Scores

আইপিএলের যত সুপার ওভার

এবারের আইপিএলে ইতোমধ্যেই দর্শকরা দেখেছে চারটি ম্যাচে সুপার ওভার। এর মধ্যে একটি ম্যাচে সুপার ওভার হয়েছে দুইটি। সব মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে সুপার ওভারে গড়িয়েছে যেখানে সুপার ওভার হয়েছে ১৪ টি। আইপিএলের সকল সুপার ওভার নিয়েই বিডিক্রিকটাইমের এ বিশেষ আয়োজন।

আইপিএলের যত সুপার ওভার

রাজস্থান রয়্যালস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স, ২০০৯ 

Also Read - ইয়াসিরের ফিফটি, অপেক্ষায় মাহিদুল


২০০৯ সালের এ ম্যাচটিতে হয়েছিল আইপিএলের প্রথম সুপার ওভার। দুই দলই রান করেছিল ১৫০। শেষ বলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রয়োজন ছিল দুই রান। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ইশান্ত শর্মা রান আউট হলে ম্যাচ সুপার ওভারে গড়ায়।

সুপার ওভারে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ক্রিস গেইল আর ব্রেন্ডন ম্যাককালাম মিলে ১৫ রান তুলেন। জবাব দিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অজন্তা মেন্ডিসের চার বলেই ১৬ রান তুলে নেন রাজস্থান রয়্যালসের ইউসুফ পাঠান।

কিংস ইলিভেন পাঞ্জাব বনাম চেন্নাই সুপার কিংস, ২০১০ 

লো-স্কোরিং এ ম্যাচটা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। কিংস ইলিভেন পাঞ্জাব ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান করে। জিততে শেষ ওভারে চেন্নাই সুপার কিংসের দরকার ছিল ১০ রান। প্রথম চার বলে ৯ রান চলে আসলেও পঞ্চম বলে রান নিতে পারেননি রবিচন্দ্রন অশ্বিন। শেষ বলে আউট হয়ে গেলে ম্যাচ হয়ে যায় টাই।

সুপার ওভারে ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন ম্যাথু হেইডেন আর এলবি মরকেল। দ্বিতীয় বলেই আউট হন হেইডেন। সুরেশ রায়নার ছক্কায় ৯ রান করে চেন্নাই সুপার কিংস। মুত্তিয়া মুরালিধরনের  করা প্রথম  বলে ছক্কা মেরে দ্বিতীয় বলেই আউট হন  কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবের মাহেলা জয়াবর্ধনে। চতুর্থ বলে রিভার্স সুইপে চার মেরে কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবের জয় নিশ্চিত করেন যুবরাজ সিং।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, ২০১৩

প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ১৩০ রান করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। শেষ ওভারে জিততে সাত রান অদ্রকার হলেও সানরাইজার্স হায়দরাবাদ করে ছয় রান। সুপার ওভারে ক্যামেরন হোয়াইটের দুই ছক্কায় ভর করে ২০ রান করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। এরপর ডেল স্টেইন এসেরয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরাট কোহলি আর ক্রিস গেইলকে আটকে দেন ১৫ রানে।

দিল্লী ডেয়ারডেভিলস বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, ২০১৩

২০১৩ সালের দ্বিতীয় সুপার ওভারটিও ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের ম্যাচ। দিল্লীর ছুঁড়ে দেওয়া ১৫৩ রানের লক্ষ্যে তাড়া করতে নামা ব্যাঙ্গালোরের ৩০ বলে দরকার ছিল ২৭ রান। কিন্তু  এবি ডি ভিলিয়ার্স, এবি ম্যাকডোনাল্ড, বিরাট কোহলিরা দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে তারা। শেষ ওভারে ১১ রান নিয়ে ম্যাচ টাই করে ব্যাঙ্গালোর।

সুপার ওভারে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দুই ছক্কায় ১৫ রান করে ব্যাঙ্গালোর। ক্যারিবিয়ান বোলার রাভি রামপলের দারুণ বোলিংয়ে ১১ রানের বেশি করতে পারেনি দিল্লী ডেয়ারডেভিলস।

