Scores

এবাদতের তোপে গুড়িয়ে গেল মধ্যাঞ্চল

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে বল হাতে আগুণ ঝরিয়েছেন পেসার এবাদত হোসেন। তার বোলিং তোপে প্রথমদিনেই অলআউট হয়েছে লিটন দাস ও মোসাদ্দেক হোসেনের মধ্যাঞ্চল। আব্দুল মজিদ ও শুভাগত হোম ছাড়া মধ্যাঞ্চলের আর কেউ বলার মত স্কোর করতে পারেননি। নিস্প্রভ ছিলেন লিটন কুমার দাস মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।

ইবাদতের তোপে গুড়িয়ে গেল মধ্যাঞ্চল

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে মধ্যাঞ্চল। ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরুতেই সঠিক প্রমাণ করেন উত্তরাঞ্চলের বোলাররা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই আঘাত হানেন পেসার মোহর শেখ। ওপেনার লিটন কুমার দাস মাত্র ৩ রান করে করে মোহর শেখের বলে ধরা পড়েন জহুরুল ইসলামের হাতে। আরেক ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্তও বেশিক্ষন টিকতে পারেননি। তাকে সাঁজঘরে ফিরিয়ে দেন পেসার ইবাদত হোসেন। দুই চারে ১০ রান করে ইবাদত হোসেনের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

Also Read - স্বামীর শাস্তি কমাতে বিসিসিআইকে শ্রীশান্তের স্ত্রীর খোলা চিঠি


নিজের পরের ওভারে মার্শাল আইয়ুবকে বোল্ড করেন এবাদত হোসেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকে ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রহমান। ২ রানের মাথায় মোসাদ্দেক হোসেন ফিরে যান। উত্তরাঞ্চলের পেসারদের ধাক্কায় মধ্যাঞ্চলের শুরুটা হয় একদম নড়বড়ে। মাত্র ২৪ রানে ৪ উইকেট হারায় মধ্যাঞ্চল।

পঞ্চম উইকেটের জুটিতে দলের হাল ধরেন শুভাগত হোম ও আব্দুল মজিদ। দুজন মিলে গড়েন ৯১ রানের জুটি। তাদের জুটিতে বিপর্যয় কাটায় মধ্যাঞ্চল। অর্ধশতকের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন শুভাগত হোম। তবে পারেননি। ৪৮ রান করে ফিরে যান শুভাগত হোম। তাকে ফেরান এবাদত হোসেন। এরপর জাকের আলিকে ফিরিয়ে দেন স্পিনার সানজামুল ইসলাম। ৩৫ বলে ১৩ রান করে সানজামুল ইসলামের বলে স্টাম্পিং হন জাকের আলি।

শুরু হেকে একপ্রান্ত আগলে রাখা আব্দুল মজিদকে ফেরান জিয়াউর রহমান। দলীয় ১৬৬ রানের মাথায় বিদায় নেন আব্দুল মজিদ। ১৪৫ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে ফিরেন আব্দুল মজিদ। তার ইনিংসে ছিল ১৩ টি চার ও ১ টি ছক্কা। অষ্টম উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন মোশাররফ হোসেন ও শহীদুল ইসলাম। এ জুটি রান তুলে ৩৫। এ জুটিতে দুইশ’ রানের চৌকাঠ পার করে মধ্যাঞ্চল।  ২০ বলে ১৬ রান করে এবাদত হোসেনের বলে ফিরেন শহিদুল ইসলাম।

নবম উইকেটে রবিউল হককে নিয়ে ১৯ রান তুলেন মোশাররফ হোসেন। ৪ চারে ৫৪ রানে বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন মোশাররফ হোসেন।  তাকে ফিরিয়ে দিয়ে পাঁচ শিকার পূর্ণ করেন ইবাদত হোসেন। পরের বলে আবু হায়দার রনিকে ফিরিয়ে দিয়ে ইনিংসের সমাপ্তিও করেন ইবাদত হোসেন। ২২০ রান করে গুটিয়ে যায় মধ্যাঞ্চল।

বল হাতে ৬ উইকেট শিকার করেন ইবাদত হোসেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটিই ইবাদত হোসেনের ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মত এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট প্রাপ্তি। এছাড়া দুই উইকেট লাভ করেছেন জিয়াউর রহমান। একটি করে উইকেট পেয়েছেন পেসার মোহর শেখ এবং স্পিনার সানজামুল ইসলাম।

জবাব দিতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি উত্তরাঞ্চল। ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ফিরে গিয়েছেন মাত্র ২ রান করে। ৮ বলে ২ রান করে শহিদুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়েছেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। এরপর প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে উত্তরাঞ্চল। দলের হাল ধরেন ওপেনার মিজানুর রহমান ও ফরহাদ হোসেন। ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েছেন দুই ব্যাটসম্যান। মিজানুর রহমান ৪০ বলে ৩৪ রান এবং ফরহাদ হোসেন ৪৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত আছেন। ১ উইকেটে ৭২ রান করেছে উত্তরাঞ্চল। পিছিয়ে আছে ১৪৮ রানে। তবে এখনো হাতে নয় উইকেট রয়েছে তাদের। তাই প্রথম দিনশেষে চাপমুক্ত উত্তরাঞ্চল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ প্রথম দিনশেষে,
মধ্যাঞ্চল ২২০/১০, প্রথম ইনিংস, ৬২.৫ ওভার
মজিদ ৭৬, শুভাগত হোম ৪৮, মোশাররফ ৩৪
এবাদত ৬/৫১, জিয়াউর ২/৩৫

উত্তরাঞ্চল ৭২/১, প্রথম ইনিংস, ১৫.১ ওভার
মিজানুর ৩৪*, ফরহাদ ৩১*
শহিদুল ১/১৪


আরো পড়ুনঃ  আঙুল ভেঙে গেলেও ঢাকা টেস্টে খেলবেন মুশফিক!


 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

কবে আসবে পেসারদের দিন?

শহিদুল-এবাদতদের বোলিং তোপে দিশেহারা কর্নাটক

নিউজিল্যান্ডে খালেদ-রাহী-এবাদতের কথা বুঝতেন না টাইগাররা!

এবাদতের উপর আস্থা আছে চম্পকার

রোডসকে মুগ্ধ করেছেন অভিষিক্ত এবাদত