Scores

‘আমরা বোর্ডে আছি বলেই তারা এত সুবিধা পাচ্ছে’

ডিপিএলে খেলোয়াড়দের যথাযথ পারিশ্রমিক না পাওয়া নিয়ে বিগত কয়েকদিন ধরে সোচ্চার দেশের প্রথম সারির ক্রিকেটাররা। দেশের ক্রিকেটারদের রুটি-রুজির মাধ্যম হিসেবে খ্যাত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে বিতর্কিত ‘প্লেয়ারস বাই চয়েজ’ পদ্ধতির আবির্ভাবে খেলোয়াড়দের অনেকেই পাচ্ছেন না প্রাপ্য পারিশ্রমিক। এ নিয়ে সম্প্রতি এক দফা বৈঠক হয়েছে খেলোয়াড়দের মধ্যে, যেখানে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং সাকিব আল হাসানের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দও। সিনিয়র ক্রিকেটারদের এমন শলা-পরামর্শে নাখোশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সহ-সভাপতি খালেদ মাহমুদ সুজন।

খালেদ মাহমুদ সুজন

‘ন্যায্য দাবি’ আদায়ে ঐ বৈঠকে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার জহুরুল ইসলাম অমিকে আহ্বায়ক করে ডিপিএলের খেলোয়াড়েরা নিজেদের মধ্যে একটি কমিটি করেছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে। তবে কোয়াবের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সুজনের মতে, ক্রিকেটাররা যে পথে হাঁটছেন এটি একটি ‘ভুল পথ’। সেই সাথে এতে খেলোয়াড়দের কোনো ফায়দা হবে না বলেও আগাম সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার।

Also Read - বাংলাদেশি কেউ টেম্পারিং করলে শাস্তি আরও কঠিন!


সুজন বলেন, ‘ওরা যদি মনে করে আমরা ওদের প্রতিপক্ষ, সাহায্য করছি না, এটা করলে ভুল হবে। তারপরেও আমি বলবো ওরা বড় হয়েছে, এটা ওদের খেলা, ওরা সিদ্ধান্ত নেবে। ওরা যদি কমিটি গঠন করে বোর্ডের সাথে লড়াই করে স্বাভাবিক থাকে, ওদেরটা আদায় করতে পারে, সেই চেষ্টা করতে পারে।’

সুজন বলেন, ‘কিন্তু এটা সবার জন্যই একটা ভুল বার্তা হবে। আমি মনে করি এখানে লড়াই করে কিছুই হবে না। এটা আলোচনার ব্যাপার। বোর্ডের সাথে আলোচনা করতে হবে। আর ওরা যদি এই কমিটির ওপরে আত্মবিশ্বাসী না থাকে তাহলে কোয়াবের তো একটা নিয়ম আছে- কমিটি বাতিল করা, নতুন কমিটি করা। নিয়মের মধ্য দিয়েই সব হবে, আমি বিশ্বাস করি।’ 

খেলোয়াড়দের অভ্যন্তরীণ সভার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সভা হয়েছে জানি। কিন্তু কি কথা হয়েছে সেটা জানি না। আমি জানি না ওরা কী চাচ্ছে। ঠিক ক্লিয়ার না। ওদের এটা ভুলে গেলে চলবে না গত অনেক বছর ধরে আমরা কোয়াবকে যেভাবে হোক টিকিয়ে রেখেছি। নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করেই টিকিয়ে রেখেছি। কেউ তো সমর্থন করতো না।’

একটা সময় বোর্ড থেকে সমর্থন পায়নি কোয়াব। সেই কোয়াব এখন অনেকটাই প্রভাবশালী। এদিকে ইঙ্গিত করে কোয়াবকে ‘বোর্ডের একটি অঙ্গ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে সুজন বলেন, ‘আমরা খুবই খুশি যে বোর্ড আমাদের অ্যাফিলিয়েশন দিয়েছে। আমাদের কথা শোনে না তারা। একটা সময় ছিল যখন বোর্ড কোয়াবের কথা শুনতোই না। খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষাটা আমাদের বড় দায়িত্ব। আবার এটাও ভুলে গেলে চলবে না, দাবি দাওয়া নিয়ে কথা বলি, তাই বোর্ডের একটা অঙ্গ; বোর্ডের অধীনেই আমরা একটা প্রতিষ্ঠান।’

কোয়াবের সভাপতি নাইমুর রহমান দুর্জয়ও সাবেক একজন ক্রিকেটার। তবে একসময়ের ক্রিকেটার হলেও বর্তমানে তিনি সফল বোর্ড পরিচালক। একই ভূমিকা সুজনেরও। এজন্য দুজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ আছে বোর্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে না পারা। তবে সুজনের মতে, তারা পরিচালক হিসেবে বোর্ডে আছেন বলেই এতো সুবিধা পাচ্ছেন ক্রিকেটাররা! তিনি আরও জানান, তারা বোর্ডে না থাকলে কিছুই পেতেন না ক্রিকেটাররা!

সুজন বলেন, ‘আমরা বোর্ডে আছি বলেই তারা এত সুবিধা পাচ্ছে। আমরা বোর্ডে না থাকলে কিছুই পেত না।’

এ প্রসঙ্গে সুজন আরও বলেন, ‘এইটুকু বলতে পারি আমি-দুর্জয় যদি বোর্ড মিটিংয়ে থাকি, বোর্ডের প্রতিনিধিত্ব করি, আমরা বোর্ড মিটিংয়ে কথাগুলো বলতে পারি। আমি-দুর্জয় এই কমিটিতে থাকবো না, এর মধ্যে বলেছিও। আমরা যদি না থাকি, যারা থাকবে তারা কিভাবে বোর্ডের সাথে লড়াই করবে। তারা তো অনুমোদিত না। কিভাবে কথা বলবে? তারা চিঠি দিতে পারে সিইও বরাবর সেটা গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।’

আরও পড়ুনঃ বল টেম্পারিং কাণ্ডে স্মিথদের বড় লোকসান

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

৬ মাসেও পরিশোধ হয়নি অলকদের বকেয়া

মুশফিকের পাশে সাবেক ক্রিকেটাররা