ইমার্জিং এশিয়া কাপ: ওমানের চমক, ভারত-পাকিস্তানের শুভসূচনা

ইমার্জিং এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত অনূর্ধ্ব-২৩ দল এবং পাকিস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দল। শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে ওমান ইমার্জিং টিম।
ওমানের চমক, ভারত-পাকিস্তানের শুভসূচনা

কক্সবাজারে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের মুখোমুখি হয় ওমান ইমার্জিং টিম।  টস হেরে  প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-২৩ দল। ওপেনিংয়ে মিনোদ ভানুকা এবং পাঠুম নিসাঙ্কা মিলে গড়েন ৫৮ রানের জুটি। তবে রানের গতি ছিল ওমানের নিয়ন্ত্রণে। জয় ওদেদ্রার বলে বিদায় নেন ভানুকা। ৩৫ বলে ৩৩ রান করে ফিরেন তিনি। এরপর দলীয় ৮৬ রানের মাথায় নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিয়ে আকিব ইলিয়াস ফিরিয়ে দেন পাঠুম নিশাঙ্কা। এরপর কামিন্দু মেন্ডিস আর  চারিথ আসালাঙ্কা যোগ করেন ২৬ রান। মেন্ডিসকে (১৭) ফিরিয়ে দিয়ে এ জুটি ভাঙেন সানুথ।

Advertisment

শাম্মু আশানকে সাথে নিয়ে ৩১ রান যোগ করেন আসালাঙ্কা। ১৫ রান করে সানুথের বলে বোল্ড হন আশান। এক প্রান্ত আগলে রেখে আসালাঙ্কা তুলে নেন অর্ধশতক। বান্দারার সাথে ৫৯ রানের জুটি গড়েন আসালঙ্কা। ৬৫ বলে ৫৭ রানের মাথায় ওদেদ্রার বলে ফিরেন আসালঙ্কা। পরের ওভারে কলীমুল্লাহর বলে এলবিডব্লিউ হন জেহান ড্যানিয়েল (১)।  বান্দারা ও রমেশ মেন্ডিস মিলে যোগ করেন ৪৮ রান। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন বান্দারা। শেষ ওভারে আউট হওয়া রমেশ করেন ২৮। ২৬৮ রান করে অলআউট হয় লঙ্কানরা। ৩ উইকেট নেন  সানুথ।

জবাব দিতে নেমে দুই ওপেনার সানুথ আর জতিন্দার সিং দলকে দারুণ সূচনা এনে দেন। ৪২ রানের মাথায় ফিরে যান সানুথ। পেরেরার বলে বোল্ড হন সানুথ। পরের বলে আমির কলিমকে ফিরিয়ে দেন আপোন্সো। মোহাম্মদ নাদীমকেও দ্রুত ফেরান তিনি। ৯০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে ওমান। এরপর সেখান থেকে হাল ধরেন জতিন্দার আর সুরাজ কুমার। দলীয় ২৩৮ রানের মাত হায় ইফ্রেন সুরাজ। ৭০ রান করেন তিনি। জতিন্দার তুলে নেন শতক। এরপর ১০ বলে ২১ রানের ঝড়ো  ইনিংস খেলেন নাসিম খুশি। নাসিম রান আউট হলে সন্দ্বীপকে নিয়ে ৭ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে যান জতিন্দার। ১৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন জতিন্দার।

অন্য ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে সহজেই জিতেছে ভারতের ইমার্জিং দল। গ্রুপ ‘এ’ এর ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিং করে ১৯৩ রান করে অলআউট হয় নেপাল। ইনিংসের প্রথম ওভারেই হারায়  ওপেনার জ্ঞানেন্দ্র মাল্লার উইকেট, বোল্ড হন সৌরভ ডুবের বলে। এরপর ৫৪ রানের জুটি গড়েন কুশল ভুরতেল এবং শরদ ভেশ্বকর। ২৮ রান করে রেখাদের বলে বোল্ড হন কুশল। নিজের পরের ওভারে আরিফ শেখকেও (৩)  ফেরান তিনি। দীপেন্দ্র সিং (২৪) আর ভেশ্বকর (৪৪) মিলে যোগ করেন ৪৪ রান। কিন্তু দুজনই ফিরে যান অল্প সময়ের ব্যবধানে। ১০৪ রানে ৫ উইকেট হারায় ওমান।

এক প্রান্ত আগলে ৫৬ রান করেন পবন সারাফ। তাকে একমাত্র সঙ্গ দেন কারান কেসি। ১৬ বলে ২০ রান করে আউট হন তিনি। ৪ উইকেট নেন সৌরভ ডুবে।

জবাব দিতে নেমে দুই ওপেনার রাভি শরথ আর আরিয়ান জুয়াল মিলে গড়েন ৭৪ রানের জুটি। ৪৯ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলেন শরথ। পরের ওভারেই বোল্ড হন জুয়াল (২৪)। সানভির সিং (৫৬) আর আরমান জাফফারের (৫১*) ৯৭ রানের জুটিতে জয় পেতে কষ্ট হয়নি ভারতের। সানভিরের বিদায়ের পর রাথোরকে নিয়ে দলকে জেতান আরমান।

নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পায় পাকিস্তান ইমার্জিং দলও। ১৩৮ রান করে অলআউট হয়ে যায় প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান ইমার্জিং দল। মুনির আহমেদের ৪১ রান ছাড়া বাকিদের তেমন কোনো অবদান ছিল না আফগান দলে। ৪ উইকেট নেন পাকিস্তানের মোহাম্মদ মহসিন খান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় আফগানিস্তান।

জবাব দিতে নেমে দুই ওপেনার ওমাইর ইউসুফ আর হায়দার আলি মিলে গড়েন অর্ধশত রানের জুটি। ৩৮ বলে ৩৮ রান করেন ইউসুফ। ৫৪ বলে ১৬ রানের মন্থর ইনিংস খেলেন হায়দার। এরপর রোহাইল নাজির (৫৩*) এবং সৌদ শাকিল (৩০*) মিলে দলের জয় নিশ্চিত করেন।