Scores

ইতিবাচক মানসিকতা পুষে সৌম্যর ভালো সময়ের আশা

মাত্র কদিন আগেই বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি থেকে বাদ পড়েছেন। এতে অবশ্য তার কোনো আফসোস নেই। বরং মনোযোগ দিচ্ছেন ভালো করার দিকেই, যাতে করে আবারও কেড়ে নিতে পারেন প্রশংসা আর সুনজর।

সৌম্যকে স্যালুট মাশরাফির

বুধবার সংবাদমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এমন ইতিবাচক মানসিকতাই প্রদর্শন করলেন সৌম্য সরকার। জানালেন, চুক্তি থেকে বাদ পড়ার মতো ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না তিনি।

Also Read - তামিমের ব্যাটে রুমানার শতক


সাংবাদিকদের সৌম্য বলেন, ‘চুক্তি থেকে বাদ পড়ছি ওই রকম কোনো কিছু চিন্তা করি না। ওইটা তো আমার হাতে না। তাদের যদি ইচ্ছা হয়, আমি ভালো খেললে তারা নেবে। ওটা আমার হাতে নাই। তাই ওটা নিয়ে চিন্তা করে কোনো লাভও নাই।’

সৌম্যর মতে, বোর্ডের অধীনে যে বিষয়গুলো সেগুলো নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণই তার নেই। তিনি বরং মনোযোগ দিতে চান ঘাটতিগুলো দূর করে পারফরমেন্স ভালো করার মাধ্যমে খারাপ সময়কে বিদায় জানাতে, ‘আমার মনে হয় আমি কতটুকু দিতে পারব, আমি কোথায় ঠিক আছি, কোথায় কী ভুল হচ্ছে, সেটাই আমার দেখার বিষয়। ওরা (বোর্ড) কী করবে, ওটা আমার বিষয় না। আমার যাঁরা স্যার আছেন, সবার সঙ্গে কথা বলে কাজ করছি। আমার যেখানে যেখানে ঘাটতি আছে, স্যাররা যেগুলো বলছেন, সেগুলো নিয়ে বেশি কাজ করছি। তা ছাড়া স্কিল নিয়ে একটু বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। হ্যাঁ, খারাপ সময় আসছে। আমার কাছে মনে হয় ভালো হয়েছে, খারাপটা তাড়াতাড়ি আসছে। আমি এখান থেকে যদি রিকভার করতে পারি, তাহলে আমার জন্য ভালো হবে।’

চুক্তি থেকে বাদ পড়লেও দলে জায়গা ধরে রাখার প্রত্যয় কমেনি একটুও। সৌম্যর ভাষ্য, ‘ভালো খেললে অবশ্যই আবার দলে আসব। চেষ্টা করছি ভালো খেলার জন্য, নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য। নিজের জায়গাটা ধরার জন্য।’

এদিকে ছোটখাটো বিরতি শেষে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ দিয়ে। এই সিরিজ সম্পর্কে সৌম্য বলেন, ‘যদি টি-টোয়েন্টি হয়, আফগানিস্তান অবশ্যই কঠিন প্রতিপক্ষ হবে। কারণ তাদের বোলিং বিভাগ অনেক ভালো। আমাদের দলও এখন অনেক ভালো। তারাও জানে কীভাবে তাদের সামলাতে হবে, কীভাবে খেলতে হবে। আসলে সবচেয়ে বড় কথা, এখন আমরা জানি কীভাবে আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে হয়।’

আফগানিস্তান টি-২০’তে ভালো দল জেনেই সৌম্য রাখছেন টাইগারদের সাফল্যের প্রত্যাশা, ‘আমাদের দলের সবাই এখন যেভাবে খেলছে, সবার এখন যেমন আত্মবিশ্বাস, সেভাবে যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারি, তাহলে অবশ্যই তাদের ভালোভাবে হারানো সম্ভব।’

একদিন আগে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো উত্থিত হয়েছে আইসিসি টেস্ট র‍্যাংকিংয়ের অষ্টম স্থানে। টেস্টে এটিই টাইগারদের সেরা অবস্থান। এই অর্জনে সৌম্য সরকার খুঁজে পাচ্ছেন স্বস্তি। দলের হয়ে খেলে তিনিও যে ছিলেন এই অর্জনের প্রত্যক্ষ এক অংশ!

সৌম্য বলেন, ‘ভালো লাগার বিষয়, এতোদিন আমরা শেষের দিকে থাকতাম এখন তাও দু’টা দলের আগে আসছি। ওই সময়টায় আমিও খেলেছি বাংলাদেশের হয়ে। তো অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। ভালোও লাগছে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে ধরে রাখতে পারবো কিভাবে। কিভাবে এর থেকে উপরে যেতে পারবে।’

র‍্যাংকিংয়ে উত্থানের এই সাফল্যকে সৌম্য দেখছেন দলের খেলোয়াড়দের দায়িত্বশীল পারফরমেন্সের ফলাফল হিসেবে। খেলোয়াড়দের দলকে এগিয়ে নেওয়ার মানসিকতার দিকে ইঙ্গিত করে সৌম্য বলেন, ‘অবশ্যই। দায়িত্ব না বাড়লে কিন্তু কেউ ভালোও খেলতো না, দলেরও রেজাল্ট হতো না। প্লেয়াররা ভালো খেলছে বলেই আমার কাছে মনে হয় দলের র‌্যাংকিং আগাচ্ছে। এখন প্লেয়াররা অনেক কষ্ট করছে। সবাই সবার জায়গা থেকে চেষ্টা করছে কিভাবে দলকে আগানো যায়, নিজেকে আগানো যায়। নিজে এবং দল দু’টো মিলে যখন ভালো হয় তখন ড্রেসিংরুমটাও ভালো থাকে, দেশের ক্রিকেটের উন্নতি হয়। সবাই ওটাই চেষ্টা করছে কিভাবে দলকে আরো উপরে নেয়া যায়।’

আরও পড়ুনঃ “ক্রিকেট আমার প্রথম ভালোবাসা”

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
Tweet 20
fb-share-icon20

Related Articles

সুপার ওভারে রশিদের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জিতল আইরিশরা

মানকাডিং বিতর্কে বিশপের কড়া জবাব

মানকাডিং বিতর্কের পর বাদ পড়ল আফগানিস্তান

রশিদকে সরিয়ে আফগানদের নেতৃত্বে আসগর

বিয়ের দাওয়াত না পেয়ে রশিদের ‘খোঁচা’