Scores

একই দিনে দুই টেস্ট ও ভিন্ন একাদশের ইতিহাস

১৯৩০ সালের জানুয়ারিতে নতুন ইতিহাসের সৃষ্টি হয়। ক্রাইস্টচার্চ থেকে ব্রিজটাউন, দূরত্বের ব্যবধান ৮৭০০ কিলোমিটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সবেমাত্র নিজেদের দ্বিতীয় সিরিজ খেলছে (ঘরের মাঠে প্রথম) আর অন্যদিকে, নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটিয়েছে। তাদের প্রতিপক্ষ দল ছিলো ইংল্যান্ড! হ্যাঁ, দুইটি আলাদা দলে ভাগ হয়েছিলো ইংল্যান্ড। দুই সিরিজেই ছিলো চার টেস্ট। ক্যারিবীয় সফরের অধিনায়ক ছিলেন ফ্রেডি কালথোর্প, নিউ জিল্যান্ডে আরেক ইংলিশ অধিনায়ক ছিলেন আর্থার গিলিগান।

নিউ জিল্যান্ড-ইংল্যান্ড সিরিজ শুরু হয় ১০ জানুয়ারি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ-ইংল্যান্ড সিরিজ শুরু হয় ১১ জানুয়ারি। ব্রিজটাউনে ৬ দিন খেলার পর ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে কালথোরপের দল, অন্যদিকে ক্রাইস্টচার্চে চার দিনেই ৮ উইকেটের জয় পায় গিলিগানের ইংল্যান্ড।

Also Read - মুশফিক-সাকিবদের পাশে দাঁড়ালেন সুজন


এরপর সিদ্ধান্ত হয় একই দিন দুই টেস্ট খেলবে না ইংল্যান্ড। নবীন নিউ জিল্যান্ডের সাথে পরের দুই টেস্ট ড্র হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের ১৬৭ রানের জয়। অকল্যান্ডে তৃতীয় টেস্ট বৃষ্টির কারণে ড্র হয়। এরপর আবারও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

দুই ইংল্যান্ড দলের জর্জটাউনে তৃতীয় টেস্ট ও অকল্যান্ডে শেষ (চতুর্থ) টেস্ট শুরু হয় একই তারিখে! ২১ ফেব্রুয়ারি। জর্জটাউনে ইতিহাস রচনা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৬ দিনের টেস্টে ইংল্যান্ডকে ২৮৯ রানে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অপর প্রান্তে, অকল্যান্ডে চার দিনের টেস্ট ড্র হয়। ১-০ তে সিরিজ জিতে যায় ইংল্যান্ড।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয় ৩ এপ্রিল কিংস্টনে। সে ম্যাচে দীর্ঘ নয় দিন খেলা হয়! ড্রয়ে রাজি হতে হয় দুইদলকে। ওই ম্যাচে ইংল্যান্ডের অ্যান্ডি সান্ধাম ৩২৫ রানের ইনিংস খেলেন, যা তৎকালীন রেকর্ড ছিলো। চার মাস পর এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি নিজের করে নেন ডন ব্র‍্যাডম্যান।

ওই ম্যাচে ইংল্যান্ড একাদশের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ছিলো ৩৭ বছর ১৮৮ দিন যা সর্বোচ্চ! সান্ধাম সবচেয়ে বুড়ো বয়সে ট্রিপল সেঞ্চুরি করেন, ৩৯ বছর ২৭১ দিন। একই টেস্টের শেষ দিনে (১২ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের উইলফ্রেড রোডসের বয়স ছিলো ৫২ বছর ১৬৫ দিন। তিনিই সবচেয়ে বেশী বয়সে টেস্ট ম্যাচ খেলেন।

রেকর্ডে, ইতিহাসে ভরা ছিলো ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউ জিল্যান্ড সফর। দুই সফরের ইংল্যান্ড একাদশে কোনো মিল ছিলো না।

একাদশে মিল নেই, সেই কথায় আসলে ২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার কথা বলতে হয়। ৩ নভেম্বর শেষ হয় দুবাইয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ান দ্বিতীয় টেস্ট। ওই ম্যাচে পাকিস্তানের ৩৫৬ রানের জয়ে ছিলো মিসবাহ-উল-হকের দ্রুততম সেঞ্চুরির (৫৬ বল) রেকর্ড। ১৬ মাস পর ওই রেকর্ড নিজের করে নেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।

পাকিস্তান সিরিজের অধিনায়ক ছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। দুইদিন পরই অ্যাডিলেডে শুরু হয় অজিদের আরেক সিরিজ! অ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বে অজিরা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের ১ম টি২০ খেলতে মাঠে নামে অস্ট্রেলিয়ার। দুবাই টেস্টের কোনো অস্ট্রেলিয়ান অ্যাডিলেড টি২০ ম্যাচের একাদশে ছিলেন না। টি২০ ম্যাচটিতে ৭ উইকেটে জয় পায় প্রোটিয়ারা।

২৮ মাস পর আবারও সম্পূর্ণ ভিন্ন একাদশ নিয়ে দুই ম্যাচ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। ১৭ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি টি সিরিজের জন্য শ্রীলঙ্কাকে আতিথ্য দিবে অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে, পরের দিনই পুনেতে শুরু হবে ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টেস্ট। ২২ ফেব্রুয়ারি পুনের ৯০০০ কিলোমিটারের দূরের শহর অ্যাডিলেডে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তৃতীয় ও শেষ টি২০ খেলবে অস্ট্রেলিয়া।

আজ (১৭ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে ভারত এ দলের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে স্টিভ স্মিথের অস্ট্রেলিয়া। কয়েক ঘন্টা পর মেলবোর্নে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি২০ খেলবে অ্যারন ফিঞ্চের অস্ট্রেলিয়া।

এরকম ঘটনা হয় না বললেই চলে। হয়তো আর কখনোই হবে না!

-রাফিন, প্রতিবেদক, বিডিক্রিকটাইম ডট কম

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন
Tweet 20
fb-share-icon20

Related Articles

ভারতের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ওয়াকার

আইপিএলের লোভে ভারতীয়দের স্লেজিং করে না অজিরা!

নির্ধারিত সময়েই মাঠে গড়াবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

অভিমানে অবসরে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার

বাংলাদেশ সফরের আশা ছাড়ছেন না কামিন্স