অবসরের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে আবার বিশ্বকাপ দলে

0
956

ফর্মহীনতায় ছিটকে পড়েছিলেন জাতীয় দল থেকে। জায়গা হারিয়েছিলেন ঘরোয়া টুর্নামেন্টের দলেও। তাইতো নিয়েছিলেন অবসরের সিদ্ধান্ত। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরেই জিমি নিশাম জায়গা করে নিয়েছেন নিউজিল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে।

 

Advertisment

জিমি নিশাম

২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলার পরেই বাজে ফর্মের জন্য জাতীয় দল থেকে বাদ পড়েন জিমি নিশাম। ঘরোয়া টুর্নামেন্টে তার দল ওটাগোও আগ্রহ হারায় তার ওপরে। তাই অবসরের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেন এই অলরাউন্ডার।

 

১৮ মাস আগে জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি ক্রিকেট থেকে অবসরে যাচ্ছেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের খেলোয়াড়দের সংস্থার প্রধান নির্বাহী হিথ মিলসের সমর্থনে সে সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসেন নিশাম। ফেরেন জাতীয় দলেও। এই বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ দিয়ে তার আবারো প্রত্যাবর্তন হয়।

দলে ফিরেই দারুণ পারফর্ম করেন। ১৩ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলে আবারো জাতীয় দলে জায়গাটা শক্ত করে নেন। ফলশ্রুতিতে সুযোগ পেয়েছেন আগামী ৩০ মে ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে।

যখন ইংল্যান্ডে এক টুর্নামেন্টে বাজে পারফর্মের জন্য ছিটকে গিয়েছিলেন। বড় পরিসরে ফেরার সময় আবারো পাচ্ছেন সেই ইংল্যান্ডের মাটিকেই। তার আগে তিনি ওটাগো থেকে বাদ পড়ে নাম লেখান ওয়েলিংটনের দলে। নতুন দলে যেয়ে ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই সাফল্য পেতে শুরু করেন তিনি। জাতীয় দলে এসেও ধরে রেখেছেন সেই ধারা।

নিজের ফেরার বর্ণনা দিতে যেয়ে তিনি বলেন, ‘আমি হিথ মিলসকে বলেছিলাম যে আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আমাকে বলেছিলেন এমন সিদ্ধান্ত না নিতে। কিছুদিন বিরতি নিয়ে আবারো নতুন করে শুরু করতে। তারপর আমি ওয়েলিংটনে গেলাম এবং দলটির জয়ে ভূমিকা রাখতে শুরু করলাম। আমি হিথ মিলসের কাছে ঋণী থাকবো।’

জিমি নিশাম জানান যে মানসিকভাবে তিনি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই জন্য মনোবিদের সাহায্যও নিতে হয়েছিল তাকে। মনোবিদের সাহায্যে দ্রুতই হতাশা কাটিয়ে আবারো ক্রিকেটে ফিরতে পেরেছেন তিনি।

 

দল থেকে বাদ পড়ার পরে নিজের হতাশার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন নিশাম। তিনি বলেন, ‘আমি খুব খারাপ খেলছিলাম। তখন আমি দ্রুতই ফিরে আসার কথা ভাবতাম। কিন্তু একজন ক্রিকেটার হিসেবে যেভাবে ভাবা সেভাবে আমি ভাবিনি। আমি নিজের ওপরেই অনেক চাপ সৃষ্টি করে ফেলেছিলাম। ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোতে সবাইকে ছাড়িয়ে যেতে চাইতাম। প্রতি ম্যাচে শতাধিক রান করতে চাইতাম। কিন্তু আমি যখন খেলাটাকে উপভোগ করতে শুরু করলাম, তখন সবকিছু বদলে যেতে লাগলো।’