Scores

একটি আলোচিত ঘটনা; তিনটি চরিত্র, তিন পরিণতি

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে সকল ধরনের ক্রিকেট আপাতত বন্ধ। আইসিসি তাদের বিভিন্ন বাছাইপর্বের খেলা আগামী জুন মাস পর্যন্ত বন্ধ রেখেছে। লম্বা সময় ক্রিকেট ভক্তদের জন্য থাকছেনা কোনো ক্রিকেট। এই বিরতিতে তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচিত কিছু ম্যাচ, ঘটনা ও খেলোয়াড়দের কিছু ব্যক্তিগত সাফল্য ব্যর্থতার ব্যাপারে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলোচনায় থাকছে ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের একটি আলোচিত ঘটনার কথা।

একটি আলোচিত ঘটনা ; তিনটি চরিত্র, তিন পরিণতি
বিজয়ের সাথে আলোচনায় অজি অধিনায়ক।

 

 

Also Read - বিপিএলে ফিক্সিংয়ের চেষ্টা, '৬' বছর নিষিদ্ধ শফিকুল্লাহ


গত কয়েকটি অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে মানকাড ঘটনা অনেক আলোচিত-সমালোচিত একটি বিষয়। ২০১৬ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট
ইন্ডিজের -জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বা এই বছরের বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের পাকিস্তানের বিপক্ষে করা মানকাড অনেক আলোচনার জন্ম দেয়। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সাথেও ঘটেছিল এমন একটি ঘটনা ৮ বছর আগে যা খেলাটি সরাসরি সম্প্রচার না হওয়ায় খুব একটা আলোচনায় আসেনি।

২০১২ সালের অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই ম্যাচে শুরুটা ভালোই করে বাংলাদেশ লিটন ও সৌম্যর ওপেনিং জুটিতে। তবে ৬৪ রানের মাথায় ওপেনিং জুটি ভেঙ্গে গেলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে যায় বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৭১ রান করতে পারে বাংলাদেশ।

ছোট টার্গেটে খেলতে নেমে আবু জায়েদ রাহির বোলিং তোপে ১১ রানে ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ৩৩ রানের মাথায় অস্ট্রেলিয়া আরেকটি উইকেট হারায়। তবে বিতর্ক ছিল সেই আউটটি নিয়েই। বোলার ছিলেন সৌম্য সরকার যিনি ছিলেন সেই ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে ব্যাটসম্যান পায়ারসনকে তিনি রানআউট করেন আলোচিত  ‘মানকাড’ উপায়ে। এটি ক্রিকেটীয় নিয়মের মাঝে হলেও অনেকের কাছে এটি ক্রিকেটীয় স্পিরিটের বিপক্ষে। সাথে সাথে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক উইলিয়াম বোসিস্টো ছুটে যান বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়ের কাছে আলোচনা করতে। সৌম্যর আবেদন যথার্থ ছিল তাই অধিনায়ক বিজয় আবেদন থেকে সরে আসেননি। পায়ারসনকে প্যাভিলিয়নে ফেরত যেতে হয়। সেই ঘটনা নিয়ে সেই সময় কম আলোচনা সমালোচনা হয়নি। আইসিসি তাদের পেজে বোসিস্টোর বিজয়কে অনুরোধের একটি ছবি প্রকাশ করে, পাশে ছিলেন সৌম্য।

সেই ম্যাচে বোসিস্টো একাই দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ও পরবর্তীতে ফাইনালও খেলেন ভারতের বিপক্ষে। ভালো শুরু করলেও বাংলাদেশ ম্যাচটি হেরে যায়। সেখানেই সমাপ্ত হয় বাংলাদেশের সেই অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে সুপার লিগ পর্ব। বোসিস্টো ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে না জেতাতে পারলেও সেই আসরের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন। তার প্রতিভা ছিলো অনেক।

৮ বছর পর যদি সেই ঘটনায় পেছনে ফিরে তাকানো হয় তাহলে দেখা যাবে সেই ছবির ৩ জনের ক্যারিয়ারে অনেক পার্থক্য। সেই আসরের সেরা বোসিস্টোকে আজ ক্রিকেট বিশ্বে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া কেউই স্মরন করতে পারবেন বলে মনে হয়না। ২৭ বছরের বোসিস্টো এখন অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটেও খুব একটা আলোচনায় নেই। ২ বছর আগে বিগব্যাশ খেলেছিলেন, তবে খুব বেশি সুবিধা কোন জায়গাতেই করতে পারেননি। এখন খেলেন দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার হয়ে।

অপরদিকে এনামুল হক বিজয় সেই ঘটনার কিছুদিন পরই জাতীয় দলে জায়গা করে নেন ও ভালো একটা সময় কাটান জাতীয় দলের জার্সি গায়ে। কিন্তু শুরু ভালো করলেও পরবর্তীতে ইনজুরি ও ধারাবাহিকতার অভাবে ছিটকে যান দল থেকে।
সেই আলোচিত ছবির আরেক চরিত্র সৌম্য ছবির তিনজনের মাঝে সবচেয়ে বেশি সফল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একাধিক ভালো ইনিংস রয়েছে তার বিভিন্ন ফরম্যাটে ও বাংলাদেশ দলের অপরিহার্য সদস্য তিনি সাদা বলের ক্রিকেটে বর্তমানে।

অনূর্ধ্ব ১৯ এ সেরা খেলোয়াড় হওয়ার পরও বোসিস্টোর আন্তর্জাতিকে কখনো সুযোগ না পাওয়া একটা কথা অবশ্যই প্রমাণ করে, বয়সভিত্তিক খেলায় কেউ যতই ভালো করুক সেটা যদি ধরে না রাখা যায় তাহলে জাতীয় দলে যাওয়ার সুযোগ খুব কম। যদিও বিভিন্ন জাতীয় দলে জায়গা করে নিতে যোগ্যতায় কিছুটা তারতম্য রয়েছে, তবে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে না রাখতে পারলে সুযোগ কারোই হয়না।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

জনপ্রিয়তায় ফুটবলকে ছাড়িয়ে গেল ক্রিকেট!

‘ভারতের বিপক্ষে জিততে আক্রমণাত্মক খেলার বিকল্প ছিলনা’

সেই স্কোয়াডের ‘৯ জন’ জায়গা পান জাতীয় দলে

২০১৬ এবং ২০২০ বিশ্বকাপ দলের পার্থক্য জানালেন মিরাজ

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল নিয়ে রোমাঞ্চিত সাইফউদ্দিন