আবারও ভারতের হাতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

ভিন্ন ফরম্যাটে গত এশিয়া কাপের চিত্রনাট্যই মঞ্চায়িত হল যেন। ২০১৬ সালে বাংলাদেশকে হারিয়ে টি-২০ ফরম্যাটের এশিয়া কাপ জয়ের পর এবারও শিরোপা ধরে রেখেছে দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারত। শুক্রবারের ম্যাচে ভারত বাংলাদেশকে হারিয়েছে ৩ উইকেটের ব্যবধানে। যদিও শেষ বলে গড়ানো ম্যাচ পরতে পরতে ছড়িয়েছে রোমাঞ্চ।

ফের ভারতই হাতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন দুর্দান্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। প্রথমবারের মত ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামা মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকেন নিয়মিত ওপেনার লিটন দাস। মিরাজের একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলার বিপরীতে মারকুটে ব্যাট চালাচ্ছিলেন লিটন। তারই ধারাবাহিকতায় মাত্র ৩৩ বলে তুলে নেন অর্ধ-শতক। ভারতীয় বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়ে দুজনে গড়েন শতরানের জুটি।

তবে দলীয় ১২০ রানের মাথায় ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের দ্বিতীয় শতরানের উদ্বোধনী জুটিটি ভাঙে। কেদার যাদবের বলে আম্বাতি রায়ুডুর বলে তালুবন্দী হলে থামে মিরাজের ইনিংস। সাজঘরে ফেরার আগে তিনটি চারের সহায়তায় ৫৯ বলে করেন ৩২ রান।

Also Read - পক্ষপাতমূলক আম্পায়ারিংয়ের শিকার লিটন?

তবে মিরাজের বিদায় দলের জন্য বয়ে আনে অমঙ্গল। উদ্বোধনী জুটি ভালো করলেও টপ অর্ডার তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ে এবারও। ১২ বলে ২ রান করা ইমরুল কায়েস যুযবেন্দ্র চাহালের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই কেদারের বলে মুশফিকুর রহিম (৫), যুযবেন্দ্র চাহাল ও রবীন্দ্র জাদেজার প্রচেষ্টায় রান আউট হয়ে মোহাম্মদ মিঠুন (২) এবং কূলদীপ যাদবের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (৪) সাজঘরে ফিরলে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ।

অবশ্য সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসা সৌম্য সরকারকে নিয়ে রানের চাকার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন লিটন। তবে ব্যক্তিগত ১২১ ও দলীয় ১৮৮ রানের মাথায় তৃতীয় আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে কূলদীপের বলে মহেন্দ্র সিং ধোনির স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন তিনি। তার ১১৭ বলের ইনিংসে ছিল বারোটি চার ও দুটি ছক্কা।

লিটনের বিদায়ের পর ইনিংসে বলার মত চেষ্টা ছিল কেবল সৌম্যর। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরার আগে ৪৫ বলের মোকাবেলায় ৩৩ রান করেন তিনি। শেষদিকে আর কেউ মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারায় ৪৮.২ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২২২ রান।

ভারতের পক্ষে কূলদীপ তিনটি এবং কেদার দুটি উইকেট শিকার করেন। চাহাল ও বুমরাহ শিকার করেন একটি করে উইকেট।

সহজ জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নামা ভারতকে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা। তবে নাজমুল ইসলাম অপুর বলে সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত হয়ে ব্যক্তিগত ১৫ রানের মাথায় ধাওয়ান ফিরে যান সাজঘরে। এর কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফেরেন নতুন ব্যাটসম্যান আম্বাতি রায়ুডু। অধিনায়ক মাশরাফির বলে তাকে তালুবন্দী করেন মুশফিক।

দ্রুত দুই উইকেট হারালেও দীনেশ কার্তিককে নিয়ে দেখেশুনে খেলছিলেন অধিনায়ক রোহিত। তবে অর্ধ-শতক থেকে ২ রান দূরে থাকা অবস্থায় অপুর হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে রুবেলের শিকারে পরিণত হন তিনি। রোহিতের বিদায়ে ভারত কিছুটা চাপে পড়ে যায়।

তবে ধীর-স্থির ব্যাটিং করে চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন কার্তিক ও ধোনি। চতুর্থ উইকেটে দুজনের গড়েন ৫৪ রানের জুটি। রিয়াদের ডেলিভারিতে ব্যক্তিগত ৩৭ রানে এলবিডব্লিউ হলে সাজঘরে ফেরেন কার্তিক, তাতে ভাঙে এই দারুণ জুটি। এর কিছুক্ষণ পর ধোনিও ফেরেন সাজঘরে, মুস্তাফিজের বলে মুশফিকের হাতে বন্দী হয়ে ব্যক্তিগত ৩৬ রানের মাথায়।

ধোনির বিদায়ের পর আরও চাপে পড়ে যায় ভারত। দলীয় ১৬৭ ও ব্যক্তিগত ১৯ রানের মাথায় চোটের কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন কেদার। জাদেজা ও ভুবনেশ্বর প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে মোটামুটি সফলও হন। তবে ২৩ রান করে জাদেজা ও ২১ রান করে ভুবনেশ্বর সাজঘরে ফিরলে শেষ ওভারে গড়ায় ম্যাচ। আবারও ক্রিজে নেমে জয়ের লক্ষ্যে চেষ্টা করে যান কেদার (২৩)। শেষপর্যন্ত কূলদীপকে সাথে করে ইনিংসে শেষ বলে ৩ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন।

বাংলাদেশের পক্ষে মুস্তাফিজ ও রুবেল দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ২২২/১০ (৪৮.২ ওভার)

লিটন ১২১, সৌম্য ৩৩, মিরাজ ৩২

কূলদীপ ৪৫/৩, কেদার ৪১/২

ভারত ২২৩/৭ (৫০ ওভার)

রোহিত ৪৮, কার্তিক ৩৭, ধোনি ৩৬

রুবেল ২৬/২, মুস্তাফিজ ২৮/২

ফল: ভারত ৩ উইকেটে জয়ী।

আরও পড়ুন: শতকের মাধ্যমে লিটনের ‘ঝড়’

Related Articles

স্পট ফিক্সিংয়ের প্রশ্নে ১৫ ম্যাচ

মান বাঁচানোর ইনিংস দিয়েই জাত চেনালেন ইমরুল

ইমরুলের বীরত্বে বাংলাদেশের জয়

লিটন ও রাব্বিকে হারানোর পর লড়ছেন ইমরুল-মুশফিক

২০২৩ বিশ্বকাপেও অংশ নেবে ১০টি দল