একইসাথে প্রাপ্তি ও ত্যাগের দিনে রাজ্জাকের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

আনুষ্ঠানিকভাবে খেলোয়াড়ি জীবনকে আর বিদায় বলা হল না আব্দুর রাজ্জাকের। জাতীয় দলের সাবেক কিংবদন্তি স্পিনার পেয়েছেন জাতীয় দলের নির্বাচকের দায়িত্ব। ফলে জাতীয় দল তো বটেই, ঘরোয়া ক্রিকেটেও আর খেলোয়াড়ের ভূমিকায় দেখা যাবে না তাকে। নির্বাচক প্যানেলে যুক্ত হওয়ার প্রাপ্তির দিনে রাজ্জাককে ত্যাগ করতে হল দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের মায়া। 

আব্দুর রাজ্জাক। ফাইল ছবি : বিডিক্রিকটাইম

রাজ্জাকের নির্বাচক প্যানেলে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি অনুমিতই ছিল। জানতেন খোদ রাজ্জাকও। তবুও এতদিন তিনি ছিলেন খেলোয়াড়। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) যেই না নির্বাচক হিসেবে তার নাম ঘোষণা হল, এরপর থেকে তো আর খেলোয়াড় সত্তা থাকে না। তবুও রাজ্জাক নতুনকে বরণ করে নিতে চান হাসিমুখেই খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে।

বিডিক্রিকটাইমকে রাজ্জাক জানান, তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই তার কাছে জানতে চাচ্ছেন এখানেই তার খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি ঘটে গেল কি না। কিংবদন্তিতুল্য একজন ক্রিকেটারের খেলার দিনগুলোর এমন মলিন বিদায়ে স্বভাবতই হতাশ অনেকে।

Also Read - টি-টেনে পুনে ডেভিলসের অধিনায়কের দায়িত্বে নাসির


রাজ্জাক বলেন, ‘অনেক ফোন এসেছে, আসছে এখনো। বেশিরভাগ মানুষই অভিনন্দন জানিয়েছেন। আবার কিছু কিছু মানুষের কথা হচ্ছে- খেলোয়াড়ি জীবন কি এখনই শেষ হয়ে গেল? নির্বাচকের আসনে যোগ দিলে তো খেলোয়াড়ি জীবন শেষই হওয়ার কথা। তাই হবে হয়ত।’ 

রাজ্জাকের অনুভূতি তাই ঠিক ধরা গেল না, বোঝা গেল না প্রাপ্তির আনন্দে তিনি খুশি নাকি ত্যাগের কথা ভেবে বিষাদগ্রস্ত। তবে প্রস্থানের এই নিয়মকে বাস্তবতা হিসেবেই দেখছেন সাবেক বাঁহাতি স্পিনার, ‘মিশ্র প্রতিক্রিয়া আমার মধ্যে। আমি এখনো ক্রিকেট ছাড়ার পর্যায়ে যেতে পারিনি। নিজেও সেভাবে চিন্তা করতে পারিনি। এটা স্বাভাবিক নিয়ম, সবকিছু থেকেই একসময় সরে আসতে হবেই, কখনো না কখনো। রুপান্তরের একটা সময় থাকে মানুষের। আমার হয়ত সেই সময়টা এখন এসেছে।’ 

মাঠ থেকে তো আর বিদায় বলা হল না। এখনই কি বিদায় বলতে চান? স্মিত হেসে রাজ্জাকের উত্তর, ‘যখন ক্রিকেট বোর্ড থেকে বলবে নির্বাচকের পদে যোগ দিতে, সেই আনুষ্ঠানিকতা যখন আসবে, তখন বলব।’