এই ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ- সাকিব

Sakib-all-Hasan-bdcricteam

মোঃ সিয়াম চৌধুরী

Advertisment
নিঃসন্দেহে দলের সেরা খেলোয়াড় তিনি। বিশ্বসেরাদের একজন বললেও ভুল হবে না। অভিষেকের পর থেকেই নিজের অভাবনীয় পারফরম্যান্সে দলকে এনে দিচ্ছেন সাফল্য। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলে সাফল্য-ব্যর্থতা অনেকাংশেই নির্ভর করছে তাঁর উপর। মঙ্গলবার অনুশীলনের পর সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে সাকিব জানালেন বিশ্বকাপে নিজেদের সুযোগ ও সম্ভাবনার কথা।
অধিনায়ক মাশরাফির মতো সহ-অধিনায়ক সাকিবও মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার মতো নিউজিল্যান্ডের উইকেটেও বেশি ভালো করার সুযোগ থাকবে মূলত পেসারদেরই। তবে অন্য ম্যাচগুলোর তুলনায় এই ম্যাচে স্পিনাররা কিছুটা বাড়তি সুবিধা মনে করছেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার, ‘এই উইকেটে স্পিনাদের জন্য আদৌ কোনো সাহায্য আছে কিনা, এটা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। যদি উইকেটে সাহায্য পাওয়া যায়, আমার মনে হয়, আমাদের দলে যে সব স্পিনার রয়েছেন তারা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবেন। আমরা যে দুটি ম্যাচ খেলেছি, উইকেটে বিন্দুমাত্র সহযোগিতা ছিল না স্পিনাদের জন্য। এ কারণে ফাস্ট বোলাদেরই দায়িত্বটা বেশি।’
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দৃস্টিকটু হারের কারণ হিসেবে মূলত দোষারোপ করা হচ্ছে বাজে ফিল্ডিংকে। তবে পরবর্তী ম্যাচে ভুল শুধরে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী সাকিব। সেই সাথে প্রকাশ করলেন অনিচ্ছাকৃত ফিল্ডিং মিসকে সহজে গ্রহণ করার আবেদনও, ‘ফিল্ডিং অনুশীলন যেমন হয়, আসলে ওভাবেই করা হয়েছে। এর আগের ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে আমরা ভালো ফিল্ডিং করেছি। কোনো ম্যাচে ভালো ফিল্ডিং হবে আবার কোনো ম্যাচে খারাপ ফিল্ডিং হবে, এটা ক্রিকেটেরই অংশ। সবাই চেষ্টা করছে ইমপ্রুভ করার।’
বর্তমানে বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, তাঁর আগে টাইগারদের শিক্ষক ছিলেন শেন জার্গেনসেন। সেই জার্গেনসেন এখন স্কটল্যান্ডের কোচ, যারা কিনা বাঁচা-মরার ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। বাংলাদেশের দুর্বল দিক সম্বন্ধে ভালোই জানা আছে এই অস্ট্রেলিয়ানের। তবে সাকিব এই বিষয়টাকে খুব একটা ভয় পাচ্ছেন না, ‘এখন বিশ্ব ক্রিকেটে সবাই সবার সম্পর্কে জানে। যেহেতু এত খেলা হয়; সবাই টিভিতে দেখে… সবাই সবারটা বিশ্লেষণ করে, সবাই সবারটা জানে কম-বেশি। পরিকল্পনা করলেই যদি সব হতো তাহলে সবাই পরিকল্পনাই করত মাঠে না খেলে… মাঠে খেলাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে অন্য দলের, বিশেষ করে ইংল্যান্ড-এর ব্যররথতা কাজে আসবে বাংলাদেশের। তবে তার চেয়েও সহজ হয়ে যাবে বাংলাদেশ নিজেদের শেষ তিন ম্যাচের অন্তত দুটি জিতে গেলে। সেই পথেই এখন হাঁটতে চান সাকিব, ‘২টি ম্যাচ জিতলে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে যাব। এটা হলে কোনো অংক কিংবা কোনো সমীকরণ প্রয়োজন হবে না। সহজ হিসাব, আমাদের সামনে ৩টা ম্যাচ আছে, ২টি ম্যাচ আমাদের জিততে হবে। আমরা সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
গত ম্যাচগুলোতে ব্যাটিং অর্ডারে সাকিব ও মুশফিকের অবস্থান নিয়ে বেশ আলোচনা- সমালোচনা হয়েছে। তবে আপাতত সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই সাকিবের, ‘এটা কোচ ও অধিনায়কের ব্যাপার। তারা যেটা দলের জন্য ভালো মনে করবে সেটাই করবে। আমার মনে হয় না, তাতে কেউ দ্বিমত করবে।’ শুধু কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য আগামী ম্যাচকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না সাকিব, দলের জয়ের কারণেই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে চান তাঁরা, ‘আসলে আমি এই সমীকরণটা জানি না। আমরা এভাবে চিন্তা করিনি। আমরা যদি এই ম্যাচটা জিতি, আমাদের জন্য তা ভালো হবে; জয়ের একটা মুহূর্ত সঙ্গী থাকবে। সবাই একটা ইতিবাচক মাইন্ড সেটআপ নিয়ে থাকতে পারবে। যারা ভালো করবে তাদের একটা আত্মবিশ্বাস থাকবে। এদিক থেকে এই ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রস্তুতির ব্যাপারে সন্তুস্টি জানিয়েছেন সাকিব, সেই সাথে বলেছেন, জয় ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবছে না বাংলাদেশ, ‘প্রস্তুতি সবারই ভালো। বেশ কয়েকদিন সময় ছিল আমাদের নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার। ভালো কিছু সেশন পার করেছি এই কদিন। নেটে ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং অনুশীলন করেছি আমরা। সব মিলিয়ে আমি বলব, ভালোই হয়েছে প্রস্তুতিটা। সবাই ফিট আছে। এখন মাঠে এটা বাস্তবায়ন করাটাই মূল বিষয়।’