SCORE

ইরফান-রকিবুলের ব্যাটে মোহামেডানের বিশাল জয়

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কাছে পাত্তাই পেল না  অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ব্যাটসম্যানদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর বোলারদের নৈপুণ্যের সুবাদে ১৫৯ রানের বিশাল জয় পেয়েছে মোহামেডান। ৯২ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন ইরফান শুক্কুর।

টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে মোহামেডান। দুই ভাই জনি তালুকদার এবং রনি তালুকদার মিলে দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন। শুরু থেকেই রানের চাকা ছিল সচল। পাওয়ার প্লে’তে মোহামেডান রান সংগ্রহ করে ৭১। ২৮ বলে ২৬ রান করে সৌম্য সরকারের বলে ধীমান ঘোষকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ওপেনার রনি তালুকদার। নিজের পরের ওভারে শামসুর রহমানকেও ফিরিয়ে দেন সৌম্য। ৮ বলে মাত্র ১ রান করেন শামসুর। দ্রুত রনি এবং শামসুরকে হারিয়ে চাপে পড়ে মোহামেডান।

Also Read - ক্রিকইনফোর সেরাদের তালিকা প্রকাশ

শামসুরের বিদায়ের পরের ওভারেই জনি তালুকদার ফিরে যান ইশাকের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ৫ চার এবং ১ ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৩ রানের ইনিংস খেলেন জনি। বিনা উইকেটে ৭১ থেকে ৭৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় মোহামেডান।

আমিনুল ইসলামকে সাথে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন রকিবুল হাসান। তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন আল-আমিন হোসেন। ২৩ বলে ১৭ রান করে ফিরে যান আমিনুল ইসলাম। ১২১ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে মোহামেডানের।

পঞ্চম উইকেট জুটিতে ইরফানকে নিয়ে হাল ধরেন রকিবুল। ১১২ রানের জুটি গড়েন দুজন। তাদের বিশাল জুটি বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় মোহামেডানকে। ৮৫ বলে ৭৭ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে রকিবুল হাসান ফিরেন আব্দুর রাজ্জাকের শিকার হয়ে। তার ইনিংসে ছিল ৮ টি চার। এরপর বিপুল শর্মাকে নিয়ে ৭৬ রান যোগ করেন ইরফান শুক্কুর। ঝড়ো ব্যাটিং করেন বিপুল শর্মা এবং ইরফান শুক্কুর। দলের রান তিনশ’ ছাড়ানোর পর বিদায় নেন ইরফান। ৮ চার এবং ২ ছক্কায় সাজানো ৮৩ বলে ৯২ রান করে ইরফান ফিরেন রাজ্জাকের বলে।

ইরফানের বিদায়ের পরের ওভারে (৪৯ তম ওভার) ঝড় তুলেন এনামুল হক। শফিউলের করা ওভারে রান যোগ হয় ১৮। এনামুল হাঁকান দুই চার এবং এক ছয়। শেষ দশ ওভারে ১০৩ রান সংগ্রহ করে মোহামেডান। শেষ বলে আউট হন বিপুল শর্মা। ২ চার ও ২ ছক্কায় ২৯ বলে ৪১ রানের ইনিংস খেলেন বিপুল। ২ চার ও ১ ছক্কায় ৯ বলে ২০ রান করেন এনামুল। তাদের ঝড়ো ইনিংস মোহামেডানকে নিয়ে যায় ৩৩৫ রানে।

অগ্রণী ব্যাংকের হয়ে দুইটি করে উইকেট পান সৌম্য সরকার, আব্দুর রাজ্জাক এবং আল-আমিন হোসেন।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অগ্রণী ব্যাংক। প্রথম ওভারেই আঘাত হানে মোহামেডান। প্রথম ওভারের তৃতীয় বলে পেসার শুভাশিষ রয় বোল্ড করেন সৌম্য সরকারকে। বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি আরেক ওপেনার আজমীর আহমেদ। ১২ বলে ৭ রান করে এনামুল হকের বলে বিদায় নেন আজমীর আহমেদ।

১৩ রানে দুই উইকেট হার‍িয়ে চাপে পড়া অগ্রনী ব্যাংকের হাল ধরেন শাহরিয়ার নাফীস এবং রাফাতউল্লাহ মোহমান্দ। তবে তাদের জুটি দীর্ঘ হয়নি। তাদের ৩৭ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৩৬ বলে চার চারে ২২ রান করেন নাফীস। পরের ওভারেই রাফাতউল্লাহ মোহমান্দকে ফিরিয়ে দেন এনামুল হক। রাফাতউল্লাহও করেন ২২ রান। ৫৭ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে অগ্রণী ব্যাংক।

সালমান হোসেনকে নিয়ে ৫৩ রানের জুটি গড়েন ধীমান ঘোষ। তবে তা মোটেও যথেষ্ট ছিল না। রানের গতিও ছিল মোহামেডানের নিয়ন্ত্রণে। তাই ম্যাচ হেলে ছিল মোহামেডানের দিকেই। ৫ চার এবং ১ ছক্কা সমৃদ্ধ ৩৫ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে কাজী অনিকের বলে এলবিডব্লিউ হন ধীমান ঘোষ। এরপর ৩৫ বলে ১৭ রান করা সালমান হোসেনকেও ফেরান কাজী অনিক।

অষ্ঠম উইকেট জুটিতে জাহিদ জাবেদ এবং আব্দুর রাজ্জাক মিলে ৩০ রান যোগ করলেও তা শুধুমাত্র পরাজয়ের ব্যবধান কমায়।  ১৭ রান করে শুভাশিষের শিকার হন জাহিদ। ২৩ রান করে পরের ওভারেই রান আউট হন রাজ্জাক। শফিউল ইসলাম (১৪) এবং মোহাম্মদ ইশাককে (৬)  ফিরিয়ে দিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের লেজ গুটিয়ে দেন বিপুল শর্মা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর ঃ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ৩৩৫/৭, ৫০ ওভার
ইরফান ৯২, রকিবুল ৭৭, জনি ৪৩, বিপুল ৪১*
সৌম্য ২/৩২, আল-আমিন ২/৭০, রাজ্জাক ২/৭২

অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৭৬ অলআউট, ৩৭.৪ ওভার
ধীমান ঘোষ ৪০, রাজ্জাক ২৩, রাফাতউল্লাহ ২২, নাফীস ২২
বিপুল ২/২২, শুভাশিষ ২/২৯, এনামুল হক ২/৩৫

ম্যাচসেরাঃ ইরফান শুক্কুর (মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব)

[আরও পড়ুনঃ ক্রিকইনফোর সেরাদের তালিকা প্রকাশ]

Related Articles

জোড়া সেঞ্চুরিতে খেলাঘরের বড় জয়

তানভীরের ঝড়ে বিধ্বস্ত অগ্রণী ব্যাঙ্ক