Scores

উঠা-নামায় ভরা সৌম্যর ক্যারিয়ার, প্রত্যাশা ধারাবাহিকতার

 

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারনে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্মরনীয় কিছু ম্যাচ ও খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত কিছু সাফল্য-ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছেন বাংলাদেশ দলের ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকারের কথা।

দ্রুত মাঠে ফিরতে চান সৌম্য

Also Read - করোনার বিপক্ষে লড়তে সাকিবের পাশে এইস


সৌম্য সরকার প্রথম আলোচনায় আসেন কাতারের বিপক্ষে ডাবল সেঞ্চুরি করে অনূর্ধ্ব ১৯ লেভেলে ২০১২ সালে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও খেলেন। জাতীয় দলে প্রথম সুযোগ পান জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ সালে। অনেকটা অবাক করে দিয়েই সেখান থেকে ২০১৫ সালের স্কোয়াডেও জায়গা পান সৌম্য। বিশ্বকাপে খুব বড় কিছু করতে না পারলেও তার আত্মবিশ্বাস নজর কেড়েছিল ক্রিকেট ভক্তদের। এরপরের গল্পটা যেনো রূপকথার মতো।

ঘরের মাটিতে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বড় সাফল্য পান সৌম্য। এই তিন সিরিজে যেন ভক্তদের নয়নের মণিতে পরিণত হন তিনি ।

তবে ভালো সময় যত তাড়াতাড়ি এসেছিল, তা চলে যেতেও বেশি দেরি করেনি। পরবর্তীতে বিপিএল ও দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি সৌম্য। এশিয়া কাপ বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৬ সালে কোনটিতেই তেমন বলার মতো পারফরম্যান্স ছিলোনা তার। টেস্টে তাকে দিয়ে চেষ্টা করা হলেও টেস্টে বলার মতো কোন সাফল্য পাননি সৌম্য তখন।

ব্যর্থতা যেন ২০১৭ সালেও তার পিঁছু ছাড়েনি। শ্রীলঙ্কা সিরিজে টেস্টে কিছু অর্ধশতক ছাড়া বলার মতো তেমন পারফরম্যান্স ছিলনা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ইংল্যান্ডের মাটিতে বাজেভাবে ব্যর্থ হন সৌম্য। যার ফলে টেস্ট ও ওয়ানডে উভয় দল থেকেই বাদ পড়েন ২০১৮তে। বিপিএলও ভালো কাটেনি ঐ বছর।

তবে ২০১৮তে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক শতক যেন আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয় বছরের শেষের দিকে। পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও রান পান। নিউজিল্যান্ডে টেস্ট ও ওয়ানডে কোথাও ধারাবাহিক রান না পেলেও টেস্টে তার একমাত্র শতকটি ছিল চোখে লাগার মতো। বিশ্বকাপের আগে ত্রিদেশীয় সিরিজে ধারাবাহিক রান আসে তার ব্যাট থেকে। আশা করা হচ্ছিল বিশ্বকাপে হয়তো দেখা যাবে এক নতুন সৌম্যকে।

সবাইকে হতাশ করে দিয়ে আগের ঘটনার পুনরাবৃত্তিই ঘটে বিশ্বকাপে। কিছু ছোট আক্রমনাত্মক ইনিংস ছাড়া বিশ্বকাপে বলার মতো তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। বিশ্বকাপের পর ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে দল থেকে আবার বাদ পড়তে হয় সৌম্যকে।

এরপর বিপিএল যেন তার ক্যারিয়ারে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে। প্রথমবারের মতো বিপিএলে সফলতা পান সৌম্য। ২০২০ এ বিয়ের জন্য জিম্বাবুয়ে সিরিজের অনেকটাই মিস করেন। তবে ফিরে এসে টি-টোয়েন্টিতে ঝলক দেখা গিয়েছে সেই ২০১৫ সালের আত্মবিশ্বাসী সৌম্যর।

করোনার কারণে সামনে কয়েকমাস মাঠে নামতে পারবেন না বাকি সবার মতোই, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যখন খেলা শুরু হবে তখন ভক্তদের প্রত্যাশা থাকবে তার ধারাবাহিকতার। তার মতো ট্যালেন্টেড খেলোয়াড়রা যদি ধারাবাহিক হয়ে যায় তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জয়ের সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ইতোমধ্যে লম্বা সময় কাঁটিয়ে ফেলেছেন সৌম্য, কিছুদিন পর হয়তো সিনিয়র খেলোয়াড় তকমাটা গায়ে লেগে যাবে। সিনিয়র খেলোয়াড়দের কাছে সিনিয়রদের মতোই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং দেখার কামনা থাকবে সকল টাইগার ফ্যানদের।

Related Articles

বাংলাদেশ গাইডলাইন না মানলে স্থগিত হবে সিরিজ : এসএলসি

‘বাংলাদেশিরা বাংলাদেশ থেকে শ্রীলঙ্কায় নিরাপদে থাকবে’

ম্যাচ সিচুয়েশনে টাইগারদের অনুশীলন

বড় ইনিংস খেলতে চান শান্ত

শুধু বাংলাদেশের সিরিজ নয়, পেছাচ্ছে এলপিএলও