'আমার জীবনের অন্যতম সেরা লিগ'

প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চলল পর্দা নেমেছে ২০১৫/১৬ মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ (ডিপিএল)-এর। তবুও যেন আলোচনা থামছেই না দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক ৫০-ওভার ফরম্যাটের এই লিগ নিয়ে।

image

Advertisment

আম্পায়ারিং বিতর্ক, ভেন্যু নিয়ে জলঘোলা, তামিম-কান্ডে আম্পায়ারদের মাঠ ছাড়া, ঘাড়ে বল লেগে সোহরাওয়ার্দী শুভর ইনজুরি, ক্লাবগুলোর বকেয়া দেয়া নিয়ে টালবাহানা ইত্যাদি নানা কারণেই এবারের আসর স্মরণীয় হয়ে থাকার দাবিদার।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে একটি ইতিবাচক কারণেও চিরস্থায়ী জায়গা দখল করে নিতে পারে এবারের ডিপিএল। আর সেটি হল মাঠের খেলায় দলগুলোর মাঝে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

এদেশের ক্লাব ক্রিকেটে ঐতিহ্যগতভাবেই এতদিন হাতেগোনা দুই একটি দল ছড়ি ঘুরিয়ে এসেছে। এবারও যেমন শেষ হাসি হেসেছে বরাবরের ফেবারিট আবাহনী লিমিটেডই। কিন্তু চ্যাম্পিয়নশিপের পথে তাদের যাত্রা অতটা সহজও হয়নি।

এক পর্যায়ে তো ধারণা করা হচ্ছিল আকাশী নীলদের বুঝি সুপার লিগ পর্বেই ওঠা হবে না। কেননা সুপার লিগে ওঠার লড়াইয়ে শেষ রাউন্ড পর্যন্ত সামিল ছিল আট থেকে নয়টি দল। সুপার লিগেও লড়াই জমেছিল হাড্ডাহাড্ডি।

আর এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার ঝাঁজ আপাতদৃষ্টিতে ম্যাড়মেড়ে, অনাকর্ষণীয় প্রিমিয়ার লিগেও ছড়িয়েছিল এতটাই উত্তেজনার রেণু যে বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে ও টি২০ অধিনায়ক এবারের ডিপিএলকে দিয়ে দিলেন তার খেলোয়াড়ি জীবনের ‘অন্যতম সেরা লিগ’ এর সার্টিফিকেট।

image

প্রথম আলোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নড়াইল এক্সপ্রেস অকুণ্ঠচিত্তে বললেন, “আসলেই অনেক দিন পর খুব জমজমাট লিগ হলো। সুপার লিগের আগে এবং সুপার লিগেও অনেক ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। আমার খেলোয়াড়ি জীবনে যে কয়টা লিগ দেখেছি, সেগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সেরা।”

কিন্তু এবারের লিগ এত জমজমাট হওয়ার পেছনে রহস্য কি? এমন প্রশ্নের জবাবে মাশরাফি তুলে ধরলেন তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করলেন ঠিক কি কারণে এবার ডিপিএল এতটা আকর্ষণীয় হয়েছে।

“সবাই পারফর্ম করেছে, সেটাই মূল কারণ। নতুন কিছু খেলোয়াড় ভালো খেলেছে, জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরাও ভালো করেছে। বোলিং বলেন, ব্যাটিং বলেন সব জায়গাতেই পারফরমার ছিল। সব দলের শক্তিমত্তাও ছিল কাছাকাছি। এসব কারণেই লিগটা ভালো হয়েছে।”

মাশরাফি এবার খেলেছেন কলাবাগান ক্রীড়াচক্রের জার্সি গায়ে। অনেক চেষ্টা করেও নিজের দলকে প্রথম পর্বের গন্ডি পার করাতে পারেন নি। তাই লিগের দ্বিতীয়ার্ধটা মাঠের বাইরেই থাকতে হয়েছে মাশরাফিকে।

কিন্তু তিনি যে জাতীয় দলের কাপ্তান। নিজের খেলা বাদেও তাঁর কাঁধে আরও অনেক দায়িত্ব। আর সেজন্যই নিজে না খেলতে পারলেও কে কেমন খেলেছে, কোন খেলোয়াড়ের পারফরমেন্স কার থেকে ভাল হয়েছে এসব খুঁটিনাটি ব্যাপারে নজর ছিল তাঁর।

image

এমনকি কোন খেলোয়াড় কত রান করেছে বা ঝুলিতে কত উইকেট পুরেছে সেসব নিয়েও পড়াশোনা আছে মাশরাফির। আর তার ভিত্তিতেই তিনি ব্যবচ্ছেদ করেছেন নতুন পুরনো সকলের পারফরমেন্স। অনেকের খেলায় মুগ্ধও হয়েছেন। এমনই কয়েকজনকে নিয়ে বললেন তিনি।

“নতুনদের মধ্যে প্রথমেই বলব আল আমিনের কথা। খুব ভালো ব্যাটিং করেছে, আমি বলব এক্সট্রা অর্ডিনারি খেলেছে। কামরুল ইসলাম রাব্বী, মজিদ আর মোসাদ্দেকও খুব ভালো খেলেছে। মেহেদীর খেলা অতটা দেখিনি, সে-ও ভালো খেলেছে বলে শুনেছি।

“পুরোনোদের মধ্যে রকিবুল। তামিম সাত শর ওপরে রান করেছে। মুশফিকেরও ছয় শর ওপর রান। মাহমুদউল্লাহ সুপার লিগ খেলতে না পারলেও ভালো রান করেছে। নাসিরও খারাপ করেনি,” বললেন মাশরাফি।

– জান্নাতুল নাঈম পিয়াল, প্রতিবেদক, জান্নাতুল নাঈম পিয়াল