আর কতকাল ছয়ে থাকবেন আফিফ?

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দলের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট মুশফিকুর রহিমের ১০৫.৫৫। দেড়শ’ স্ট্রাইক রেট রেখে আফিফ হোসেন ধ্রুব ১২ বলে ১৮ রানের ছোট্ট ইনিংস খেলে যখন বিদায় নিলেন তখন ম্যাচ অনেকটাই হাতের বাইরে! দারুণ ছন্দে থাকা আফিফ এমন জায়গাতে নামেন যেখানে তার সামর্থ্যের সবটুকু দেওয়ার সুযোগই পান না! আর কতকাল ছয়ে থাকবেন আফিফ

বিশ্বকাপের আগে দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের তিনটিতেই আফিফ খেলেছিলেন ছয় নম্বরে। একটিতে নেমেছেন পাঁচে ও একটিতে নেমেছেন সাতে। প্রায় প্রতি ম্যাচেই দলের বিপদে হাল ধরেন তিনি। যে সিরিজে রানের জন্য ব্যাটসম্যানরা হাসফাঁস করেছেন সেখানেও ১২২.৪৭ স্ট্রাইক রেটে ৫ ইনিংসে ১০৯ রান করেন আফিফ। মিচেল স্টার্কের বলে ধ্রুপদী কাভার ড্রাইভ বা ডাউন দ্যা উইকেটে এগিয়ে এসে হাঁকানো ছক্কা প্রমাণ করে আফিফের সামর্থ্য, কাঁধের প্রশস্ততা!

Advertisment

পরের সিরিজেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। কিউইদের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের তিনটিতেই খেললেন ছয়ে। একটিতে সাতে ও অপরটিতে পাঁচে। ৩৩ বলে ৪৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলেছিলেন পাঁচে নেমে। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে আরো নিচে ব্যাট করতে হয়েছিল তাকে। আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্যারিয়ারের একমাত্র অর্ধশতকটা পেয়েছিলেন আট নম্বরে ব্যাট করতে নেমে।

ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি; ফিনিশার হওয়ায় নজর আফিফের
আফিফ হোসেন ধ্রুব। ফাইল ছবি : বিডিক্রিকটাইম

কিন্তু তার ঠিক উলটো চিত্র দেখা যায় ঘরোয়া ক্রিকেটে। ২০১৯-২০ বিপিএলে স্থানীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়া আফিফ ১৪ ইনিংসে ১৩১.২০ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৩৭০ রান। সেই ১৪ ইনিংসের মাঝে ১২ ইনিংসেই ওপেনার ছিলেন আফিফ। বাকি ২ ইনিংসে তিনি ব্যাট করেছিলেন তিন নম্বরে।

ডিপিএল টি-২০ তে আফিফ ১৩ ইনিংসে করেন ২২৫ রান। সেখানে ১৩ ইনিংসের মাঝে ছয়ের ওপরে ব্যাটিংয়ে নামেন ৮ ইনিংসে। ছয় নম্বর বা তার নিচে ব্যাট করেন ৫ ইনিংসে। টুর্নামেন্টে তার ব্যাট থেকে আসা অর্ধশতকটি ছিল ওপেনিং পজিশনে।

টপ অর্ডারে নতুন বল সামলানোর অভিজ্ঞতা যে আফিফের আছে তা ঘরোয়া ক্রিকেট যারা নিয়মিত অনুসরণ করেন তাদের সবারই জানা। ঘরোয়ার পারফরম্যান্স যদি হয় জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মানদণ্ড তাহলে যিনি টপ অর্ডারে খেলেন তাকে মিডল অর্ডার বা লেট মিডল অর্ডারে বিবেচনার কারণ অজানা।

বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে বাংলাদেশের দুর্ভাবনার নাম টপ অর্ডার, আরো সুনির্দিষ্ট করে বললে ওপেনিং জুটি। কে জানে এ সমস্যার সমাধান আমরা হাতের কাছে পেয়েও অবহেলা করছি কী না! অদূর ভবিষ্যতে আফিফে যে টিম ম্যানেজমেন্ট বাজি লাগাবে না তা বোঝা গেল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পরাজয়ের পরের সংবাদ সম্মেলনে। অধিনায়ক রিয়াদ মনে করেন ছয় নম্বরই তার জন্য ঠিকঠাক! তাই প্রশ্ন জাগে ধ্রুবতারার আলো থেকে নিজেদের নিজেরাই বঞ্চিত করছি না তো?