অনন্য তামিমে মুগ্ধ সবাই

দলীয় ২২৯ রানে নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে মুস্তাফিজুর রহমান আউট হওয়ার পর ক্রিকেট বোদ্ধারা নেমে পড়েছিলেন ইনিংস কাঁটাছেঁড়ার কাজে। বাঁহাতের কব্জিতে মারাত্মক চোট নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট তামিম ইকবাল মাঠ ছেড়েছিলেন ম্যাচের শুরুতেই। ইনিংস চলাকালেই জানা যায়, ম্যাচে তো বটেই, পুরো আসরেই আর খেলা হবে না বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনারের।

লাকমলের ডেলিভারিকে এভাবেই এক হাতে সামাল দিচ্ছিলেন তামিম। ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে অপরাজিত ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গ দিতে একহাতে ব্যাট ধরে ক্রিজের দিকে এগোতে থাকলেন তামিম। চোখ কচলালেন হয়ত অনেকে! ঠিক দেখছেন তো! যে তামিম এশিয়া কাপ থেকেই ছিটকে গেছেন, তিনি কী করে নামছেন ব্যাট করতে?

৪৭তম ওভারের শেষ বলটা মোকাবেলা করতে হল তামিমকেই। সুরাঙ্গা লাকমলের নিখাদ ডেলিভারিকে আটকালেন একহাতে ধরা ব্যাটে। তামিমের এই জাদুকরি গুণ আর অদম্য মানসিকতায় যেন আরও সাহস পেলেন সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম। পরের ১৫ বল একাই খেলে গেলেন তামিমকে রানারের ভূমিকায় রেখে। সেই ১৫ বলে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ৩২ রান।

প্লাস্টার করা হাতটাকে কোনোমতে গ্লাভসে আটকে তামিমের মাঠে নামা, কিংবা একজন পেসারের ছোঁড়া বল অন্য হাতে ধরা ব্যাট ঠুকে মোকাবেলা করার মানসিকতা মুগ্ধ করেছে সবাইকে। মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিণত হয়েছিল তামিমের প্রশংসার সমুদ্রে।

Also Read - মুশফিকের সেঞ্চুরিতে ২৬২ রানের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁড়ে দিল বাংলাদেশ

শনিবার শুরু হওয়া এশিয়া কাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় প্রথমে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ। দলীয় ৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর লাকমলেরই করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলটি লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে হাতে চোট পান তামিম। যার ফলে তাৎক্ষনিক মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

ব্যথার পরিমাণ বেশি থাকায় চোটের ধরন জানতে তৎক্ষণাৎ স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। দলীয়সূত্রে এমন খবর পাওয়ার ঘন্টাখানেক পর জানা যায়, এই চোটে এশিয়া কাপই শেষ বাঁহাতি ওপেনারের।

যে চোটের কারণে তামিমকে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে, সেই চোট নিয়েই অভিন্ন ইনিংসে ব্যাট করতে নামা মুগ্ধ করেছে তামিমের ভক্ত থেকে নিন্দুক- সবাইকে।

তামিমের প্রশংসা আকাশ ছুঁলে, আকাশছোঁয়া প্রশংসার দাবীদার মুশফিকও। তামিমের দুরন্ত সাহসিকতা আর উৎসর্গতা কাজে লাগিয়ে মুশফিক নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। নিজের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর গড়ার দিনে দলকে দিয়েছেন স্বস্তি। তামিম আর মুশফিক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে ইনিংসের অন্তিম মুহূর্তে মুহুর্মুহু পুষ্প-বৃষ্টির আবর্তন ঘটালেন যেন!

প্রসঙ্গত, তামিমের আগে এমন ‘ঘটনা ঘটিয়েছিলেন’ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথও। ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনি টেস্টে হারের মুখে থাকা দলকে বাঁচাতে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ব্যাট হাতে নেমেছিলেন স্মিথ। তখনও শেষদিনের খেলার বাকি ছিল ৮.২ ওভার। ভাঙা একটি হাত নিয়ে স্মিথ সেদিন দলকে জেতাতে না পারলেও জয় করে নিয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমিদের হৃদয়। তামিম তো হৃদয় জয় করলেন, এবার তার জন্য ম্যাচটা জিতুক দল!

চোট নিয়ে তামিমের ব্যাটিংয়ের ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন এখানে। 

আরও পড়ুন: এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে গেলেন তামিম

Related Articles

স্পট ফিক্সিংয়ের প্রশ্নে ১৫ ম্যাচ

মান বাঁচানোর ইনিংস দিয়েই জাত চেনালেন ইমরুল

ইমরুলের বীরত্বে বাংলাদেশের জয়

লিটন ও রাব্বিকে হারানোর পর লড়ছেন ইমরুল-মুশফিক

২০২৩ বিশ্বকাপেও অংশ নেবে ১০টি দল