ইয়াসির আলী- অপেক্ষার শেষ কোথায়?

২০১৯ সালের কথা। বছরের শুরুর দিকে বিপিএলে নজরকাড়া পারফরম্যান্সে ইয়াসির আলী চৌধুরী নজরে আসেন নির্বাচকদের। ২৮ ছুঁইছুঁই গড় আর ১২৪ ছাড়ানো স্ট্রাইক রেটে ৩০৭ রান করে টুর্নামেন্টের সপ্তম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন ইয়াসির। স্বভাবতই ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ইয়াসিরকে নিয়ে ভাবনা শুরু করেন নির্বাচকরা।

Advertisment

ভাবা হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জন্য হার্ডহিট করতে পারা ইয়াসিরকে প্রস্তুত করা যায়। ইয়াসিরকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনার কথাও শোনা গিয়েছিল তখন। বিশ্বকাপের আগে দলের সাথে আয়ারল্যান্ড সফরেও নিয়ে যাওয়া হয়; পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায়।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে ছিলেন না ইয়াসির, তবে বিশ্বকাপের পর থেকে স্কোয়াডে ডাক পাওয়া শুরু তার। ২০১৯, ২০২০ পেরিয়ে এখন ২০২১ সাল চলে এসেছে। ইয়াসিরের প্রাপ্তি সীমাবদ্ধ ডাক পাওয়ার মধ্যেই। এখনও স্কোয়াডের অংশ হয়েই বিভিন্ন সফরে যাচ্ছেন, কখনও হোম সিরিজেও দলের সাথে থাকছেন, মাঝেমধ্যে বদলি ফিল্ডার হিসেবে ফিল্ডিংও করছেন টেস্টের মত মর্যাদার ফরম্যাটে। সেখানেও নিবেদনে কমতি নেই! ক্যাচ ধরছেন টুকটাক, আবার দেশে ফিরে পরের সফরে যাচ্ছেন, আবার দেশে ফিরে হয়ত অংশ হচ্ছেন কোনো হোম সিরিজের।

কিন্তু অবাক করা বিষয়, এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকই হয়নি ইয়াসিরের। আর সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হচ্ছে, এখন নির্বাচকরা ইয়াসিরকে বিবেচনা করছেন কেবল টেস্টের জন্য। শুরুতে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিষ্ট খুঁজতে গিয়ে এখন কী এমন হল যে ইয়াসির শুধু টেস্টের প্লেয়ার হয়ে গেলেন? উত্তরটা বোধহয় নির্বাচকরাই ভালো দিতে পারবেন!

ঘরোয়া ক্রিকেটে ইয়াসিরের পারফরম্যান্স খুব আহামরি না হলেও একেবারে ফেলে দেওয়ার মত নয়। ২০১২ সালে শুরু হওয়া প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে গড় ৫১। তার এক বছর পর শুরু হওয়া লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে গড় প্রায় ৩৫, সাথে ৮০ স্ট্রাইকরেট। আর ২০১৫ সালে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার শুরু করে গড় ২৭ ছুঁইছুঁই, যেখানে স্ট্রাইক রেট প্রায় ১২৩। ঘরোয়া ক্রিকেটে নজরকাড়া এরকম পারফরম্যান্সেই হয়ত দলে সুযোগ পেয়েছিলেন কিংবা এখনও পাচ্ছেন ইয়াসির। কিন্তু এখন পর্যন্ত খেলতে পারেননি একটি ম্যাচও।

২০১৯ সাল থেকে দলের সাথে ‘ঘুরছেন’ ইয়াসির। ২০১৯, ২০২০ পেরিয়ে ২০২১ সালের অর্ধেকও পেরিয়ে গেছে। করোনার প্রকোপে খেলা বন্ধ হয়ে আবার শুরুও হয়ে গেছে পুরোদমে, কিন্তু ইয়াসিরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকটা আর হয়নি। নষ্ট হচ্ছে সময়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইয়াসিরের ক্যারিয়ার। আর সবচেয়ে শঙ্কার কথা হল- আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করার আগেই বেশ বড়সড় মানসিক ধাক্কার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইয়াসিরকে। হয়ত তার মনোবলও হ্রাস পেয়েছে অনেকখানি। ইয়াসিরের অপেক্ষা আর দীর্ঘায়িত না হোক, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার পথচলা দ্রুতই শুরু হোক। বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এমন কামনা কমবেশি সবারই।

  •  রাইসান কবির 

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।