আশা জাগিয়েও হারল হং কং

২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উদ্বোধনী উইকেটেই হং কং রান তুলেছিল হং কং। জাগিয়ে তুলেছিল অঘটনের সম্ভাবনা। তবে মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় আর জেতা হয়নি হং কংয়ের। ২৬ রানে পরাজিত হয়ে এশিয়া কাপ থেকে ছিটকে পড়েছে তারা। গ্রুপ ‘এ’ থেকে সুপার ফোর নিশ্চিত করেছে ভারত ও পাকিস্তান।

আশা জাগিয়েও হারল হং কং
টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান। দ্রুতগতিতে রান তুলছিলেন দুই ওপেনার। দলকে ৪৫ রানের ভিত গড়ে দেন দুজন। তাদের জুটি ভাঙেন এহসান খান। থিতু হয়ে বিদায় নেন রোহিত শর্মা। ২২ বলে ২৩ রান করে স্পিনার এহসান খানের বলে রোহিত সর্মা ক্যাচ দেন নিজাকাত খানের হাতে।

এরপর শিখর ধাওয়ানকে সাথে নিয়ে হাল ধরেন আম্বাতি রাইডু। ১১৭ রানের জুটি গড়েন ধাওয়ান ও রাইডু। অব্যহত ছিল শিখর ধাওয়ানের রানের চাকা। শতকের দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। ৬৩ বলে অর্ধশতক পূরণ করেন আম্বাতি রাইডু। ৭০ বলে ৬০ রান করে ডানহাতি পেসার এহস্না নেওয়াজের বলে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন আম্বাতি রাইডু।

দীনেশ কার্তিককে সাথে নিয়ে আরো ৭৯ রান যোগ করেন শিখর ধাওয়ান। শতক তুলে নেন ধাওয়ান। দলীয় ২৪০ রানে ধাওয়ান হন কিঞ্চিত শাহের শিকার। ১৫ চার আর ২ ছক্কায় ১২০ বলে ১২৭ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন ধাওয়ান। পরের ওভারে মহেন্দ্র সিং ধোনিকে ফিরিয়ে দিন এহসান খান। রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান ধোনি। পরের ওভারে কিঞ্চিত শাহের বলে ইব্দায় নেন দীনেশ কার্তিক (৩৩)। তিন ওভারে তিন উইকেট হারানোর পর কমে যায় ভারতের রানের গতি।

Also Read - ক্রিকেটারদের উত্সর্জন প্রসঙ্গে তামিমের বক্তব্য

তিনশ রানের দিকে চোখ রাঙাচ্ছিল ভারত। কিন্তু তা আর হয়নি। শেষ দশ ওভারে ভারত সংগ্রহ করেছে ৪৮ রান, হারিয়েছে পাঁচ উইকেট। ১ ছয় হাঁকানো কেদার যাদব ২৭ বলে অপরাজিত ২৮ রান করেন। তাছাড়া ৯ রান করেন ভুবনেশ্বর কুমার। তিন বল খেলেও রান করতে পারেননি শার্দুল ঠাকুর। ৭ উইকেটে ২৮৫ রান করে থামে ভারত।

রান তাড়া করতে নেমে দলকে দারুণ সূচনা উপহার দেন দুই ওপেনার নিজাকাত খান এবং অধিনায়ক আনুশমান রথ। আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন নিজাকাত খান। তাকে দারুণ সঙ্গ দেন আনুশমান রথ। দুজনে মিলে হং কংকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তাদের ওপেনিং জুটির টিকেছিল ২০৫ বল। ৪ চারে ৯৭ বলে ৭৩ রান করে কুলদীপ যাদবের বলে কাভারে থাকা রোহিত শর্মার হাতে  ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন আনুশমান।

পরের ওভারেই খলিল আহমেদের বলে এলবিডব্লিউ হন নিজাকাত খান। ১১৫ বলে ৯২ রান করে সাজঘরে ফিরেন তিনি। এ নিয়ে টানা তিনবার তিনি বিদায় নিলেন নার্ভাস নাইন্টির ঘরে।

এ দুই ওপেনারের বিদায়ের পর যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে হং কং। ক্রিস্টোফার কার্টার আর বাবর হায়াত তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ১৬ রান। খলিল আহমেদের দারুণ এক ডেলিভারি কার্টারের ব্যাটের আউটসাইড এজে লেগে চলে যায় ধোনির গ্লাভসে। পরের ওভারে বিদায় নেন বাবর হায়াতও। ১৮ রান করে যুযবেন্দ্র চাহালের বলে ধোনির হাতে ধরা পড়েন হায়াত। বিনা উইকেটে ১৭৪ থেকে ১৯৯ রান তুলতেই চার উইকেট হারায় হং কং।

কিঞ্চিত শাহ এবং এহসান খান যোগ করেন ২৮ রান। কিন্তু রানের গতি ছিল ভারতের বোলারদের নিয়ন্ত্রণে। ১৫ বলে ১৭ রান করে দলীয় ২২৭ রানের মাথায় কিঞ্চিত বিদায় নেন চাহালের বলে। এক বল পরেই বিদায় নেন আইজাজ শাহ (০)। ৭ রান করে এক ওভার পরেই স্টাম্পিং হন ম্যাকেঞ্জি। ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় হং কং। শেষে এক চার ও এক ছক্কায় ১০ বলে ১২ রান করেন তানভীর আফজাল। শেষ ওভারে বিদায় নেওয়া এহসান খান করেন ২৫ বলে ২২। ২৫৯ রান করে সমর্থ হয় হং কং।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ ভারত ২৮৫/৭, ৫০ ওভার
ধাওয়ান ১২৭, রাইডু ৬০, কার্তিক ৩৩
কিঞ্চিত ৩/৩৯, এহসান ২/৬৫

হং কং ২৫৯/৮, ৫০ ওভার
নিজাকাত ৯২, আনুশমান ৭৩, এহসান ২২
চাহাল ৩/৪৬, খলিল ৩/৪৮


আরো পড়ুনঃ এশিয়া কাপ থেকে শ্রীলঙ্কার বিদায়


Related Articles

এই মিরাজ অনেক আত্মবিশ্বাসী

মিঠুনের ‘মূল চরিত্রে’ আসার তাড়না

‘আঙুলটা আর কখনো পুরোপুরি ঠিক হবে না’

এক নয় মাশরাফির তিন ইনজুরি

‘বিশ্ব ক্রিকেটে সম্মানজনক জায়গা আদায় করেছে বাংলাদেশ’