একটি ‘সুযোগ’ দরকার সোহানের

গত ৪-৫ বছরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম করা ৫ জন ক্রিকেটারের নাম জানতে চাইলে সেই তালিকায় অবধারিতভাবে চলে আসবে নুরুল হাসান সোহানের নাম। ঘরোয়া ক্রিকেটে সোহান নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন সেটার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে সদ্য সমাপ্ত ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল)। প্রায় ১৫০ স্ট্রাইকরেট আর সাড়ে ৩৫ গড়ে ৩৮৯ রান করেছেন সোহান, যা টুর্নামেন্টেরই তৃতীয় সর্বোচ্চ। সবচেয়ে নজরকাড়া দিক হচ্ছে সোহানের স্ট্রাইকরেট, ১৫০! আর এবারের টুর্নামেন্ট টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়ার কারণে স্ট্রাইকরেটের আলাদা একটা মাহাত্ম্য তো আছেই।

একটি 'সুযোগ' দরকার সোহানের

Advertisment

ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতে সোহানের স্ট্রাইকরেট ১৩১ ছুঁইছুঁই। একদম অসাধারণ না হলেও ভালোই বলা যায়; গড় সাড়ে ২৪ যা টি-টোয়েন্টির হিসেবে মন্দ নয়। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্সের পরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশি সুযোগ পাননি সোহান। ওয়ানডে খেলেছেন মোটে দুইটি, সেটিও মুশফিকের ইঞ্জুরির কারণে। ২ ম্যাচে ৬৮ রান করার পরও আর সুযোগ দেয়া হয়নি… কেন হয়নি? কে জানে!

টি-টোয়েন্টিতে বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলানো হলেও বেশিরভাগ ম্যাচে নামানো হয়েছে একদম শেষের দিকে। স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী ব্যাট করার সুযোগও তাই মেলেনি। পর্যাপ্ত সুযোগ না দিয়েই ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে জাতীয় দল থেকে। অবশ্য বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে এটা খুব একটা নতুন কিছু নয়।

তবে এবারের জিম্বাবুয়ে সফরের তিন ফরম্যাটের দলেই ডাক পেয়েছেন সোহান, দীর্ঘদিন পর। বর্তমান জাতীয় দলে সোহানের মত একজন ক্রিকেটার খুবই জরুরি, অন্তত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে। যেহেতু টেস্টে লিটন দাস উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে যাচ্ছেন নিয়মিতভাবে এবং ভালো পারফর্মও করছেন, তাই আপাতত সোহানকে টেস্টের বিবেচনার বাইরে রাখা যাক। সীমিত ওভারে বাংলাদেশ দলে পাঁচ নম্বর আর সাত নম্বর স্পট নিয়ে সবচেয়ে বেশি নাড়াচাড়া করা হচ্ছে। কখনও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, কখনও মোহাম্মদ মিঠুন, কখনও আবার আফিফ হোসেন ধ্রুব, আবার কখনও অন্য কাউকে খেলানো হচ্ছে। তবে কেউই যে খুব আহামরি ভালো পারফর্ম করেছেন তা জোর গলায় বলার জো নেই।

একটি 'সুযোগ' দরকার সোহানের

পাঁচ কিংবা সা নম্বরত- দুই জায়গাতেই দারুণ পছন্দ হতে পারেন নুরুল হাসান সোহান। এক্ষেত্রে সোহানের সাম্প্রতিক ফর্ম কথা বলছে সোহানের পক্ষে। আরেকটা ব্যাপারে সোহান অনেকটা এগিয়ে, তা তার উইকেটকিপিং। অনেকের মতেই গত কয়েক বছর ধরে দেশসেরা উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান। উইকেটকিপিংয়ের দিক থেকে লিটন, মুশফিক কিংবা অন্য যে কারও চেয়ে সোহানকে এগিয়ে রাখা যেতে পারে। জাতীয় দলের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত উইকেটকিপিং করেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু মুশফিকের কিপিং নিয়ে আছে নানা আলোচনা, সমালোচনাও।

সর্বশেষ নিউজিল্যান্ড সফরেও উইকেটের পেছনে দৃষ্টিকটু ভুল করায় সমালোচিত হতে হয়েছে মুশফিককে। সেক্ষেত্রে সোহান সীমিত ওভারের উইকেটরক্ষকের ভূমিকা কেন পাচ্ছেন না- সেই প্রশ্ন ওঠা অবান্তর নয়। উইকেটকিপিংয়ে উচ্চতাও বড় একটি ব্যাপার। কিছুটা লম্বা হওয়ার কারণে সোহান নিজের উইকেটকিপিং দক্ষতার পাশাপাশি নিজের উচ্চতাকেও কাজে লাগাতে পারবেন বলে আশা করা যায়।

স্বভাবতই কিপিং-ব্যাটিং দুই দিক দিয়েই সোহানের দক্ষতা কিংবা পারফরম্যান্স সোহানকে এগিয়ে রাখছে বাকিদের চেয়ে। দারুণ ফর্মে থাকা সোহান তাই একটা সুযোগ পেতেই পারেন, অন্তত সীমিত ওভারের ক্রিকেটে!

সোহানের মত একজন বিশ্বমানের উইকেটরক্ষক কিপিংয়ে যেমন দলকে স্বস্তি দিতে পারেন, সেই সাথে ভালো স্ট্রাইকরেটে দলের চাহিদা মিটিয়ে রানও তুলতে পারবেন। এতদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে যাওয়া উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সোহানের এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সুযোগ দরকার। আর সোহান যদি সেই সুযোগ পান তিনি সেটার সদ্ব্যবহার করবেন, প্রত্যাশাটাও এমনই!

  • রাইসান কবির