SCORE

‘এটা ওর জন্য দরকার ছিল, ইনিংসটা ওকে আত্মবিশ্বাসী করবে’

বাংলাদেশ দলে সাব্বিরের আগমন টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্ট হিসেবে। মারকুটে ব্যাটসম্যান অল্প সময়ে বেশি রান তোলাই যার কাজ। সেই সাব্বির রহমান খেললেন ২৮৭ বলে ১৬৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংস।

মোসাদ্দেকের-পর-শতক-হাঁকালেন-সাব্বিরও

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লঙ্কানদের সাথে টি-টোয়েন্টি দিয়ে অভিষেক হলেও একই বছরের ডিসেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেখা পেয়ে যান ওয়ানডে খেলার ছাড়পত্রের। ওয়ানডেতে ফিনিশার হিসেবে জায়গাও পেয়ে যান ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে। মোটামুটি পারফর্ম করেন সাব্বির। একটা অর্ধশতকের দেখা পান। ২০১৬ সালে ইংল্যান্ড দলের বাংলাদেশ সফরের সময় অভিষেক হয় সাদা পোশাকেও।

Also Read - ড্র হলো বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা 'এ' দলের ম্যাচ

সাদা পোশাকে অভিষেক হলেও আস্থার প্রতিদান দিতে পারেন নি এই মারকুটে ব্যাটসম্যান। ১১ টি টেস্ট ম্যাচ খেলে রান তুলেছেন ৪৮১। গড় ২৪ এর কিছু বেশি। চারবার ৫০ রানের কোটা পার করলেও ছুঁতে পারেন নি তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার। সর্বোচ্চ করেছেন ৬৬ রান।

মার্চে নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল দিয়ে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেন সাব্বির। কিন্তু আফাগানিস্তানের বিপক্ষে দেরাদুনে দুই ম্যাচে করেছিলেন ১৩। এক ম্যাচে আউট হয়েছেন শূন্য রানে। মিরাজের সাথে দ্বন্দ্বে খেলতে পারেন নি শেষ ম্যাচ।

বারবার বিতর্কিত হওয়া সাব্বির রহমান টেস্ট দল থেকে জায়গা হারান। টেস্ট দল উইন্ডিজ সফরে গেলেও সেই দলের সাথে যাওয়া হয় নি। তবে বসে নেই সাব্বির। ‘এ’ দলে হয়ে সুযোগ পেয়েছেন, সেই সুযোগ আপাতদৃষ্টিতে কাজেও লাগিয়েছেন বলা যায়।

সাব্বির রহমানের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে আগের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ছিল ১৩৬ রানের। সফরকারী শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চট্টগ্রামের প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ১৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলার পথে সেই স্কোর টপকে গেছেন তিনি।

বাংলাদেশের ইনিংসের ২৬ নম্বর ওভারে ব্যাট করতে নামেন দল যখন তিন উইকেট হারিয়ে বিপদে।মোসাদ্দেক হোসেনের সাথে জুটি বেঁধে খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করেন তিনি।

প্রথমে নার্ভাস থাকলেও ম্যাচ গড়ানোর সাথে সাথে মেলে ধরতে থাকেন নিজেকে। কপিবুক টেস্ট ঢঙ্গে ব্যাট চালিয়ে ইনিংসের ৯০তম ওভারে এসে শতকের দেখা পান সাব্বির। শতক পূর্ণ করার পথে তিনি খেলেন ১৮৬ বল। প্রথম-শ্রেণীর ক্যারিয়ারের শতকটি পেতে তিনি খেলেন ৩ চার ও ১ ছক্কার মার।

এরপর আস্তে আস্তে নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম দেড়শ রানের দেখাও পেয়ে যান তিনি। আগের দিনের ৪ উইকেটে করা ৩৬০ রান নিয়ে চতুর্থ ও শেষ দিনের খেলা শুরু করার পর ব্যক্তিগত ৩৫ রানে জাকিরের বিদায়ের পর দলীয় ৩৯৪ রানের মাথায় আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেন আরেক সেট ব্যাটসম্যান সাব্বির। রেখে যান ডাবল সেঞ্চুরির আক্ষেপ।

সাব্বিরের ব্যাটিং মাঠে বসে দেখেছেন হাবিবুল বাশার। নানা বিতর্কে জেরবার সাব্বির এই যে লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করেছেন, এটিই বেশ মুগ্ধ করেছে বিসিবির নির্বাচককে। জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘অনেক লম্বা সময় ধরে ব্যাটিং করেছে সে। রানের চেয়ে এটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, ও অনেক সময় উইকেটে ছিল। সাধারণত এটা ওর ব্যাটিংয়ে দেখা যায় না। পরে লম্বা সময়ে ব্যাটিং করলে যা হয়, খেলাটা অনেকটাই নিজের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। শুধু উইকেটেই থাকেনি, যে শটগুলোয় তার দুর্বলতা আছে, যেমন কাভার ড্রাইভ, স্কয়ার কাট, সেগুলোও খেলতে দেখা গেছে।’

এই ইনিংস দিয়েই তাঁকে বিবেচনা করতে নারাজ এই নির্বাচক। এই ইনিংসের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বলেন তিনি। সাব্বির রহমানের অফ ফর্মের বিপক্ষে দারুণ আত্মবিশ্বাসের খোরাক হবে এই ইনিংস এমনটাই মনে করেন তিনি। তাঁর মতে, ‘এটা ওর জন্য দরকার ছিল, ইনিংসটা ওকে আত্মবিশ্বাসী করবে। সে সাধারণত প্রচুর শট খেলে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ওর তেমন রানও নেই। এটা ওর জন্য ভালো হয়েছে। তবে মাত্রই একটা ইনিংস। সামনে যে কটা চার দিনের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে, ওর উচিত ছন্দটা ধরে রাখা। তাহলে সে আরও উন্নতি করতে পারবে।’

আরো পড়ুনঃ এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতলো বাঘিনীরা

Related Articles

বাংলাদেশি সমর্থকদের কর্মকাণ্ডে মুগ্ধ আইসিসি

এমিরেটস বোর্ডে টাইগার সমর্থকদের প্রশংসা

‘ডানহাতে হৃদয় জিতেছো’, তামিমকে মাশরাফি

স্যালুট প্রবাসী বাঙালিদেরও

দর্শকদের জয় উৎসর্গ করলেন মাশরাফি