মতামত-বিশ্লেষণঃ প্রিয় তিন বাঁহাতির পারফরম্যান্স

বিরাট কোহলি, জো রুট, স্টিভেন স্মিথ, কেন উইলিয়ামসন – বর্তমানে এই চারজন ২১-৩১ বছরের বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা। আগামী ১২-১৩ বছর ক্রিকেটবিশ্বে তাঁরাই রাজত্ব করবেন। বিরাট কোহলি জো রুট একদিক দিয়ে পিওর ক্লাসি ব্যাটসম্যান। স্টিভ স্মিথ দলে ফিরে এসে অসাধারণ পারফর্ম করছেন অধিনায়ক হিসেবে। কেন উইলিয়ামসনও কম নন। এই চারজন ডানহাতি ব্যাটসম্যানই ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেন।

এটা তো গেলো ২১-৩১ বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের কথা। এবার আসি বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের দিকে। আমার নিজের চোখে ২১-৩১ বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেরা তিনজন। এখানে শুধু ব্যাটসম্যানদের নেওয়া হয়েছে, আছেন একজন উইকেট-রক্ষকও। অলরাউন্ডারদের নেওয়া হয় নি।

২১-৩১ বছর বয়সী বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আমার প্রিয় যে তিনজনঃ ডেভিড ওয়ার্নার, তামিম ইকবাল ও কুইন্টন ডি কক। দুইজন জাতীয় দলের হয়ে অনেক দিন ধরে খেলছেন, আরেকজন দলে প্রবেশ করে চমক দেখিয়ে যাচ্ছেন।

Also Read - "পৃথিবীর কোথাও এমনটা ঘটে নি!"-তামিম ইকবাল


3t

ডেভিড ওয়ার্নারঃ ডেভিড ওয়ার্নার সাধারণত খুব আক্রমণাক্ত ব্যাটসম্যান। ২০০৯ সালে টি২০ ও ওয়ানডে অভিষেক হয় ওয়ার্নারের। এরপর ২০১১ সালে টেস্ট দলে ডাক পান। এরপর আর পিছিয়ে তাকাতে হয় নি ওয়ার্নারকে। সব সংস্করণেই নিজের জায়গা পাঁকা করে তুলেছেন। টি২০ ও ওয়ানডেতে যেভাবে ব্যাট করেন টেস্টেও সেরকম ভাবেই ব্যাট চালান ডেভিড ওয়ার্নার, স্ট্রাইক রেট ৭০ এর উপরে। গতবছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি করেন তিনি, ২৫৩। ৫১ টেস্টে শতক ১৬ টি, অর্ধ-শতক ২০ টি। ওয়ানডে ও টি২০ তে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করেই যাচ্ছেন। ৬১ টি২০ তে অর্ধ-শতক ১২ টি, নিজের অভিষেক ম্যাচেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮৯ রান করেন। ৭২ ওয়ানডেতে ৬ শতক ও ১৫ অর্ধ-শতক রয়েছে ওয়ার্নারের। শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেই ম্যাচজয়ী ১০৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৮৬ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২২৭ ইনিংসে ব্যাট করে ৮৮৪১ রান করেছেন। গড়ের দিক দিয়ে টেস্টে অনেক সফল তিনি। ২২ শতক ও ৪৭ অর্ধ-শতক আছে তাঁর। আগামী দিনের জন্য সবার আদর্শ হয়ে থাকবেন ওয়ার্নার।

