Scores

উনপাঁজুরে স্টেন নিকোলস, মূল দোষী কে বা কারা?

স্টেন নিকোলস হ্যাডলি ভ্যারাইটিকে সজোরে ওভার বাউন্ডারি মেরেছিলেন ঠিকই, কিন্তু! কি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত, অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটেছিলো সেদিন কোলচেষ্টার কাউন্টি গ্রাউন্ডে? ইতিহাস হাতড়ে আজকে না হয় আবারো কালের দিনলিপিতে লিপিবদ্ধ সেই বিরল অনুকাহিনীতে ডুব দেবো পাঠকদের সাথে।

উনপাঁজুরে স্টেন নিকোলস, মূল দোষী কে বা কারা

দিনটি ছিলো ৫ জুলাই, ১৯৩৫ সাল। নির্বন্ধের পটভূমি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপে ইয়র্কশায়ার বনাম এসেক্সের মধ্যকার নিরামিষ ম্যাচটা। সোজা কথায় বললে ক্রীড়াগত পরিভাষায় যাকে বলে নিয়মরক্ষার ম্যাচ! অতিথি দল ইয়র্কশায়ারের মাথায় ইতিমধ্যে আন-অফিশিয়ালি উঠে গেছে সেবারের মৌসুমের চ্যাম্পিয়নের মুকুট। ডার্বিশায়ারের ৬৩.৩ পয়েন্টের বিপরীতে তাদের সংগ্রহ ৭১.৩, ৮ পয়েন্টের বিস্তর ফারাক দু’দলে। পয়েন্ট সংগ্রহের বিচারেই একথা স্পষ্টত উক্ত মৌসুমে একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রদর্শন করেছিলো ইংল্যান্ডের ক্লাব পাড়ার দলটি।

Also Read - 'চায়নাম্যান' যেভাবে এল


 

 

স্বাগতিক বোলাররা আগন্তুকদের প্রথম ইনিংসটা খুব একটা লম্বা করতে দেয়নি, ২৫৩ রানেই যবনিকা পড়ে তাদের। তবে, বোলারদের নৈপুণ্যতার দাম দিতে ব্যর্থ হয় এসেক্সের ব্যাটসম্যানেরা। উভয় ইনিংসে তাদের স্কোরবোর্ডে জমা পড়ে যথাক্রমে ১৫০ এবং ১০৫ রান। ফলাফল ২২৬ রানের এভারেস্টসম বিশাল জয় পায় ইয়র্কশায়ার। বিল বোয়েস ও হ্যাডলি ভ্যারাইটির বোলিং জুটির সম্মুখে একেবারে ওষ্ঠাগত অবস্থা হয় এসেক্সের উইলোধারীদের। আর দাঁড়ানো তো দূর নুন্যতম প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি কেউ। বোয়েস ও যে ছিলেন দূর্বোধ্য, দূর্বার। আগের ম্যাচে খর্বশক্তির নর্দানপোটনশায়ারের ব্যাটসম্যানদের যে একপ্রকার অগ্নিপরীক্ষায় নিয়েছিলেন তিনি সে তার ম্যাচ ফিগারেই পরিষ্কার। প্রথম ইনিংসে ১৮ রান দিয়ে ৮ উইকেটে আর দ্বিতীয় ইনিংসে পূর্বের তুলনায় ১ রান কম খরচায় তুলে নেন আবারো সমসংখ্যক ৮ টি উইকেট। নর্দানপোটনশায়ারের ব্যাটারদের নিয়ে ছেলেখেলার দিনে দুই ইনিংসে তাদের দলের এগারোজন মিলে যোগ করে যথাক্রমে ৬২ এবং ৫২ রান।

বোয়েস কাব্যের ইতি টেনে এবারে আসা যাক মূল পর্বে। আলোচ্যকথার দেখা মিলে ম্যাচের শেষ দিনে। আগের দিনের দলীয় ২২৬ রানের সাথে মাত্র ২ রান যোগ করে অকস্মাৎ সকাল সকালেই  ইনিংস ঘোষণা করে ইয়র্কশায়ার। এসেক্সের লক্ষ্য স্থির হয় ৩৩২ রান, টেস্ট ম্যাচের অন্তিম দিনে যাতে পৌঁছানো এককথায় অসম্ভব। তবে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ার মোক্ষম সুযোগ অবশ্য ছিলো তাদের সামনে, কিন্তু বিধিবাম! লজ্জার হারের সাথেই সখ্যতা গড়তে হয়েছিলো তাদের। ইনিংসের প্রাক্কালেই বোয়েসের দূর্দান্ত এক স্লোয়ারে কুপোকাত ওপেনার জিম ক্যাটমোরে। আরেক গোড়াপত্তনকারী রয় শেফিল্ড এবং স্টেন নিকোলস শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে রান নিয়ে যান ৩৯ এ। যদিত্ত, পুনঃনির্মিত দূর্গে আবারো বোয়েসের হানা, খাপখাইয়ে নেয়া শেফিল্ড দিয়ে বসলেন লেল্যান্ডের হাতে ক্যাচ। ব্যস বোয়েসের উইকেট শিকারের তালিকায় যুক্ত হলো আরো একখানা নাম।





 