রাজস্থান রয়্যালস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স, ২০১৪

এ ম্যাচে টাই হয়েছিল সুপার ওভারও। রাজস্থান রয়্যালসের ১৫৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাকিব আল হাসানের ১৮ বলে ২৯ ও সূর্যকুমার যাদবের ১৯ বলে ৩১ রানে ভর করে ম্যাচ টাই করে কলকাতা। সুপার ওভারে সাকিব-যাদব-মনিশ পান্ডে মিলে ১১ রানের পুঁজি দেয় কলকাতাকে। এরপর সুনীল নারাইনের ওভারে রাজসস্থানের স্টিভ স্মিথ আর শেন ওয়াটসন মিলেও রান নেন ১১। কিন্তু বাউন্ডারি রাজস্থানের বেশি থাকায় ম্যাচ জিতে যায় তারা।

রাজস্থান রয়্যালস বনাম কিংস ইলিভেন পাঞ্জাব, ২০১৫

টান টান উত্তেজনার ছিল এ ম্যাচ। কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবের লক্ষ্য ছিল ১৯১ রান। শেষ বলে পাঁচ রান দরকার ছিল তাদের। জেমস ফকনারের বলে অক্ষর প্যাটেল চার মেরে ম্যাচ টাই করেন। সুপার ওভারে টানা তিনটি চার মারেন শন মার্শ। এর মাঝে একটি ছিল নো-বলে। ১৫ রান করতে সক্ষম হয় পাঞ্জাব। জবাবে রাজস্থান রয়্যালসের স্টিভ স্মিথও নো-বলে মেরেছিলেন চার। কিন্তু ওভারের প্রথম বলে শেন ওয়াটসন আর তৃতীয় বলে ফকনারকে আউট করে পাঞ্জাবকে জেতান মিচেল জনসন। ৩ বলে ৬ রান করেছিল রাজস্থান।

গুজরাট লায়ন্স বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, ২০১৭ 

প্রথমে ব্যাটিং করে গুজরাট লায়ন্স রান করে ৯ উইকেটে ১৫৩। শেষ ওভারে দুই উইকেট হাতে রাখা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রয়োজন ছিল ১১ রান।  মুম্বাই করে ১০ রান। সুপার ওভারে কিরন পোলার্ডের এক ছক্কা আর চারে ১১ রান করে মুম্বাই। এরপর জাসপ্রিত বুমরাহ দুর্দান্ত বোলিং করে গুজরাট লায়ন্সের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর অ্যারন ফিঞ্চকে ৬ রানে আটকে দেয়।

দিল্লী ক্যাপিটালস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স, ২০১৯

৯৯ রানের ইনিংস খেলে দিল্লী ক্যাপিটালসকে জয়ের পথে রেখেছিলেন পৃথ্বী শ। তবে কুলদীপ যাদবের করা শেষ ওভারে ৬ রান নিতে পারেননি  কলিন ইনগ্রাম আর হনুমা বিহারী। কলকাতার মতো দিল্লীও থামে ১৮৫ রানে। সুপার ওভারে ১০ রান সংগ্রহ করে দিল্লী। আন্দ্রে রাসেল জবাব দিতে নেমে প্রথম বলে চার মারলেও তৃতীয় বলে আউট হয়ে যান তিনি। পরের তিন বলে রবিন উথাপ্পা আর দীনেশ কার্তিক এক করে তিন রান নিলে সাত রান করে কলকাতা।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, ২০১৯ 

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ১৬৩ রানের লক্ষ্য টপকাতে শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৭ রান। মোহাম্মদ নবী আর মনিশ পান্ডে মিলে পাঁচ বলে নেন ১০ রান। শেষ বলে ৭ রান দরকার হলে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে ছক্কা হাঁকান পান্ডে।

