আর কত অবহেলিত হবেন ইমরুল কায়েস?

দেশীয় ক্রিকেটে একজন উপেক্ষিত, অবহেলিত খেলোয়াড়ের নাম হতভাগা ইমরুল কায়েস। যাকে কিনা সবসময় গণার বাইরে রাখা হয়! সবাইকে নিয়ে বিসিবির মহাপরিকল্পনা থাকলেও, সে শুধু পরিকল্পনার বাইরে থাকে। অনেক সময়ে ভালো পারফরমেন্স করলেও কখনো নিয়মিত হতে পারেনি দলে। আসা যাওয়ার মধ্যেই তার ক্যারিয়ার এখনপর্যন্ত এগিয়েছে৷ তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে সঙ্গী হিসেবে যুতসই কাউকে নাকি খুঁজে পাচ্ছে না বিসিবি।

দ্রুততম’র তালিকায় ইমরুল যেখানে চতুর্থ

সেই যুতসই ওপেনার পেতে ইতিমধ্যে কতো কাহিনীই না রচনা করলো তারা। অনেকজনকে সুযোগ দেয়া হচ্ছে বারবার এবং বারবারই তারা ব্যর্থ হচ্ছে। তারপরেও ইমরুলের কথা তাদের স্মরণে আসে না৷ ওপেনিংয়ে একজন ব্যাটিং প্রতিভাবে কে তারা এইভাবে অবহেলায় ছুড়ে আড়ালে ফেলে রাখছে দীর্ঘদিন যাবত। তামিমের সঙ্গী হিসেবে একজন ডানহাতি ব্যাটসম্যানই নাকি বিসিবির প্রথম পছন্দ। অথচ তারা সেটি বললেও সৌম্য বাঁহাতি হওয়া স্বত্ত্বেও তামিমকে সঙ্গ দিতে অনেকবার সুযোগ পেয়েছে। যেটা ইমরুল পায়নি। তখন ডানহাতি-বাঁহাতি তত্ত্ব কাজ করে না! ইমরুলকে স্রেফ অবহেলাই করা হয়।

Also Read - ‘মৃত্যুর পরও জান্নাতে যেন আমাদের একসাথে রাখে’

এছাড়া ইমরুল একজন সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও বটে, গতকাল ভালো পারফর্ম করলো এইজন্য এইসব বলছি না। সে আগেও ভালো করে দলে সুযোগ পায়নি সেই ক্ষোভ থেকে এইসব বলছি। তামিম ইমরুলের ওপেনিং জুটির পরিসংখ্যান খুব মন্দ না। দুইজনে ভালো গোড়াপত্তন করেন। এই জুটির রেকর্ডও আছে। জুটিতে ব্যর্থতার কথা বললে তার সাথে তামিমের ব্যর্থ হওয়াও কারণ হিসবে যুক্ত হবে। জুটির ব্যর্থতা শুধু একজনের ব্যর্থতার কারণে হয় না, সেটি সবাই আমরা বুঝি। তামিম ইকবালও দলে বেশ খারাপ সময় পার করেছেন।

সে দলে নিয়মিত ছিল, অবশ্য তামিমের সাথে ইমরুলের তুলনা করা উচিত হবে না। তারপরেও এটা বলতেই পারি, তামিম যে পরিমাণ সুযোগ পেয়ে দেশের সবথেকে সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছে, ইমরুল সে সুযোগ পেলে তামিমের মত দেশের ক্রিকেটের একজন সেরা ব্যাটসম্যান হতেন। তামিমের ন্যায় দলের একজন গুরত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান তাকে ভাবা হত এখন। তামিমের মত একজন ড্যাশিং ওপেনার হতেন তিনি। তামিমের ইঞ্জুরিতে যেমন গোটা বাংলাদেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়, ইমরুলের ইঞ্জুরিতেও এমন দুশ্চিন্তায় পড়তো আমাদের ক্রিকেট পাড়া।

কিন্তু ক্যারিয়ায়ে তিনি সে সু্যোগ বারবার অজানা কারণ কিংবা কারো ইশারায় পাননি! আমি যে আজগবি এইসব বলছি না, সেটা প্রমাণের জন্য ইমরুল নিয়ে এইমুহূর্তে একটা পরিসংখ্যান শেয়ার করার প্রয়োজন অনুভব করছি। একদিনের ক্রিকেটে ২০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার জন্য ইমরুল কায়েস খেলেছেন ৭১ ইনিংস, এবং ২ হাজার থেকে এখন তার ৭০ রান বেশিও। সেই ২ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁতে দেশসেরা ব্যাটসম্যান তামিম খেলেছেন ৭০ ইনিংস। সাকিব, মুশফিক এবং মাহমুদউল্লাহ যথাক্রমে খেলেছেন ৬৯, ৯১ এবং ৯৩ ইনিংস।

তাহলে সে পরিসংখ্যান দিক থেকেও পিছিয়ে না, বরং এগিয়েই আছে। তার এভারেজ রান ৩০ করে এবং স্ট্রাইক রেট ৬৮.৩১, খুব মন্দ না। হয়তো সুযোগ পেলে আরও চাঙ্গা হত তার ক্যারিয়ার। বাড়ত এভারেজ রান এবং স্ট্রাইক রেট। কেউ ইঞ্জুরি কিংবা দল বিশেষ বিপদে পড়ে দেয়াল পিঠ ঠেকে গেলে এই লোকটাকে ডাকা হয়। তখন তার কথা বিসিবির নির্বাচকদের নজরে আসে। তার প্রয়োজন অনুভূত হয়। এইতো এশিয়া কাপে যেটা ঘটলো, এইরকম আগেও ঘটেছে।

দল যখন বেশ বিপদে তখন তিনি সুযোগ পান এবং তার কাছে সবার প্রত্যাশাও বেশি থাকে। অথচ সে মুহূর্তে তার পাহাড়সম চাপের কথা আমরা ভুলে যাই৷ সেই চাপ নিতে ব্যর্থ হলে আমরা দর্শকরাই তাকে গালি দিই। এবং আমাদের নির্বাচকরা সুযোগ পেয়ে তাকে হাতছাড়া করার অভিযোগ তুলেন!! ইমরুল কায়েস কে তামিমের সাথে ওপেনিংয়ে বিসিবির ভাবা উচিত। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা দরকার। তাকে আরো সুযোগ দেয়া উচিত, তামিমের সাথে সে নিয়মিত হোক। আমার বিশ্বাস এতে ওপেনিং জুটির সমস্যা কেটে উঠবে বাংলাদেশ। ইমরুলের প্রতি এক আকাশ ভালোবাসা।

তোমার প্রতিভাকে আমরা বারবার অবহেলা করে তোমার ক্যারিয়ারকে কোনঠাসা করে রাখার জন্য আমরা অনুতপ্ত, দুঃখিত!

লেখকঃ মাসুদ আনসারী

আরও পড়ুনঃ অধিনায়কত্ব হারালেন ম্যাথিউস

Related Articles

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি

‘বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানজনক জায়গা আদায় করেছে বাংলাদেশ’