Score

কায়েসের বীরত্ব ও দারুণ বোলিংয়ে শুভসূচনা

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২৮ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে ইমরুল কায়েসের ব্যাটিং বীরত্বের পর বোলিংয়ে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন বোলাররা। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট শিকার করে জিম্বাবুয়েকে থামিয়ে দেয় ২৪৯ রানে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয় ফজলে মাহমুদের।

 

Also Read - ভিডিওঃ ১৩ চার আর ৬ ছক্কায় কায়েসের ১৪৪

কায়েসের বীরত্ব ও দারুণ বোলিংয়ে শুভসূচনা
১৪৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন কায়েস

ব্যাটিংয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেন ইমরুল কায়েস এবং লিটন কুমার দাস। শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি বাংলাদেশের। । ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই জিম্বাবুইয়ান বোলারদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। তৃতীয় ওভারেই ক্যাচ তুলেছিলেন লিটন দাস। কাইল জারভিসে বলে একটি লো ক্যাচ দিয়েছিলেন সিকান্দার রাজাকে। সফট সিগন্যাল আউট হলেও পরে থার্ড আম্পায়ার থেকে আসে নট আউটের সিদ্ধান্ত।

সুযোগ পেলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি লিটন। ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে টেন্ডাই চাতারার বলে সেফাস ঝুয়ায়োর ক্যাচে পরিণত হন লিটন। ৪ রান করে ফিরে যান সাজঘরে। অভিষিক্ত ফজলে মাহমুদের অভিষেকটা তিক্ত করার জন্য যা দরকার সেটাই যেন হলো। অভিষেকেই পেলেন ডাকের স্বাদ। রানের খাতা না খুলেই ফিরে যান সাজঘরে। ১৭ রানের মাথায় চাতারার বলে ক্যাচ তুলে দেন উইকেটরক্ষক ব্রেন্ডন টেলরের হাতে।

 

কায়েসের বীরত্ব ও দারুণ বোলিংয়ে শুভসূচনা
তৃতীয় উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়েন কায়েস ও মুশফিক।

১৭ রান তুলতেই নেই ২ উইকেট। চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মুশফিকুর রহিম এবং ইমরুল কায়েস। তবে তাদের জুটিটা বড় হতে দেননি ব্রেন্ডন মাভুতা। থিতু হওয়া মুশফিকুর রহিম (১৫) ফিরে যান মাভুতার বলে টেলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে।

 

কায়েসের বীরত্ব ও দারুণ বোলিংয়ে শুভসূচনা
৩৭ রানের ইনিংস খেলার পথে মিঠুন।

চতুর্থ উইকেটে হাল ধরেন মোহাম্মদ মিঠুন ও ইমরুল কায়েস। অর্ধশতক তুলে নেওয়া ইমরুল কায়েসকে দারুণ সঙ্গ দেন মোহাম্মদ মিঠুন। এ জুটি বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখায় বাংলাদেশকে। দুজনের ব্যাট চলছিল সমান তালে। সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন মিঠুন। মাঝে টানা দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকান কায়েস। রানার চাকাও ছিল সচল। এ জুটি থেকে রান আসে ৭১। মিঠুনের সম্ভাবনাময় ইনিংসের ইতি ঘটান কাইল জারভিস। ৩৭ রান করে জারভিসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে মিঠুন ক্যাচ দেন টেলরের হাতে।

মিঠুনের বিদায়ের পর ঘটে ছন্দপতন। ঐ ওভারেই ০ রান করে টেলরের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রিভিউ নিলেও বাঁচেননি। নিজের পরের ওভারে আবারো আঘাত হানেন জারভিস। এবার তার শিকার হন মেহেদি হাসান মিরাজ। টেলর পান নিজের পঞ্চম ডিসমিসাল।

৩ উইকেটে ১৩৭ থেকে ৬ উইকেটে ১৩৯ হয়ে যায় বাংলাদেশের। এমন পরিস্থিতিতে হাল ধরেন সাইফউদ্দিন। শতক তুলে নেন ইমরুল কায়েস। উৎসর্গ করেন নবজাতককে। ১১৮ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় শতক পূর্ণ করেন এ ওপেনার। এ যেন ছিল এক ব্যাটিং বীরত্বের উদাহরণ। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দলের চাহিদা মেটান কায়েস। দারুণ সঙ্গ দেন সাইফউদ্দিন।

কায়েসের বীরত্ব ও দারুণ বোলিংয়ে শুভসূচনা
পরিস্থিতি সামলে অসাধারণ ইনিংস খেলেন কায়েস।

