“আব্বা থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন”

স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পাঁচ বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেনআরও আগে শেষ হয়ে গেছে ঘরোয়া ক্রিকেটের (বিপিএল বাদে) নিষেধাজ্ঞাতাই বিগত দুই মৌসুমে খেলেছেন এনসিএল-বিসিএলের মত আসরেআগামী ১৩ আগস্ট থেকে কোনো ধরণের ক্রিকেটেই আর নিষেধাজ্ঞা থাকবে না মোহাম্মদ আশরাফুলের

এই দিনটির জন্য আশরাফুলকে করতে হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষা। অবশেষে সে কাঙ্ক্ষিত ‘মুক্তি’ যখন দ্বারপ্রান্তে, আশরাফুল সবচেয়ে বেশি মিস করছেন ওপারে পাড়ি জমানো তার বাবাকে। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় এমনটাই জানান তিনি।

Also Read - এবার সৌম্যদের টি-টোয়েন্টি মিশন

ক্রিকেটে ফিরতে মুখিয়ে থাকা আশরাফুল বর্তমানে রয়েছেন লন্ডনে। সেখানেই নিজেকে আরও তৈরি করছেন তিনি। আর নিষেধাজ্ঞা শেষে আপাতত তার লক্ষ্য আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় ক্রিকেট লিগ বা এনসিএল।

আশরাফুল বলেন, ক্রিকেটে ফিরতেই লন্ডনে আছিএখানে একটা লিগে খেলছি, ব্যায়াম করছিআমার এখন অনেক বেশি ম্যাচ খেলা দরকারসেপ্টেম্বরে জাতীয় লিগ টার্গেট করছিওখানে ভালো করার জন্য চেষ্টা করছি।’

দুই বছর আগে বাবাকে হারিয়েছেন আশরাফুল। সন্তানের দুঃসময় দেখে যাওয়া বাবা আবদুল মতিন এই সুখবর দেখলে নির্দ্বিধায় অনেক খুশি হতেন। আশরাফুল তাই অনুভবে হাতড়ে ফিরছেন বাবাকে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে যারা তার পাশে ছিলেন, তাদের জানিয়েছেন ধন্যবাদ। যদিও দেশের ক্রিকেটের একসময়ের সেরা বিজ্ঞাপন এও জানিয়েছেন, গত পাঁচ বছর তার জন্য অনেক কঠিন ছিল।

আশরাফুল বলেন, এই দিনটায় আসলে আব্বা থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেনআব্বা আজকে নাই, দুই বছর হচ্ছে আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে ফেরার অবশ্যই এই পাঁচটা বছর আমার জন্য খুবই কঠিন ছিলবিশেষ করে প্রথম দিক দিয়ে, যখন আমি খেলতে পারছিলাম নাসেই সময়টা অনেক বেশি কঠিন ছিল আমার জন্যএখন আল্লাহ্‌র রহমতে ভালো লাগছে যে সব বাধা উঠে গিয়েছেতবে এই সময়টায় আমার পরিবারের সদস্যরা, আমার বন্ধুবান্ধব আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছে, সাহস জুগিয়েছে।’

আশরাফুলের ফিক্সিং কাণ্ডের পর অনেকেই তাকে বিশ্বাসঘাতক বলে থাকেন। সমর্থকদের অনেকেই তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তবে সতীর্থদের কাছ থেকে আশরাফুল পেয়েছেন বেশ সমর্থন। একসময় যাদের সাথে জাতীয় দলে খেলেছেন, তারা দুঃসময়ে যুগিয়েছেন সাহস এবং প্রেরণা। সেই সাথে ছিলেন বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরাও।

টেস্টের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান বলেন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছে, ভরসা দিয়েছেযখনই দেখা হয়েছে সবাই স্বাভাবিকভাবেই কথা বলেছেদলের সাথে যে দূরত্বটা গত দুই বছরে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে অনেকটাই মিটিয়ে নিয়েছিসামনের মৌসুমগুলোয় ভালো খেললে বাকি থাকা দূরত্বটাও শেষ হয়ে যাবে আশা করিআমার নিষেধাজ্ঞার সময়টায় বিসিবি সভাপতি থেকে শুরু করে সবাই আমাকে অনেক সাহায্য করেছেনতাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে ১২ আগস্ট। অর্থাৎ, ১৩ আগস্ট থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে কিংবা বিপিএলে খেলতে আর কোনো বাধা থাকবে না আশরাফুলের। তবে এই সুসংবাদের মধ্যেও এটা আশরাফুল জানেন, এই মুহূর্তে জাতীয় দলে ফেরা অনেক কঠিন তার জন্য। দলে এখন অনেক প্রতিযোগিতা, যথারীতি প্রতিযোগী। তাই পারফরম্যান্সই কেবল পারে দলে সুযোগ এনে দিতে।

আশরাফুল বলেন, জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা অবশ্যই অনেক কঠিন হবেতবে আমি যদি পারফর্ম করতে পারি তাহলে বাংলাদেশ দলে অনেক জায়গা আছে যেখানে আমি সার্ভিস দিতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানো একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল। ২০১৪ সালের জুনে তাকে আট বছরের নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে বোর্ড। তবে পরে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমিয়ে পাঁচ বছর করা হয়।

আরও পড়ুন: জাতীয় দলে আশরাফুলের জায়গা দেখছেন না নান্নু

Related Articles

আমাকে বারবার বঞ্চিত করা হয় : তুষার

নাফীসের শতক, বল হাতে উজ্জ্বল সাব্বির

সৌম্যর অলরাউন্ডিং ঝলক, বরিশালে বোলারদের দিন

তাসকিন-নাঈমের পাঁচ, জাকির-রাজিনের অর্ধশতক

ব্যাটের পর বল হাতেও ভালো সূচনা তাসকিনের