এক সৌম্য সরকারের কত ভূমিকা!

0
1734

অভিষেকের পরপরই তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। দুর্দান্ত সব শট ও দারুণ স্ট্রাইক রেটে সেই সময়ে আধুনিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ভবিষ্যত ভাবা হয়েছিল তাকে। শুরুতে প্রমাণ রাখলেও সময়ের সাথে সাথে সৌম্য পরিণত হয়েছেন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ধারাবাহিক হতে না পারা ও অফ ফর্মের কারণে দল থেকে বাদ পড়ে আবার সুযোগ পেয়েও তা খুব একটা কাজে লাগাতে পারেননি।

এক সৌম্য সরকারের কত ভূমিকা!

Advertisment

এক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবেই ২০১৪ সালে জাতীয় দলে আগমণ ঘটেছিল সৌম্যর। নিজের পছন্দের ওপেনিং পজিশনটা পেতে বেশি দিন অপেক্ষা করতে হয়নি তখন। দ্রুতই নিজেকে প্রমাণ করে তারকাখ্যাতিতে উড়ছিলেন তিনি। টানা কয়েকটা সিরিজ ভালো খেলার পরেই হঠাৎ ছন্দপতন। কালের বিবর্তনে তাকে মিডল অর্ডার, এমনকি লোয়ার ব্যাটসম্যানের সাথে অতিরিক্ত বোলারের ভূমিকাও পালন করতে হয়েছে। কিন্তু এতো ভূমিকা একসাথে সামলাতে সৌম্য কী আসলেই প্রস্তুত থাকেন!

আগামী দুই বছরে তিনটি বিশ্বকাপের আসর আছে, দুইটি টি-টোয়েন্টি ও একটি ওয়ানডে। এই সময়েও ২৮ বছর বয়সী এই পরীক্ষিত ক্রিকেটারকে নিয়ে চলছে কাটাছেড়া। ২০২১ সালের শুরুতেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের আগে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো জানিয়েছিলেন সৌম্য এখন থেকে ৭ এ ব্যাটিং করবেন। অধিনায়ক তামিম ইকবাল জানান, সৌম্যকে ৪/৫ মাস আগেই বলা হয়েছিল এই নতুন ভূমিকার কথা। সেখানে এক ম্যাচে সুযোগ পেয়ে যদিও তিনি ভালো করতে পারেননি।

কয়েকমাস সময় দেওয়া হলো যেই পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার জন্য, এক সিরিজ (বিশদ অর্থে বললে এক ম্যাচ দেখেই) পরেই আবার সেখান থেকে টপ অর্ডারে ফেরানো হলো এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ৩ নং পজিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফেরেন সৌম্য। অবশ্য সাকিব আল হাসান না থাকায় হয়তো সৌম্যকে এখানে খেলতে হয়েছে। কারণ আগের সিরিজেই এই পজিশনে খেলা নাজমুল হাসান শান্ত চরম ব্যর্থ হয়েছিলেন।

আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতে নতুন ভূমিকা দেওয়ার পরে টেস্ট সিরিজের প্রাথমিক স্কোয়াড থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছিল তাকে। কিন্তু সাকিব আল হাসানের ইঞ্জুরির পরে সেই সৌম্যকেই দলভুক্ত করে খেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল ঢাকা টেস্টে। সাদমান ইসলামের অনুপস্থিতিতে ওপেনও করেছিলেন। যদিও ব্যাট হাতে সেই আস্থার প্রতিদান তিনি দিতে পারেননি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টপ অর্ডারে ফিরেও সুবিধা করতে পারলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মাত্র তৃতীয় বলেই কাভারে ক্যাচ দিয়ে মাঠ ছাড়েন। রানের খাতা খোলার তো সুযোগই পাননি। বল হাতে এক ওভার বোলিংও করেছিলেন তিনি। ৫ রান খরচ করলেও কোনো উইকেট পাননি।

ক্যারিয়ারের শুরুতে খুব একটা দেখা না গেলেও এখন প্রায়শই সৌম্যকে বল হাতে অতিরিক্ত বোলারের ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়। ব্যাট হাতে ব্যর্থ হলে চেষ্টা করেন বল হাতে; টপ অর্ডারে ব্যর্থ হলে মিডল কিংবা লোয়ার অর্ডার, আবার সেখানে ব্যর্থ হলে ফেরানো হয় টপ অর্ডারে। বারবার ভূমিকা পরিবর্তনেও ফর্মে ফিরতে পারছেন এই ক্রিকেটার।

গত ১০ ইনিংসে ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ ১৭০ রান। অর্থাৎ গড় কেবল ১৭! অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন একটি ইনিংসেই, সর্বোচ্চ ৬৯ রান। গড়ের বিচারে ৩ নং এ সবচেয়ে সফল সৌম্য, রানের বিচারে ওপেনিংয়ে। কিন্তু অফ ফর্মে থাকলেই ব্যাটিং পজিশন বদলে চেষ্টা করানো হয় ভিন্ন জায়গায়। সব ক্রিকেটারই হয়তো বলবেন দলের প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে খেলতে তিনি প্রস্তুত, কিন্তু মানসিক ও অভ্যাসের একটা ব্যাপার আছেই। তবে কী টিম ম্যানেজমেন্টের ইচ্ছার বলি হয়ে নিজেকে হারিয়ে খুঁজছেন সৌম্য!