাটার মার্টিন গাপটিল দলকে এনে দিতে পারেন উড়ন্ত সূচনা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটিং দলের জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পাওয়ারপ্লের কার্যকরী ব্যবহার। গাপটিলের মত ব্যাটার থাকতে তাই কিউইদের এ জায়গায় তেমন কোনো দুশ্চিন্তা করার প্রয়োজন নেই।

তাছাড়া আরেক তরুণ ব্যাটার ডেভন কনওয়েও থাকবেন ব্যাট হাতে ঝড় তোলার জন্য। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে প্রায় ৬০(৫৯.১২) এর গড় নিঃসন্দেহে কনওয়েকে দেবে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। নিজের ব্যাটিং দক্ষতা, প্রতিভা এসব বিশ্বকাপের মঞ্চে তুলে ধরতে পারলে তাই দারুণ কিছু করার সুযোগ কনওয়ের সামনে।

দলের পেস বোলিং বরাবরের মতই দুর্দান্ত। অভিজ্ঞ ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদিদের পাশাপাশি কাইল জেমিসনও থাকবেন পেস আক্রমণে। বোল্টের সাম্প্রতিক ফর্ম কিছুটা দুশ্চিন্তা জাগানিয়া হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি জ্বলে উঠবেন বলেই আশা করা যাচ্ছে। তাছাড়া আরেক পেসার লকি ফার্গুসন প্রস্তুত থাকবেন গতির ঝড় তোলার জন্য। তার গতি দিয়েই ব্যাটারদেরকে পরাস্ত করার সক্ষমতা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করবে কিউইদের জন্য।

স্পিন আক্রমণে ইশ সোধি এবং মিচেল স্যান্টনারই থাকবেন মূল ভরসা হয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে স্পিনারদের জন্য কিছুটা হলেও সহযোগিতা থাকবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে। ফলে অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার সোধি কার্যকরী হতে পারেন এধরণের কন্ডিশনে। সেই সাথে মিচেল স্যান্টনারও বেশ কার্যকরী হতে পারনে বল হাতে। ২০১৬ সালের আসরে ভারতে তরুণ স্যান্টনার আর সোধিতে ভর করেই সেমিফাইনালে উঠে সবাইকে চমকে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। এবারও এশিয়াতে বিশ্বকাপ হওয়ায় সেই স্মৃতি কিছুটা হলেও ফিরে আসলেও আসতে পারে।

তবে দুশ্চিন্তার কিছু জায়গাও আছে। টি-তোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য উপযোগী কোনো বিস্ফোরক অলরাউন্ডার দলে নেই। আন্দ্রে রাসেল, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল কিংবা হার্দিক পান্ডিয়াদের মত দ্রুত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে সক্ষম কোনো অলরাউন্ডার নেই কিউইদের স্কোয়াডে। ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশামরা থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারা কিছুটা অনভিজ্ঞই বটে। তাছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে পেসারদের জন্য সহযোগিতা কিছুটা কম থাকবে বলেই ধারণা করা যাচ্ছে। তাই বোল্ট, সাউদি, ফার্গুসনরা বিশ্বকাপে কেমন পারফরম্যান্স করেন সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

কিউইদের স্কোয়াডে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উপযোগী পাওয়ার হিটারের সংখ্যা কিছুটা কম হলেও সেই অভাব ঘুচিয়ে দিতে সক্ষম উইলিয়ামসন, কনওয়েদের মত দক্ষ, প্রতিভাবান ব্যাটাররা। তাছাড়া স্পিনশক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষদেরকে ঘায়েল করতে পারলে এই বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করে ফেলতেও পারে নিউজিল্যান্ড। খেলাটা তো টি-টোয়েন্টি, আগে থেকে তাই কিছু বলে দেওয়া যাচ্ছে না।

এবারের বিশ্বকাপে সরাসরি সুপার টুয়েলভে খেলবে নিউজিল্যান্ড। গ্রুপ ২ এ তাদের প্রতিপক্ষ ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং প্রাথমিক পর্ব পেরিয়ে আসা দুইটি দল। প্রতিপক্ষ তিনটি দলই যেহেতু উপমহাদেশের তাই তাদেরকে টপকে সেমিফাইনালে যাওয়াটা বেশ কঠিনই হতে যাচ্ছে কিউইদের জন্য। উপমহাদেশের দলগুলো স্বাভাবিকভাবেই স্পিন দিয়ে চেপে ধরতে চাইবে কিউইদের। কিউই ব্যাটাররা সেই স্পিন ভালোভাবে সামলাতে পারলেই তাদের বিশ্বকাপে ভালো করার সম্ভাবনা বাড়বে। তাছাড়া কিউইরা নিজেদের স্পিন শক্তি দিয়েও ঘায়েল করেয়ার সুযোগ পাবে প্রতিপক্ষদের। সেজন্য প্রয়োজনের সময় জ্বলে উঠতে হবে কিউই স্পিনারদেরকেও।

অচেনা কন্ডিশনে স্বপ্নপূরণের আশায় নিউজিল্যান্ড
কেন উইলিয়ামসন। ফাইল ছবি

আবারো একটি কথা বলতেই হচ্ছে, বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হতে যাচ্ছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। তার নেতৃত্বগুণের কথা প্রায় সবারই জানা। একটি মোটামুটি মানের দলকেও একত্রিত করে সকলের থেকে সেরা পারফরম্যান্সটা বের করে আনতে জানেন তিনি। অধিনায়ক উইলিয়ামসন তাই এশিয়ার অচেনা কন্ডিশনেও কিউইদেরকে এনে দিতে পারেন অধরা বিশ্বকাপের শিরোপাটা।

আগামী ২৬ অক্টোবর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামবে নিউজিল্যান্ড, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান।

 

 

 

 

একনজরে নিউজিল্যান্ড স্কোয়াডঃ কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), টড অ্যাস্টল, ট্রেন্ট বোল্ট, মার্ক চ্যাপম্যান, ডেভন কনওয়ে, মার্টিন গাপটিল, লকি ফার্গুসন, কাইল জেমিসন, ড্যারিল মিচেল, জিমি নিশাম, গ্লেন ফিলিপস, মিচেল স্যান্টনার, টিম সাইফার্ট (উইকেটরক্ষক), ইশ সোধি, অ্যাডাম মিলনে।

 

 

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপবাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটিঅথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানেভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন