Scores

অস্ট্রেলিয়ার ওপরে ক্ষিপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা পরেও সিরিজ স্থগিত করে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজ আয়োজনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তারপরেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) সিরিজটি স্থগিত করে দেওয়ায় বেশ ক্ষেপে গিয়েছে প্রোটিয়া ক্রিকেট বোর্ড।

দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে না। প্রতিদিন যে পরিমাণে মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে তাতে দেশটির সরকার বেশ সতর্ক অবস্থানে দাঁড়াচ্ছে। সোমবার দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধানমন্ত্রী সিরিল রামাপোসা জানিয়েছিলেন বর্তমানে যেভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তা তাদেরকে অ্যালকোহল বিক্রয় ও সমুদ্র সৈকতে জনসমাগমের ওপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যথেষ্ট। তার প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অস্ট্রেলিয়া এই সফর স্থগিত করে নিলো।

Also Read - চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথমে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ


দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলেও এই সিরিজটি আয়োজনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)। অস্ট্রেলিয়ার সাথে আলোচনা করেই তারা নির্ধারণ করেছিল, অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার ১৪ দিন আগেই স্বাগতিক দল জৈব সুরক্ষা বলয়ে প্রবেশ করবে। এইজন্য দক্ষিণ আফ্রিকা তাদের পাকিস্তান সফরের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে টেস্ট দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এমনকি অধিনায়ক কুইন্টন ডি কককেও রেখেছিল না। অনেক কড়াকড়ির পরেও শেষ পর্যন্ত হাত ফসকে যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহি ফোলেসি মোসেকি বলেন, ‘এতকিছুর আয়োজন ও আমাদের এত চেষ্টার পরেও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে এই সিরিজ স্থগিত করে দেওয়া খুবই দুঃখজনক। এসব পরিকল্পনা করতে সিএসএ ইতোমধ্যে অনেক খরচ করে ফেলেছে এবং সিরিজটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আমাদের বড় আর্থিক ক্ষতি হয়ে গেল। ক্রিকেট ও সদস্য দলগুলোর জন্য এই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এমন সিদ্ধান্ত খুবই দুঃখজনক এবং ভবিষ্যতে ক্রিকেট খেলেড়ু দেশগুলোর মধ্যকার সু সম্পর্ক বজায় রাখায় ছেদ সৃষ্টি করবে।’

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই অভিযোগকে একপেশে করে দেখছে অস্ট্রেলিয়া। নিজ দেশে সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার করোনা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়েছে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকা এই অভিযোগ আনার পরে তার উত্তরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বলে,

‘সিএসএ তাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট করে বলেছে। তবে আমরাও যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। এখানে দুইটা জিনিস ঘটেছে, দক্ষিণ আফ্রিকা করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা করছে এবং পরিস্থিতি বেশ খারাপ। আমরা অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়েছি। আমাদের মেডিকেল টিমের সাথে আলোচনা করে স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সবার আগে আমাদের কাছে আর কোনো অপশন ছিল না (সিরিজ স্থগিত করা ছাড়া)।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই সিরিজ চলাকালীন দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের কয়েকজন ক্রিকেটার কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হলে ইংলিশরা সিরিজ শেষ না করেই দেশে ফিরে গিয়েছিল। তবে তারপরেই দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই ম্যাচে টেস্ট সিরিজ নির্বিঘ্নেই খেলে এসেছে শ্রীলঙ্কা।

Related Articles

হাত ফসকে পড়া বল ‘ক্যাচ’ দিয়ে দিলেন আম্পায়ার

তিন পরাশক্তির বিপক্ষে ‘হোম অ্যাডভান্টেজে’ চোখ রিয়াদের

মার্শের পর আইপিএল থেকে সরে গেলেন হ্যাজলউড

‘জায়গা খালি নেই’, স্মিথকে ল্যাঙ্গার

বিয়ের পিঁড়িতে বসতে আইপিএল থেকে ছুটিতে জাম্পা