সুপার ওভারে হায়দরাবাদকে ৮ রানে আটকে রাখেন বুমরাহ। ব্যাটিংয়ে নামে রশিদ খানের প্রথম বলে হার্দিক পান্ডিয়া ছক্কা মেরে ম্যাচ হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন। তিন বলেই ম্যাচ জিতে যায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

দিল্লী ক্যাপিটালস বনাম কিংস ইলিভেন পাঞ্জাব, ২০২০  

দিল্লী ক্যাপিটালসের দেওয়া ১৫৮ রানের লক্ষ্য জয়ে শেষ তিন বলে মাত্র এক রান দরকার ছিল কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবের। চতুর্থ বলে কোনো রান নিতে পারেননি ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগারওয়াল। পঞ্চম আর ষষ্ঠ বলে আগারওয়াল ও ক্রিস জর্ডানের উইকেট নিয়ে ম্যাচ টাই করে দেন মার্কাস স্টয়নিস। কাগিসো রাবাদার করা সুপার ওভারের প্রথম বলে দুই রান নেওয়ার পরের দুই বলে আউট হয়ে যান লোকেশ রাহুল আর নিকোলাস পুরান। মাত্র দুই বলেই তিন রান করে ম্যাচ জিতে যায় দিল্লী ক্যাপিটালস।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, ২০২০ 

কিরন পোলার্ডের ২৪ বলে ৬০ রান আর ইশান কিষাণের ৯৯ রানের ইনিংসে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সমান ২০১ রান করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। শেষ বলে ৫ রান দরকার হলে চার মারেন পোলার্ড।  সুপার ওভারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে সাত রানে আটকে দেন আরসিবির পেসার নভদীপ সাইনি।  এরপর সুপার ওভারে প্রথম পাঁচ বলে সাত রান নেয় আরসিবি। শেষ বলে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন বিরাট কোহলি।

কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, ২০২০

কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে জিততে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের প্রয়োজন ছিল ৬ বলে  ১৮ রান। আন্দ্রে রাসেলের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বলে টানা তিন চার মারেন ডেভিড ওয়ার্নার। শেষ বলে দুই রান দরকার হলে এক রান নিতে সক্ষম হন ওয়ার্নার আর রশিদ খান। সুপার ওভারে লকি ফার্গুসন অসাধারণ বোলিং করে তিন বলেই দুই উইকেট শিকার করেন। মাত্র তিন রানের লক্ষ্য ছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সের আর সেটি তারা টপকে যায় চার বলেই।

কিংস ইলিভেন পাঞ্জাব বনাম মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, ২০২০

ক্রিকেটের এক ঐতিহাসিক ম্যাচ এটি যেখানে কিনা প্রথমবারের মতো হয়েছে দুইটি সুপার ওভার। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ১৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবের শেষ ছয় বলে দরকার ছিল ৯ রান। প্রথম ৫ বলে ৭  রান নেন ক্রিস জর্ডার আর দীপক হুদা। শেষ বলে দুই রান দরকার হলে দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রান আউট হন জর্ডান।

প্রথম সুপার ওভারে দারুণ বোলিং করে কিংস ইলিভেন পাঞ্জাবকে ৫ রানে আটকে রাখেন বুমরাহ। এরপর দুর্দান্ত বোলিং করেন মোহাম্মদ শামিও। তার ওভারেও ৫ রানের বেশি নিতে পারেনি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

দ্বিতীয় সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে ক্রিস জর্ডানের বলে কিরন পোলার্ডের নৈপুণ্যে ১১ রান নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। জবাব দিতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান ক্রিস গেইল। এরপর প্রান্ত বদল করে দেন মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে। টানা দুই চার মেরে দলকে জয় এনে দেন আগারওয়াল।

Related Articles

হাসপাতালে ভর্তি মুরালিধরন

‘পয়লাতে পয়লা, এইতো চাই’

আইপিএল থেকে ছিটকে গেলেন স্টোকস

বল হাতে দুর্দান্ত সাকিব

লন্ডনে আইপিএল চান মেয়র সাদিক খান