আমি যতটুকুর যোগ্য আল্লাহ আমাকে ততটুকুই দিবেন : সোহান

উইকেটরক্ষণের স্কিল বিবেচনায় অনেকে এখন নুরুল হাসান সোহানকেই মনে করেন দেশের সেরা কিপার বা উইকেটরক্ষক। সাথে যদি সোহানের ব্যাটিং স্কিল যোগ করা হয়, দেশের শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে তার জায়গা না হওয়ার কোনো কারণ থাকে না। নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে সোহান পারফরম্যান্সও করেছেন মনে রাখার মত।

সোহান-আফিফের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের রোমাঞ্চকর জয়

Advertisment

জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ দলের উইকেটরক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন সোহান। উইকেটরক্ষক হিসেবে যেমন পটুতা দেখিয়েছেন, একইসাথে ফিনিশার হিসেবে নিজের সামর্থ্যও দেখিয়েছেন যখন সুযোগ পেয়েছেন তখনই। সব মিলিয়ে বলা যায়, জাতীয় দলে সোহানকে এখন নিয়মিত সদস্য হিসেবে বিবেচনা করার সময় এসেছে।

তবে জাতীয় দলে জায়গা ধরে রাখার জন্য দুশ্চিন্তা নেই সোহানের মধ্যে। তিনি নিজেকে প্রস্তুত রাখার প্রক্রিয়া ঠিক রেখে পরিশ্রম করে যেতে চান আগের মতই। তার বিশ্বাস, যতটুকুর যোগ্য তিনি, ততটুকু তিনি পাবেনই।

২৭ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান বিডিক্রিকটাইমকে জানান দলে সুযোগ পাওয়া, দল থেকে বাদ পড়া, এরপর নিজেকে প্রমাণের পর আবারও দলে ফেরা- এসব নিয়ে নিজের ভাবনার কথা।

ঘরোয়া ক্রিকেট হোক কিংবা জাতীয় দল- সোহান নিজেকে উজাড় করে দিতে চান যেকোনো মঞ্চেই। তিনি বলেন, ‘খারাপ খেললে জায়গা হারাব। আমি সবসময় কঠোর পরিশ্রম করতে চাই, এটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শতভাগ দিয়ে প্রক্রিয়াটা ঠিক রাখতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, আমি যতটুকু যোগ্য আল্লাহ আমাকে ততটুকুই দিবেন। এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে খুব বেশি ভাবতে চাই না। যেখানেই খেলি শতভাগ যেন দিতে পারি।’

সোহানের চাওয়া, কখনও প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে ব্যর্থ হলে তিনি যেন নিজেই বুঝতে পারেন নিজের ঘাটতি কোথায়। সেজন্য নিজের দুর্বলতা নিয়ে নিয়মিত কাজও করছেন। একই সাথে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন নেতিবাচক চিন্তা-ভাবনা।

সোহান জানান, ‘জাতীয় দলের বাইরে থাকাকালে নিজেকে নিজে প্রশ্ন করতাম- আমি কি শতভাগ চেষ্টা করছি? ভবিষ্যতে এমন কোনো প্রশ্ন জাগলে যেন উত্তর দিতে পারি সেই চেষ্টা করছি।’

‘নিজের উইক পয়েন্ট নিয়ে কাজ করা হয়। সবসময় সবকিছু মনের মত হয় না। যেহেতু মিডল অর্ডারে ব্যাট করি, ম্যাচ শেষ করে আসা দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। খারাপ করলে বাদ পড়ব, এসব এখন ভাবি না। পরিশ্রম করে যেতে চাই, প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে চাই। খারাপ খেললে হতাশা আসে। কিন্তু আমি নিজের প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে চাই, যতদিন ক্রিকেট খেলবো।’

ফিনিশার হিসেবে সোহানের ভূমিকা কতটা কার্যকরী তার প্রমাণ পাওয়া গেছে জিম্বাবুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া সিরিজে। তবে মিডল অর্ডারের এমন পজিশনে তিনি ব্যাট করেন যেখানে লম্বা সময় ধরে ব্যাট করার সুযোগ নেই, নেই বড় ইনিংস খেলার সম্ভাবনা।

তবে এতে সোহানের আক্ষেপ নেই। কারণ দলের জয়ে অবদান রাখাই তার কাছে মুখ্য- হোক তা ফিনিশারের ভূমিকায় কিংবা উইকেটরক্ষকের ভূমিকায়। অতন্দ্র প্রহরীর মত তটস্থ থাকতে চান ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত জুড়ে।

সোহান বলেন, ‘একটা ব্যাটসম্যানকে আমরা পঞ্চাশ-একশ দিয়ে বিচার করি। আমার কাছে পঞ্চাশ-একশ করে দল হারলে সেটার কোনো মানে নেই। তারচেয়ে বরং ১০-২০ রান করে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারলেই আমি বেশি খুশি। ব্যক্তিগত লক্ষ্য নিয়ে কখনও ভাবি না। কিপার হিসেবে আমাদের দায়িত্ব প্রত্যেক বলে মনোযোগ রাখা এবং সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করা। বোলার যেই হোক মনোযোগ সবসময় একই থাকে।’

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।