‘আপনারা আমাদের বেকারত্বে উল্লাস করছেন’; ক্রিকেটারের আবেগঘন বার্তা

বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের খেলাধুলা আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। আইপিএল পিছিয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট বোর্ডও তাদের এই সিজনের খেলা বাতিল করে দিয়েছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

'আপনারা আমাদের বেকারত্বে উল্লাস করছেন' ক্রিকেটারের আবেগঘন বার্তা

Advertisment

একই পরিণতি হয়েছে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’-এর। এই বছর শুরু হওয়ার কথা ছিল ইংল্যান্ডের আলোচিত ১০০ বলের ক্রিকেট লিগ দ্য হান্ড্রেডের। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের জন্যও শুরু হওয়ার কথা ছিল প্রতিযোগিতাটি। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে এই বছরের দ্য হান্ড্রেড স্থগিত করা হয়েছে। আগামী বছর পরিস্থিতি ঠিক থাকলে শুরু হবে দ্য হান্ড্রেড। তবে এতে অনেকে হতাশ না হয়ে বরং খুশিই হয়েছেন। কিন্তু কেন? এর কারণ জানতে হলে যেতে হবে আরো পেছনে।

দ্য হান্ড্রেড শুরু থেকেই ইংল্যান্ডে বিরোধিতার মুখোমুখি হয়ে আসছিল। কারণ এটি সচরাচর চলে আসা ক্রিকেটের নিয়মের বাইরে। ১০০ বলের ক্রিকেটের নিয়ম সাধারণত ২০ ওভার ক্রিকেটের নিয়মের থেকে কিছুটা ভিন্ন। ভক্তদের দাবি ছিল অযথা বারবার নিয়ম পরিবর্তন করে ক্রিকেটকে নষ্ট না করে ২০ ওভারের টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আয়োজন করার । তাই তারা এর পক্ষে মত দেননি। তবে করোনার কারণে এটি পুরোপুরি এই বছরের জন্য স্থগিত হয়ে গেছে। স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বাইরের ক্রিকেট ভক্তদের টুইটারে উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে। ব্যাপারটি পছন্দ হয়নি হান্ড্রেড-এর নারী খেলোয়াড় কেটি লেবিকের।

মানুষের উল্লাস দেখে টুইটারে আবেগঘন এক বার্তা দেন কেটি। কেটি লিখেন, “আপনারা যারা দ্য হান্ড্রে্‌ এই বছর বাতিল হয়ে যাওয়ায় উল্লাস করছেন তারা আসলে আমাদের বেকারত্বের উল্লাস করছেন। এটা হয়তো সেই সচরাচর নিয়মের ক্রিকেট খেলা না যা আপনারা ভালোবাসেন, তবে এই খেলা অনেক মেয়েকে একটা রোজগারের সুযোগ দিচ্ছিল, যাদের অনেকের হয়তো ক্রিকেট ছাড়া অন্য কোথাও আয়ের সুযোগ নেই। এটা আমাদের জন্য ৪ সপ্তাহ ১ লাখ পাউন্ড না, এটা ছিল আমাদের একটি থাকার জায়গা করার সুযোগ। ঘরে খাবার আনার সুযোগ ও আমাদের স্বপ্ন আরো কিছুদিন পূরনের সুযোগ। এটা সুযোগ ছিল পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের ক্রিকেট দেখানোর। এটা সুযোগ ছিল ছোট মেয়েদের কিছু দেখার সুযোগ করে দেওয়ার যাতে তারা অনুপ্রাণিত হতে পারে। আপনারা উদযাপন করতে পারেন কারণ আমরা সাদা পোশাকের ক্রিকেট খেলিনা বা লাল বলে ওভারে ৬ বল করিনা, তবে এটাও মনে রাখবেন এর কিছুই আমাদের হাতে নেই। আমাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন, আমরাও তো ক্রিকেট পরিবারের অংশ।

কেটি এই আবেগঘন বার্তার পর অনেক সমর্থন পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তাদের বিষয়টি আসলেও দুঃখজনক। নারীদের এই হান্ড্রেড ছাড়া অন্য কোনো ঘরোয়া খেলার সুযোগ ছিলনা এই বছর। এটি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় যারা ইংল্যান্ড জাতীয় দলের চুক্তির বাইরে তারা এই বছর কোন আয়ই করতে পারবেনা। অনেকের ক্রিকেট ক্যারিয়ার পুরোপুরি থমকে যাবে এই কারণে। অনেকেই হয়তো অন্য পেশায় চলে যাবেন। তাই ভক্তদের কাছে কেটির এই আবেদন মোটেও হয়তো অযৌক্তিক নয়।