নিকোলসের সাথে তালমিলের হেরফেরে ব্যক্তিগত মাত্র ২ রানে  রান-আউটের বলি জ্যাক ক’নর। সেনানায়ক টম পিয়ার্সের (০) বিদায়ে চোখের পলকে এসেক্সের স্কোর ৪১/৪। পরবর্তীতে আসবেন নবাগত ব্যাটসম্যান চার্লি ব্রে। বোয়েসের ওভার শেষে অন্যপ্রান্তে বল হাতে প্রস্তুত ভ্যারাইটি। দ্রুত উইকেট পতনে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে খোলসে ঢুকে গেছে এসেক্স। জড়তা এড়াতে নিকোলস বেছে নিলেন সাহসী এক পন্থা, কাউন্টার এ্যাটাক! ভ্যারাইটির লেগ স্ট্যাম্পের গোড়ায় দেয়া বলকে দিশা দেখালেন গ্যালারির, ক্রিকেটীয় ব্যাকরণে যার পরিচিতি ওভার-বাউন্ডারি নামে। গ্যালারিতে উন্মাদনা, কিন্তু মাঠে তো ভিন্ন দৃশ্য।






পটাপট উইকেট পতনে এসেক্সের ব্যাটিংয়ে অধঃপাত, সাথে মাঠে বিরাজমান উন্মত্ততায় দূর্ভাগ্যক্রমে সবার চক্ষুগোচরে ঘটে যায় এক বিরল ঘটনা। নন-স্ট্রাইকিং প্রান্ত যে শূন্য, সেখানে নেই ব্রে। মাঠে উপস্থিত ফিল্ডার, আম্পায়ারদ্বয়, নিকোলস এমনকি দর্শকমহলের কারোরই চোখ পড়েনি সেদিকে। তবে, আজকের ক্রিকেট তথা প্রযুক্তির আধুনিকায়নের আমলে সকলের কাছেই সেদিনের সেই কাহিনী হাস্যকর, উপরন্তু আজগুবিও বটে! অথচ সেদিন কর্তব্যরত দুই ম্যাচ পরিচালকের একজন ছিলেন লেন ব্রন্ড যার নামের পাশে ছিলো কিনা বর্ষসেরা আম্পায়ারের উপাধি আর আরেকজন ফ্র‍্যাঙ্ক চেষ্টার যিনি তার স্বচ্ছ আম্পায়ারিংয়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন। ম্যাচ অন্তে তাদের উপরে বর্ষিত হয়েছিলো কটুক্তি আর সমালোচনার বজ্র বৃষ্টি। কিন্তু তারা কিভাবে এমন ভুল করলেন? তা আজোও প্রশ্নবিদ্ধ!

মাঠে হ-য-ব-র-ল অবস্থা, নিজেদের করা ভুলে ব্রন্ড এবং চেষ্টার যখন রীতিমতো অনুতাপে পুড়ছেন ঠিক তখনই তাদের বিভ্রান্তির পালে হাওয়া দিলো উইকেটে ব্রে’র উপস্থিতি। সকলের মনে তখন তিনটে প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। প্রথমত ছক্কাখানা কি অনুমোদন পাবে, দ্বিতীয়ত নিকোলাসের ব্যক্তিগত রানের খাতায় কি রান বাড়বে তৃতীয় প্রশ্নটি একটু বাঁকা গোছের –  নিকোলস-ব্রে জুটিকে কি মাঠের বাইরে প্রেরণ করা হবে? তবে, সিদ্ধান্ত এলো নিকোলসের বিপক্ষে। কোন রান যোগ হলো না তার কিংবা দলের খাতায়। এমন সিদ্ধান্তে সত্যিকার অর্থে যেকোন ব্যাটসম্যানেরই হতাশায় ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক। ফর্মে থাকা ভ্যারাইটির বল সীমানার বাইরে পাঠানোটা আদৌতেও সহজ ছিলো না বটে। তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়া নিকোলস পরের বলেই লেগ বিফোর উইকেটের (এলবিডাব্লু) শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন। তবে, পরিশেষে নিকোলসের হা-হুতাশের তরে ব্যাটিং সঙ্গী ব্রে – কে কি দোষ দিলে পাপ হবে?

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর

ইয়র্কশায়ার ২৫৩ (ব্রায়ান সেলারস ৬৯; স্টেন নিকোলস ৬৪ তে ৪, জন স্টিফেনসন ৯২ এ ৪ উইকেট) এবং ২২৮/৫ ডিক্লেঃ (উইলফ বার্বার ৭৩, ব্রায়ান সেলারস ৫৭; ভিক্টর ইভান্স ৩৭ রানে ৪ উইকেট)

এসেক্স ১৫০ (বিল বোয়েস ৫৮ তে ৭) এবং ১০৫ (বিল বোয়েস ১৯ রানে ৩, হ্যাডলি ১৭ রানে ৫ উইকেট)।

ফলাফল : ইয়র্কশায়ার ২২৬ রানে জয়ী।

লেখক : বিপ্রতীপ দাস

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

২০২১ টি-২০ বিশ্বকাপ ভারতে, বাড়ল অস্ট্রেলিয়ার অপেক্ষা

আইপিএলের জন্য সিরিজ পেছাল ইংল্যান্ডও

আবারো সন্ত্রাসী হামলার শিকার পাকিস্তানের ক্রিকেট

শীঘ্রই দেশে ফিরছেন সাকিব

১১ নং ব্যাটসম্যানের নির্ভয় ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষেরও করতালি