তামিম ইকবালঃ ২৭ বছর বয়সী তামিম ইকবাল বাংলাদেশের অন্যতম কান্ডারী। বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয় ২০০৭ সালে টি২০ ও ওয়ানডেতে। টি২০ তে প্রথমে ধারাবাহিক ছিলেন না তামিম। নিজের প্রথম টি২০ অর্ধ-শতক আসে ২০১২ সালে। এখন তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র টি২০ সেঞ্চুরিয়ান। ৫২ টি২০তে ১ শতক ও ৪ অর্ধ-শতক তাঁর। ওয়ানডেতে তামিম ইকবাল অপ্রতিরোধ্য। ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৫১ রানের ইনিংসটির মাধ্যমেই জানান দিয়েছিলেন নিজের প্রতিভার। ১৫৩ ওয়ানডেতে ৬ শতক ও ৩২ অর্ধ-শতক রয়েছে তাঁর। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ওয়ানডে ক্রিকেটে ৫০০০ রান করতে দরকার ২৮৭ রান। টেস্টে নিজের অভিষেক ম্যাচে ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই অর্ধ-শতক করেছিলেম তামিম। টেস্টেও অপ্রতিরোধ্য তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পর পর দুই ম্যাচে শতক ও লর্ড্ִস টেস্টের কথা কে ভুলে। ৪২ টেস্টে ৭ শতক ও ১৮ অর্ধ-শতক রয়েছে তামিমের। টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরিও আছে তাঁর, গতবছর পাকিস্তানের বিপক্ষে। বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই শতক করে একমাত্র ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। প্রতিটি ফরম্যাটে আলাদা করে সবার উপরে আছেন তামিম। ২৪৭ টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৮৪ ইনিংসে ব্যাট করে তামিম ইকবালের রান ৮৯৮৫। শতক ১৪ টি, অর্ধ-শতক ৫৪ টি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। লক্ষ্য রেখেছেন দলের হয়ে একটি আইসিসির অন্তত একটি আসর জিতবেন।

কুইন্টন ডি ককঃ ২০১২ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০ ম্যাচের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার পোশাকে অভিষেক ঘটান কুইন্টন ডি কক। পরের মাসে ওয়ানডে অভিষেক হয় তাঁর। টি২০ তে ২৯ ম্যাচে মাত্র একটি ফিফটি, কিন্তু ৪০ এর উর্ধ্বে বেশ ক’টি ইনিংস খেলেছেন তিনি। ওয়ানডে ক্রিকেটে দারুন চমক দেখান ডি কক। নিজের প্রথম ১৯ টি ওয়ানডে ম্যাচে ছিলো না কোনো অর্ধ-শতক, কিন্তু ছিলো ৫ টি শতক। এখন ৬০ ওয়ানডেতে করেছেন ১০ টি শতক ও ৫ টি অর্ধ-শতক। ১০ টি শতকের মধ্যে ৫ টিই আসে ভারতের বিপক্ষে। ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে টানা তিন ম্যাচে শতক হাঁকান ডি কক। টেস্ট অভিষেক ঘটে ২০১৪ সালে। এখন পর্যন্ত ৮ টি টেস্টে ১ শতক ও ২ অর্ধ-শতক আছে তাঁর। নিজের একমাত্র টেস্ট শতক আসে এবছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ৯৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১০১ ইনিংসে ব্যাট করে রান করেছেন ৩৫৩৫। ১১ শতক ও ৮ অর্ধ-শতক আছে তাঁর। বয়স মাত্র ২৩, ক্যারিয়ারে খেলতে পারবেন হয়ত আরও ১২/১৩ বছর। ততোদিনে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইন-আপের অন্যতম কান্ডারী হবেন ডি কক।

বামহাতি এই ব্যাটসম্যানদের সূচনা যেমন দুনিয়া কাঁপানো ছিল তেমনি তাদের দৃষ্টিনন্দন ব্যাটিং ভবিষ্যতের আখ্যান হবে এমনটাই প্রত্যাশা।

-লিখেছেন রাফিন

***মতামত-বিশ্লেষণ বিভাগের প্রকাশিত লেখাগুলো লেখকের ব্যাক্তিগত মন্তব্য। তাই সকল ধরণের দায়ভার মন্তব্যকারী অর্থাৎ লেখকের। বিডিক্রিকটিম ডট কম কর্তৃপক্ষ এর কোনো দায়ভার গ্রহণ করবে না।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন