'আমি কোন একাডেমির ক্রিকেটার না'

 তার উত্থানটা হয়েছিল একদম সাদামাটা ভাবে। টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে হঠাৎ করেই তার আগমন। আসার সাথে সাথেই ছবির মত দৃশ্যপট পাল্টে যেতে শুরু করে। গ্রামের সেই দুরন্ত ছেলেটি আজ বিশ্বসেরা বোলারদের একজন হয়ে উঠেছেন। মুস্তাফিজের এই বন্দনা দেশ থেকে বিদেশেও ছড়িয়ে গেছে। বিশ্বকাপে তিন ম্যাচে ৯ উইকেট পেয়ে তো নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য এক উচ্চতায়। খেলছেন আইপিএলের মত আসরেও।
 
প্রথমবারের মত আইপিএলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন সাতক্ষীরার এই ছেলে। আইপিএলে দুই ম্যাচ খেলেই সবার প্রশংসার পাত্র হয়েছেন মুস্তাফিজ। তার বল খেলতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। দ্বিতীয় ম্যাচে নামার আগে ভারতের অনলাইন পত্রিকা ‘মিড ডেতে’ দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মুস্তাফিজ বলছিলেন তার শৈশবের কথা।
Mustafiz
 
শুরুর পথচলা প্রসঙ্গে মুস্তাফিজ বলেছেন, ‘আমি কখনোই বলছিনা আমি ছোট থাকা অবস্থায় খারাপ ছিলাম কিন্তু একটা নির্দিষ্ট সময়ে গিয়ে বুঝলাম সফলতা পাওয়ার জন্য পরিশ্রম প্রয়োজন। আমি জীবনের উত্থান পতনের ভেতর দিয়ে গিয়েছি কিন্তু আমার পরিবার সবসময়ে আমার পাশে ছায়া হিসেবে ছিলেন। আজকের আমি হয়েছি তাদের দোয়া, সমর্থন এবং বিশ্বাসের কারণে। তারা জানতো আমি ছোটবেলা থেকেই একটু অন্য ধরনের। পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে কখনো চাপ দেয়া হতো না। আমার হায়দারাবাদের দলের সদস্যরা জানে আমি তাদের ভাষায় অভ্যস্ত নই বাংলা ছাড়া।
 
প্রথম দলে সযোগ পাওয়ার আগে সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে মুস্তাফিজ বলেন, ‘আমার খেলা চালিয়ে যেতে কোন সমস্যা ছিলনা। কিন্তু আমার খেলার উপকরণ এবং সরঞ্জামাদি আগে তেমন উন্নতমানের ছিলনা যেটা আমি পাচ্ছি ভারতে। আমি গত ৫-৭ বছরেই নিজেকে তৈরি করেছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সরকারকে অনেক ধন্যবাদ যে তারা ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করছেন। আমি যখন বেড়ে উঠি তখন সেখানকার ট্রেনিং একাডেমিতে ভর্তি হতে পারে অস্বচ্ছলতার কারণে। আমি একাডেমির ক্রিকেটার না। আমি জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলতে জেতাম। আমি মাঠে মাঠে খেলেই বড় হয়েছি।’