Scores

আজ রানার হারিয়ে যাওয়ার দিন…

মানজারুল ইসলাম রানা, বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরদিনের আফসোসের এক নাম। ক্রিকেট পাগল ছেলেটা সবাইকে মাতিয়ে রাখতো। কিন্তু প্রকৃতির কি বিচার! সেই ২২ বছরের টগবগে তরুণের জীবন কেড়ে নিলো অকালেই। সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন। তিনি আজ তার ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

বাংলাদেশ ক্রিকেট যখন হাটিহাটি পা পা করে এগিয়ে চলছিল তখনই আবির্ভাব হয় বাঁহাতি এই ক্রিকেটারের। ১৯৮৪ সালে খুলনায় জন্মগ্রহণ করা রানা ২০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই জাতীয় দলে অভিষিক্ত হন। ২০০৩ সালের ৭ নভেম্বর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৬৮ তম ওডিআই ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয় তার। ‘৯৬’ নম্বর জার্সিটি পরে মাঠে নামতেন রানা। পরের বছর ১৯ শে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ৩৫তম টেস্ট ক্যাপ পরেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাংলাদেশের জার্সিতে ৬টি টেস্ট ম্যাচ ও ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা এই ক্রিকেটার মনোনীত হয়েছিলেন আইসিসির সেরা উদীয়মান ক্রিকেটারের তালিকায়ও। বলার অপেক্ষা রাখে না যে তিনিই প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে এই অর্জনে নাম লেখান। কিন্তু সেই যাত্রা আর বেশিদূর এগোলো না। হঠাৎ-ই দমকা হাওয়া এসে ঘুরিয়ে দিলো সব গল্প।

Also Read - ক্রাইস্টচার্চ হামলা: ইসলামাবাদ-পেশোয়ার ম্যাচে নীরবতা পালন


বাংলাদেশ দল তখন ২০০৭ বিশ্বকাপ খেলতে উড়াল দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। মাশরাফি হয়তো এখনো আফসোস করতে পারেন কেন যে সেই বিশ্বকাপ দলে ছিল না তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু রানা! তাহলে হয়তো গল্পটা অন্যরকমও হতো পারতো। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার ভাগ্যের লেখন বদলায় কার সাধ্য। মাশরাফিরা যখন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সুদূর উইন্ডিজে তখন রানা ব্যস্ত ছিল নিজ শহর খুলনায় এক টুর্নামেন্ট খেলতে। ২০০৭ সালের ১৬ মার্চ খুলনায় একটা ম্যাচ শেষ করে আরেক ক্রিকেটার সাজ্জাদুল সেতুর সাথে মোটরবাইকে করে ফেরার পথে মাইক্রোবাসের সাথে সংঘর্ষ হয় তাদের। রাস্তার পাশের বিদ্যুতের পোলের সাথে মারাত্মকভাবে লাগে রানার মাথায়। থমকে যায় রানার জীবন, থমকে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক উদীয়মান তারকা, কান্নায় বুক ভেসে যায় মাশরাফিদের। হাবিবুল বাশারের দল সেই ম্যাচটি রানার জন্য খেলেছিল, ম্যাচটি জিতেছিলও তারা। এরপর থেকে যখনই ১৬ই মার্চ বা তার দু-একদিন আগে পরে বাংলাদেশের খেলা থাকে তখনি উঠে আসে রানার স্মৃতি। এ যেন এক শক্তিতে পরিণত করে বাংলাদেশ দলকে জয় ছিনিয়ে নিতে।

 

 

মৃত্যুর আগে সর্বশেষ টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন ভারতের বিপক্ষে, ২০ ডিসেম্বর, ২০০৪। সর্বশেষ ওডিআই খেলেছিলেন কেনিয়ার বিপক্ষে, ২৫ শে মার্চ ২০০৫।

৯৬ নং জার্সিধারী এই অলরাউন্ডার জাতীয় দলে ৬টি টেস্টের ১১ ইনিংসে ব্যাট হাতে সংগ্রহ করেছিলেন ২৫৭ রান। একদিনের ক্রিকেটে ২৫ ম্যাচের ২১ ইনিংসে করেছিলেন ৩৩১ রান। বল হাতে তিনি টেস্ট ক্রিকেটে ৫ ও ওয়ানডে ক্রিকেটে ২৩ উইকেট শিকার করেছিলেন।

শান্তিতে থাকুক রানার আত্মা।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

প্রথম দিনেই চালকের আসনে বিসিবি একাদশ

বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে চায় শ্রীলঙ্কা

যুবাদের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরু

শহিদুলের ৫; ৭৯ রানে অলআউট কেএসসিএ

শহিদুল-এবাদতের পর বোলিংয়ে আরিফুলের বাজিমাত