Scores

অধিনায়ক হিসেবে সব দায়ভার নিয়ে কাঁদলেন স্মিথ

এক বিষন্ন ভারাক্রান্ত স্টিভ স্মিথ ২৯শে মার্চ বৃহস্পতিবার কেপ টাউনে ঘটে যাওয়া বল টেম্পারিং এর সকল দায়ভার নিয়েছেন। এসময় বেশ কয়েকবার তিনি আবেগি হয়ে পড়েন। সিডনিতে নেমে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমার সকল খেলোয়াড় বন্ধু, আমার ভক্ত , অস্ট্রেলিয়ার সকল নাগরিক ও বিশ্বের সকল ক্রিকেট ফ্যান যারা অনেক ব্যাথিত ও রেগে আছেন তাদের কাছে আমি দুঃখিত। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যেই সবকিছু পরিষ্কার করেছে। তারপরও অধিনায়ক হিসেবে কেপটাউনে ঘটে যাওয়া সবকিছুর দায়ভার আমি নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছি।’

Also Read - ক্ষমা চাইলেন ব্যানক্রফট


তিনি যোগ করেন, ‘আমি আমার ভুল শুধরানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব। এখান থেকে যদি ভালো কিছু আসে তবে সেটা হলো অন্যদের জন্য শিক্ষা। আমি আমার বাকিজীবন এটার জন্য আফসোস করে যাব। আমি আশা করি এই সময় আমি আবার শ্রদ্ধা ও ক্ষমা পাব সকলের থেকে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি।’

কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে স্মিথ বলেন, ‘ক্রিকেট বিশ্বসেরা খেলা। এটা আমার জীবন ও সকল আশা ভরসা। আসলে আমি খুবই বিমর্ষ ও দুঃখিত।’

অন্য কোনো সময় অস্ট্রেলিয়া দলে এমন হয়েছে কি না জানতে চাইলে স্মিথ জানান, ‘আমার জানামতে এটা আগে কখনই হয় নি। এটাই প্রথমবার এবং আমি কথা দিতে পারি এটা আর হবে না। আমি কাউকে দোষ দিতে চাইনা। আমি অধিনায়ক ছিলাম এবং শনিবার কেপটাউনে যা হয়েছে তার সব দায়ভার আমি নিচ্ছি।’

এর আগে ব্যানক্রফটও ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আমি স্যান্ডপেপারের বিষয়ে মিথ্যা বলেছিলাম। ওই সময়টায় আমি অনেক আতঙ্কে ছিলাম। এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং খুবই লজ্জিত এই ধরণের ঘটনার জন্য। কেপটাউনের ঘটনার কারণে আইসিসি এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তরফ থেকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে আমাকে। আমি ক্রিকেট দারুণ উপভোগ করি। আমার কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশ নিজেই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি মানুষের কাছেও আন্তরিকভাবে দুঃখিত বিশেষ করে বাচ্চাদের কাছে। আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এইটা দুর্ঘটনা আমাকে সারাজীবন ভোগাবে। এই অল্প সময়ে ক্ষমা চাওয়া ছাড়া আমার কোন উপায় নেই আর।’

অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমিরা যে বিষয়টি হালকাভাবে নেয়নি সেটি তাদের ক্ষোভ দেখেই বুঝা যায়। বল টেম্পারিংয়ের সাথে যুক্ত থাকা তিন ক্রিকেটারকে দল থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করারও দাবি জানান দেশটির ক্রিকেটপ্রেমিরা। শুধু এটিই নয়, এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীও। সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে কথা বলে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়ারও কথা জানান তিনি। দেশটির জনগন যে বিষয়টি হালকাভাবে নেয়নি সেটি অনুধাবন করতে পেরেছেন ব্যানক্রফট।

‘আমি জানি ক্রিকেটটা অস্ট্রেলিয়া এবং বাকি ক্রিকেটপ্রেমিদের কাছে কতটা গুরুত্ব বহন করে। এটা আমার জন্য ওয়েক-আপ কল। ব্যাগি গ্রীন ক্যাপ পরা সত্যিই দারুণ ব্যাপার। আমি বুঝতে পেরেছি, দেশের মানুষ আমার কারণে মাথা নিচু করতে হয়েছে। তাদের থেকে আবারো সম্মান ফিরে পাওয়াটা আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে।’ – বলেছেন ব্যানক্রফট

এছাড়া টুইটারে ওয়ার্নার লিখেন, ‘আমি আমার কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করছি। প্রিয় খেলা ও ভক্তদের মর্মপীড়া আমি বুঝতে পারছি। আমাদের সবার প্রিয় খেলা যা আমি ছোট থেকে ভালোবেসে এসেছি, এটা তার জন্য একটি কালো দাগ।’

এর আগে বল টেম্পারিংয়ে জড়িত থাকার দায়ে স্টিভ স্মিথ এবং ডেভিড ওয়ার্নারকে এক বছরের জন্য সব ধরণের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)। আর বল টেম্পারের চেষ্টা করা ক্যামেরন ব্যানক্রফটের নিষেধাজ্ঞা নয় মাসের।

তবে তাদের দ্বিতীয় সুযোগ দিতে বললেন লেহম্যান।

‘শনিবার যেটা হয়েছে, সত্যি সেটা মেনে নেওয়ার মতো না, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট দলের কাছে। পুরো অস্ট্রেলিয়া দেশবাসীর মতো, আমাদের ক্রিকেটাররাও হতাশ। তারা ভুল করেছে সেটা সত্য কিন্তু তারা মানুষ হিসেবে মোটেও খারাপ নয়। কোচ হিসেবে তাদের জন্য খারাপ লাগছে এবং তাদের পরিবারের জন্যও খারাপ লাগছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল করে, তারাও করেছে। আমিও অতীতে ভুল করেছি। তারা তরুণ, আশা করছি মানুষ তাদের দ্বিতীয় সুযোগটা দিবে। ওদের ভালো থাকাটা আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয়, আমাদের খেলার ধরণে পরিবর্তন আনা উচিৎ।’

স্মিথের প্রেস কনফারেন্সের ভিডিও দেখুন এখানে-

 

আরো পড়ুনঃ আশরাফুলের শতকে কলাবাগানের লড়াকু সংগ্রহ

 
নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

কুককে ‘বল টেম্পারিং’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ওয়ার্নার!

আর্চারকে স্টেইনের সাথে তুলনা করলেন ওয়ার্নার

আর্চারের বোলিং তোপে লন্ডভন্ড অস্ট্রেলিয়া

স্মিথ-ওয়ার্নারদের সাথে এ কেমন আচরন!

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যান