অবসরের পরের ভাবনায় মাশরাফি

0
1282

অবসরের পর পরিকল্পনা কি ক্রিকেট কোচিং না রাজনীতি? সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট বিবিসি বাংলার এ প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘ক্রিকেট যেহেতু খেলেছি ক্রিকেটকে দেয়ার অনেক কিছু আছে, প্রায় ১৭-১৮ বছর ক্রিকেট খেলে অনেক কিছু পেয়েছি ক্রিকেটের সাথে থাকতে পারা আনন্দের ব্যাপার, তবে ভবিষ্যতের কথা বলা কঠিন কী হবে, তবে অবশ্যই আমি চাই মানুষকে সহযোগিতা করতে।’

Advertisment

তবে মাশরাফি বিন মুর্তজা এখনই অবশ্য অবসর নিয়ে ভাবছেন না। জাতীয় দলের হয়ে এখন টেস্ট বা টি-টোয়েন্টি না খেললেও ওয়ানডেতে তিনি বেশ ভালোই ফর্মে আছেন। সোমবার শেরে বাংলায় খেলাঘর সমাজ কল্যাণের বিপক্ষে ৩২ রানে ৩ উইকেট শিকারি মাশরাফির এবার ঢাকার প্রিমিয়ার লিগে উইকেট দাঁড়িয়েছে মোট ৩৮টি।

সুপার লিগের শেষ ম্যাচে আগামী ৫ এপ্রিল লিজেন্ডস অফ রূপগঞ্জের বিপক্ষে নামবে আবাহনী। আর সে ম্যাচে উইকেট না পেলেও এবারের ঢাকা লিগে মাশরাফির সর্বাধিক উইকেট শিকারি হওয়া শতভাগ নিশ্চিত। কারণ, ১৫ ম্যাচ শেষে মাশরাফির উইকেট সংখ্যা ৩৮। তার নিকট প্রতিদ্বন্দ্বি মোহামেডানের বাঁ-হাতি পেসার কাজী অনিক, লিজেন্ডস অফ রুপগঞ্জের বাঁ-হাতি স্পিনার আসিফ হাসান ও প্রাইম দোলেশ্বরের পেস বোলার ফরহাদ রেজা প্রত্যেকের পকেটে জমা পড়েছে সমান ২৮টি করে উইকেট।

শুধু এবারের লিগে সর্বাধিক উইকেট শিকারিই নয়। ২০১৩ সাল থেকে ‘লিস্ট এ’র মর্যাদা পাওয়া প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরে সর্বাধিক উইকেট শিকারি হওয়াই শেষ নয়, এবারের লিগে শিরোপার গন্ধ যে দলের নাকে- সেই আবাহনীর সাফল্যের অন্যতম রূপকার মাশরাফি।

ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই ভাবতে রাজি নন ম্যাশ। তাঁর ভাষ্য, ‘আমি ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবি না। বর্তমানে বিশ্বাস করি। হ্যাঁ, একটা সময় তো আসবেই যখন মনে হবে, তখনকারটা তখন ভাববো।’

২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের জাতীয় দলে খেলছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই পেস বোলারের ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ইনজুরি বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। শুধু হাঁটুতেই সাতবার অস্ত্রোপচার করিয়েছেন মাশরাফি।

ক্রিকেটারের জীবনটা কেমন উপভোগ করেছেন মাশরাফি সেটাই জানতে চাওয়া হয় তাঁর কাছে। জবাবে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটটা আমার সাথে মানিয়ে গেছে। দশটা কাজ করা যায় না, মনের মতো কাজ একটাই থাকে। ক্রিকেটটাই আমার জন্য, এজন্যেই পেরেছি। এজন্যেই অপারেশন-ইনজুরি এসব কষ্ট কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’

মাশরাফির বাড়ি নড়াইল জেলায়। ক্রিকেট খেলার ফাঁকে প্রায়ই যান নড়াইলে। নড়াইলের সন্তান মাশরাফির সাথে দেখা করতে প্রতিবারই তাঁর বাড়ির আঙ্গিনায় ভিড় জমান অনেক চেনা-অচেনা মানুষ।

মাশরাফির কাছে প্রশ্ন ছিল কীভাবে এই চাপ তিনি সামাল দেন। উত্তরে জানালেন, ‘কখনো কখনো একের পর এক মানুষ আসতেই থাকে। কখনো কখনো আমি দুই বা তিনদিনের বেশি ছুটি পাই না। আমি ছোটবেলা থেকে নানা-নানীর কাছে বড় হয়েছি। যখন বাবা-মার সাথে যাই, পারিবারিক একটা সময় কাটাতে চাই। তাই কখনো কখনো একটু সমস্যা হয়ই। তাই সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যায়।’

মাশরাফি বলেন, ‘গত বছর থেকে বিকালে বা সকালে এক ঘণ্টা করে সময় ঠিক করে দেয়া হয়। অনেক দূর থেকে অনেকে কষ্ট করে আসে। একটা সময় দিতেই হয় তাই।’

মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়তি উৎসাহ কাজ করে তাঁর মধ্যে। এখনো ঢাকায় মোটরসাইকেলেই চলাফেরা করেন বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক। শৈশবে নড়াইলের চিত্রা নদীতে দাপিয়ে সময় কেটেছে মাশরাফির। ক্রিকেট ক্যারিয়ারের বাইরেও মাশরাফির ডানপিটে স্বভাব এবং তার নেতৃত্ব মিলিয়ে ভক্তদের অনেকের কাছে ক্রিকেটের বাইরেও একটা ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।

বিবিসি বাংলাকে অবশ্য তিনি জানিয়েছেন, জনপ্রিয় হবার আগের জীবনটাই তিনি বেশি উপভোগ করতেন। এই জীবনে অনেক দায়বদ্ধতা রয়েছে। ভক্তদের অনেকে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে আদর্শ হিসেবে দেখেন। মাশরাফির মতে এটা একটা বাড়তি চাপ, তবে তিনি মানুষের ভালবাসাকেই বড় করে দেখেন।

মাশরাফি বলেন, ‘এটার ভেতরে একটা আনন্দ আছে। ভাল দিক হচ্ছে চাইলেও অনুচিত কিছু করা হয়না, একটা নিয়ন্ত্রণ আসে নিজের মাঝে। মানুষ যখন আমাকে অনুসরণ বা অনুকরণ করে তখন আসলেই ভাল লাগে।’

তিনি যোগ করেন, ‘আমার দ্বারা আগে, এখন বা ভবিষ্যতে অনেক ভুলই হতে পারে, সেই ভুলগুলো যাতে কেউ অনুসরণ না করে এটা চাইবো।’

আরো পড়ুনঃ

শেখ জামালের জয়ের নায়ক তানভীর