শেষ ১০ ওভারে ৮৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। শেষ ওভারের আগের ওভারে আউট হন কায়েস। ১৪০ বলে করেন ১৪৪ রান। শেষ ২২ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ১৩ টি চার ও ৬ টি ছক্কা। শেষ ওভারে বিদায় নেওয়া সাইফউদ্দিন করেন ৬৯ বলে ৫০ রান। ৮ উইকেটে ২৭১ রান করে থামে বাংলাদেশ।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা দুর্দান্ত হয়েছিল জিম্বাবুয়ের। শুরু থেকেই তাদের রান রেট ছিল ছয়ের ওপর। বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চোখ রাঙিয়েই ব্যাট ঘোরাচ্ছিলেন দুই ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা এবং চেফাস ঝুয়াও। দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। কাটার মাস্টারের বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন ঝুয়াও। ২৪ বলে ৩৪ রানের এক মারমুখী ইনিংস খেলেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৪ চার ও ২ ছক্কা।

এরপর কমে আসে রানের গতি। ব্রেন্ডন টেলরকে থিতু হতে দেননি নাজমুল ইসলাম অপু। এ স্পিনারের বলে টেলর বোল্ড হন ৫ রান করে। এক ওভার পরেই বিদায় নেন অধিনায়ক মাসাকাদজা। দারুণ ক্ষিপ্রতায় রান আউট করেন মুশফিক। ২১ করে মাসাকাদজা ফিরেন সাজঘরে। রানের লাগাম ধরার পাশাপাশি দ্রুত তিন উইকেট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ।

সিকান্দার রাজাকে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন অপু। ৭ রান করে বোল্ড হন রাজা। পরের উইকেটটিও হয় বোল্ড। এবার স্টাম্পে আঘাত হানেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ২৪ রান করা ক্রিস এরভাইন ফিরে যান দলীয় ১০০ রানের মাথায়।

১০০ রানে পাঁচ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ের শেষ ভরসা ছিল পিটার মুর ও শন উইলিয়ামস। ৪৫ রানের জুটি গড়েন দুজন। এ জুটি ভাঙেন মিরাজ। মিরাজের বলে এলবিডব্লিউ হন মুর। ৪৫ বলে ২৬ রান করেন তিনি। পরের ওভারেই রান আউট হন ডোনাল্ড টিরিপানো।  জয়ের সুবাস পেতে থাকে বাংলাদেশ।

কায়েসের বীরত্ব ও দারুণ বোলিংয়ে শুভসূচনা
টাইগারদের উইকেট উদযাপন

ব্রেন্ডন মাভুতা এসে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন। মাশরাফির বলে একটি ছক্কাও হাঁকান তিনি। নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিয়ে তার ইনিংসের সমাপ্তি ঘটান মিরাজ। ২ চার ও ১ ছক্কায় মাভুতা করেন ১৬ বলে ২০।

অষ্টম উইকেটে হাল ধরেন কাইল জারভিস। তবে বলের সঙ্গে রানের পার্থক্য ক্রমশ বাড়তে থাকে। তাই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে জিম্বাবুয়ে। নবম উইকেটে জারভিস ও উইলিয়ামসের দৃঢ়তা শুধু পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমায়। নবম উইকেটের জুটিতে ৬৭ রান করেন জারভিস ও উইলিয়ামস। রিয়াদের করা ৪৯ তম ওভারে টানা দুই ছক্কা হাঁকান জারভিস। পরের বলে আবারো তেড়ে এসে খেলতে গেলেও বল কানায় লেগে চলে যায় মুশফিকের গ্লাভসে।

৯ উইকেটে ২৪৩ রান করে থামে জিম্বাবুয়ে। শেষ বলে অর্ধশতক তুলে অপরাজিত থাকেন উইলিয়ামস।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ বাংলাদেশ ২৭১/৮, ৫০ ওভার
কায়েস ১৪৪, সাইফউদ্দিন ৫০,  মিঠুন ৩৭
জারভিস ৪/৩৭, চাতারা ৩/৫৫, মাভুতা ১/৪৮

জিম্বাবুয়ে ২৪৩/৯,  ৫০ ওভার
উইলিয়ামস ৫০*, ঝুওয়াও ৩৫, মুর ২৬
মিরাজ ৩/৪৬, অপু ২/৩৮

 

আরো পড়ুনঃ  পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে


 

Related Articles

রাজপুতের কাছে ‘মাত্র তিনটি সেশনের ব্যাপার’

জিম্বাবুয়ের সামনে রান পাহাড়, বাংলাদেশের চাই ৮ উইকেট

রিয়াদের সেঞ্চুরি, টাইগারদের লিড ৪৪২

তাইজুলের পাঁচ উইকেট, ফলো-অনে জিম্বাবুয়ে

বড় ধাক্কা কাটিয়ে লড়ছে জিম্বাবুয়ে