ভিডিও: পরিবার নিয়ে খোলামেলা আলাপ করলেন রুবেল

0
1245

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা করা হল। স্কোয়াডে রুবেল হোসেন নামের এক তরুণ। পত্র-পত্রিকায় খবর ছাপা হল— নতুন মুখ রুবেল! সেই রুবেল নতুন মুখ থেকে কবে যে জাতীয় দলের পুরনো ও বিশ্বস্ত এক মুখ হয়ে উঠলেন… কত কিছু যেন হয়ে গেল চোখের পলকেই!

“এই পর্যায়ে আসব সেটা কল্পনাও করিনি”
ফাইল ছবি: বিডিক্রিকটাইম

ক্যারিয়ারে ছেদ ঘটাতে পারত— এমন বিতর্কে জড়িয়ে হতাশায় ভুগছিলেন। সেই বিতর্ক পেছনে ফেলে সাথে সাথেই নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে জাত চিনিয়েছিলেন দুর্দান্ত বোলিং দিয়ে। যেন ধ্বংসস্তূপ থেকে মাথা তুলে বলা— আমি ফুরিয়ে যাইনি! সে ২০১৫ বিশ্বকাপের কথা।

Advertisment





আগ্রাসী পেসার বলে তাকে যখন কেউ দেখেন (বলা বাহুল্য, তাকে খেলার মাঠেই বেশি দেখা হয়) তখন মনে হয় বুঝি খুব রাগী কিংবা কাঠখোট্টা। তবে ব্যক্তি রুবেলের সরলতা আর সহজ জীবনবোধ যে কাউকেই মুগ্ধ করতে পারে। জীবনের বাজে সময় সব পেছনেই ফেলে এসেছেন বলে বিশ্বাস তার। শুভ ও সুন্দরকে সঙ্গী করে বেঁচে থাকতে চান আগামী দিনগুলোতে, ‘মানুষের প্রিয় রুবেল’ হয়ে।

আর সেজন্য রুবেল ক্রিকেট দিয়েই নিজেকে প্রমাণ করতে চান। বিডিক্রিকটাইমের সাথে একান্ত আলাপকালে ২৯ বছর বয়সী ডানহাতি পেসার বলেন, ‘মানুষের জীবনে ভালো সময়-খারাপ সময় আসবে। জীবনে ভুল হতে পারে। সবসময় মানুষের সাথে মেশার চেষ্টা করি, মানুষ যাতে ভালো বলে। যেহেতু আমি ক্রিকেটার, আমি ভালো ব্যবহার ও ভালো পারফর্ম ছাড়া নিজেকে প্রমাণ করার জায়গা নেই। সেটা দিয়েই প্রমাণের চেষ্টা করি। একটা মানুষের ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’






ক্রিকেটই রুবেলের রুটি-রুজির ক্ষেত্র, ক্রিকেটেই বেঁচে থাকা। ‘ভদ্রলোকের খেলা’ খ্যাত এই ক্রীড়া তাই তার কাছে শুধুই খেলা নয়। তার অভিমত, বাবা-মায়ের পাশাপাশি অন্যান্যদের দোয়া আর সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছাই তাকে আজকের রুবেলে পরিণত করেছে।

‘যার যার পেশাটাই গুরুত্বপূর্ণ। আমি ক্রিকেটার দেখে এটাই আমার রুটি-রুজি। এটা দিয়েই আমি চলি, আমার পরিবার চলে। একসময় তো কিছু ছিল না। মানুষ ছোট থেকে আস্তে আস্তে বড় হয়। সবই আল্লাহর ইচ্ছা। আল্লাহর সহায়তা থাকে, আম্মা-আব্বার দোয়া থাকে, সবার দোয়া থাকে। এভাবেই তো মানুষ বড় হয়। আব্বা-আম্মা ভাবেনি ক্রিকেটার হবো, নিজেও ভাবিনি। ছোটকাল থেকেই খেলি, কিন্তু এই পর্যায়ে আসব সেটা তখন কল্পনাও করিনি।’— বলেন জাতীয় দলের হয়ে ২৬টি টেস্ট, ১০১টি ওয়ানডে ও ২৭টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলা রুবেল।

জীবনকে নতুন করে গুছিয়েছেন। ২০১৬ সালে বিয়ে করেন ইশরাত জাহান দোলাকে। দুজনের ‘ইনিংস’ দারুণ গতিতে এগোচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেছে তার অনাগত সন্তানের খবর। তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।

রুবেল বলেন, ‘স্ত্রী আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। আমিও অনেক ভালোবাসি (হাসি)। পারিবারিক বিয়ে ছিল। আমাদের দুজনের বাসাই ছিল বাগেরহাটে। ছোট্ট একটা শহর, কাছাকাছি বাসা। সেও ক্রিকেটের বড় ভক্ত। আগে হয়ত খুব একটা বুঝত না, তবে এখন বোঝে। সবসময় দোয়া করে; শুধু আমার জন্যই না। দলের জন্যও দোয়া করে। (অনাগত সন্তান প্রসঙ্গে) আমিসহ আমাদের পরিবারের সবাই রোমাঞ্চিত। ইনশাআল্লাহ্‌, সুস্থভাবে পৃথিবীতে আসুক। পৃথিবীতে যেন ভালো একটা মানুষ হয়ে থাকতে পারে।’

আলাপকালে জানা গেল, রুবেল হোসেনের ডাকনাম আল আমিন। গতি তারকার এই নামটি হয়ত অনেকেই জানেন না। আর দশটি পরিবারের মতই সাধারণ একটি পরিবারে জন্ম নিয়ে তারকা বনে যাওয়া রুবেলের জীবনবোধও যে এত সরল, এত সাবলীল, সেটিই বা কতজন জানতেন!

প্রথমবারের মত বিডিক্রিকটাইম নিয়ে এলো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন। বাংলাদেশ এবং সকল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বল বাই বল লাইভ স্কোর, এবং সাম্প্রতিক নিউজ সহ সবকিছু এক মুহূর্তেই পাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অনলাইন পোর্টাল BDCricTime এর অ্যাপে। অ্যাপটি ডাউনলোড করতে গুগল প্লে-স্টোর থেকে সার্চ করুন BDCricTime অথবা ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।