আইপিএল থেকে বাড়ি ফিরে ঘোর সংকটে সাকারিয়া

ছোট ভাইয়ের আত্মহত্যার দুঃখ পিছু ফেলে পাড়ি জমিয়েছিলেন আইপিএলে। রাজস্থান রয়্যালসের পেস আক্রমণের বড় দায়িত্ব নিয়ে নিয়মিত হাল ধরেছেন মুস্তাফিজুর রহমান, ক্রিস মরিসদের সাথে। তবে আইপিএল ছেড়ে বাড়ি ফিরতেই দুঃসময় নেমে আসে চেতন সাকারিয়ার জীবনে।

মুস্তাফিজের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সাকারিয়া
মুস্তাফিজুর রহমান ও চেতন সাকারিয়া। ফাইল ছবি : বিসিসিআই।

ভারতের তরুণ এই পেসারের বাড়ি গুজরাটের ভাবনগর জেলায় ভারতেজ গ্রামে। জৈব সুরক্ষা বলয়ে করোনা পজিটিভ শনাক্তের খবরে আইপিএল বন্ধ ঘোষণা করা হলে স্বভাবতই দলের সঙ্গ ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। এরপরই তার পিছু নেয় বিপদ।

Advertisment

আইপিএলে থাকাকালেই করোনায় আক্রান্ত হন তার বাবা। সম্প্রতি সেই অসুস্থতা বেড়েছে। বলা যেতে পারে, সাকারিয়ার বাবা বুক ভরে একটু নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য হাঁসফাঁস করছেন। ভারতে করোনার চিকিৎসাব্যবস্থা নাজুক। প্রচুর অর্থ খরচ না করলে মিলছে না পর্যাপ্ত চিকিৎসা। এমন পরিস্থিতিতে আইপিএল থেকে উপার্জিত অর্থ দিয়ে বাবার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন সাকারিয়া।

নিলামে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি দিয়ে সাকারিয়াকে দলে ভিড়িয়েছিল রাজস্থান রয়্যালস। আসর শেষ না হলেও সেই অর্থের বড় একটি অংশ সাকারিয়ার হাতে এসে গেছে। সেই টাকা দিয়ে চলছে করোনা আক্রান্ত সাকারিয়ার বাবার চিকিৎসা। এমনই জানান তরুণ এই ক্রিকেটার।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহেই ফোন করে আমাকে বলা হয়েছিল, বাবা করোনা আক্রান্ত। ফ্র্যাঞ্চাইজির তরফ থেকে কিছু অর্থ পেয়েছিলাম। সঙ্গেসঙ্গেই তা বাড়িতে ট্রান্সফার করে দিই। এই কঠিন সময়ে ঐ অর্থই ভরসা যোগাচ্ছে।’

আইপিএলে টাকার ঝনঝনানি নতুন কিছু নয়। অনেকে তাই আইপিএলের বিরোধিতা করেন। তবে উঠতি ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যতের জন্য এই আইপিএল যে কত গুরুত্ববহ, কঠিন সময়ে তাই জানালেন সাকারিয়া।

তিনি বলেন, ‘অনেকেই বলছেন, আইপিএল বন্ধ করে দেওয়া হোক। তাদের বলতে চাই, আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। উপার্জনের একমাত্র পথ হল ক্রিকেট। আমার বাবাকে ভালোভাবে চিকিৎসা করতে পারছি, কারণ আমার কাছে আইপিএলের চুক্তি ছিল। যদি এই টুর্নামেন্ট একমাস না হত, তাহলে ব্যাপক সমস্যায় পড়তাম।’