Scores

ঋণ দিয়ে উইন্ডিজ সফর করেছিল বাংলাদেশ

গত বছরের জুলাই-আগস্টে ক্যারিবিয়ান দীপপুঞ্জ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশের সফরটি উইন্ডিজ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে দৈনিক কালের কন্ঠ। উল্লেখ্য, সেই সফরের ২ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হারলেও, ৩ ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ।

এই সফরের মাস দেড়েক আগে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের (সিডাব্লিউআই) এর প্রেসিডেন্ট ডেভ ক্যামেরন বাংলাদেশে ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান যে বাংলাদেশের ওই সফরটি আয়োজন করার মতো আর্থিক সংগতি তাদের নেই। তবে বিসিবি ঋণ সহায়তা দিলে সেটি আয়োজন করা সম্ভব বলে জানান তিনি। অন্যথায় সফরটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার আভাসও দেন তিনি। আর এতেই নড়েচড়ে বসে বিসিবি।

গত বছরের জুলাই-আগস্টে উইন্ডিজ সফরে যায় বাংলাদেশ দল

 

Also Read - কামিন্সের হাতে উঠলো অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরার পুরস্কার

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচির মাঝে কোন সিরিজ স্থগিত হলে সেটি আবার কবে নাগাদ আয়োজন করা সম্ভব, সেই সংশয় থেকেই যেত। ২০১৮ সালে স্পনসর পাওয়া যাবে না এমন অযুহাতে অস্ট্রেলিয়ার মতো বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম ধনী বোর্ডের পাওনা টেস্ট সিরিজ স্থগিতের বিষয়টি তখন ছিল বেশ টাটকা। তাই উইন্ডিজ সফর নিয়ে কোন ঝুঁকি নিতে চায়নি বিসিবি তখন। তাই বিসিবি সিদ্ধান্ত নেয় সিডাব্লিউআইকে ঋণ দেয়ার।

২৩ জুন রাতে বাংলাদেশ দল পৌছায় ক্যরিবিয়ানে। কিন্তু তারও প্রায় একমাস আগে (২৪ মে) সিডাব্লিউআইয়ের প্রধান নির্বাহী জনি গ্রেভ ৪.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠান। চিঠিতে জানানো হয়, ২টি টেস্ট ও ৩টি করে ম্যাচের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের জন্য আনুমানিক খরচ হবে ৩ মিলিয়ন ডলার, যা তাদের চেয়ে পাঠানো ঋণের পরিমাণের চেয়ে ১.৫ মিলিয়ন কম। শেষে আলোচনার পর বিসিবি ২ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রদানে সম্মত হয়।

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিবছর জানুয়ারী ও জুলাই মাসে তাদের মোট আয়ের রাজস্ব সদস্য দেশগুলোর মাঝে বন্টন করে দেয়। আর এই ঋণের টাকার পরিমাণ ছিল আইসিসির কাছ থেকে পেয়ে আসা সেই রাজস্ব আয়ের একটি কিস্তির সমান। নিজাম উদ্দিন চৌধুরী জানান, গত বছর আইসিসির কাছ থেকে বিসিবি পেয়েছিল ৯ মিলিয়ন ডলার। এই বছরে সেই টাকার পরিমাণ বেড়ে ১২-১৩ মিলিয়নে দাঁড়াবে বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, “এই ঋণ দেয়ার মাধ্যমে বিসিবির আর্থিক শক্তিই প্রমাণিত হয়েছে।

নিজাম উদ্দিন চৌধুরীর কাছ থেকে এই ঋণ দেয়ার প্রক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি খোলাখুলিভাবেই আইসিসির সংযুক্ততার কথা জানান। তিনি বলেন, ” এখানে আইসিসিকে সাক্ষী বলতে পারেন। নিজেদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সিডাব্লিউআই আমাদের অনুরোধ করে। আমরাও দেখলাম যে কোন অসুবিধা নেই। কারণ এই অর্থ আইসিসির মাধ্যমেই দেয়া হয়েছে । পুরো প্রক্রিয়ায় আইসিসিও একটি অংশ। কেননা ক্যারিবিয় রাজস্ব আয়ের ভাগ থেকে কেটে আইসিসি আমাদের অর্থটা দিয়ে দিচ্ছে ।

সেই সফরের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাংলাদেশ দল

 

২০১৮ সালের জুলাইয়ে বিসিবির প্রাপ্য দ্বিতীয় বার্ষিক কিস্তির ৪.৫ মিলিয়ন ডলার থেকে বিসিবির সম্মতিতে সিডাব্লিউআইকে দুই মিলিয়ন ডলার দিয়ে দেয় আইসিসি। এই শর্তে যে ২০১৯ সালে ক্যারিবিয় বোর্ডের প্রাপ্য দুই কিস্তির প্রতিটি থেকে আইসিসি এক মিলিয়ন ডলার করে কেটে, সেই অর্থ জমা করবে বিসিবির কোষাগারে।  এই ঋণ প্রদান যে বিনা সুদে হয়নি তাও জানান বিসিবির প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, “ স্ট্যান্ডার্ড যে ইন্টারেস্ট রেট, সেটিই এই ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে। এটাকে বলতে পারেন জেন্টলম্যান অ্যাগ্রিমেন্ট ।”

জানা গেছে, বিসিবি এই ঋণ প্রদান করেছে “প্রো-রেটা” ভিত্তিতে, ৪.৫ শতাংশ সুদে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পুরোটা পরিশোধে সুদের অংক আনুপাতিক হারে কমবে, নির্দিষ্ট সময়ের পরে শোধ করবে আনুপাতিক হারে বাড়বে। ২০১৯ সালে নির্দিষ্ট সময়সীমা অর্থাৎ আগামী জুলাইয়েই সুদসহ এই টাকা পাওয়ার কথা আছে বিসিবির।

এই ঋণ না দিলে হয়তো অস্ট্রেলিয়া সফরের মতো এই সফরটাও বাতিল হয়ে যেত বাংলাদেশের, যা হতে পারতো এদেশের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় এক ক্ষতি।

[আরও পড়ুনঃ যে বাংলাদেশি বোলারে মুগ্ধ ড্যানি মরিসন]

Related Articles

বিশ্বকাপের আগে সুখবর পাচ্ছেন রাসেল-পোলার্ডরা!

বিশ্বকাপে চোখ পোলার্ডের

ফাইনালে যেকোনো দলকে হারাতে পারে উইন্ডিজ!

টি-টোয়েন্টি ম্যাচে চন্দরপলের ডাবল সেঞ্চুরি!

‘বিশ্বকাপ জিততে প্রয়োজনীয় সবকিছু আমাদের আছে’