Scores

এভাবেও ফেরা যায়!

প্রাথমিকভাবে যে দল ঘোষণা করা হয়েছিল তাতে ছিল না মোহাম্মদ আমিরের নাম। এরপরে দলে অন্তর্ভুক্তি ঘটে তার। তিনি না থাকলে পাকিস্তানের অবস্থা যে হতো আরো নাজুক!

এভাবেও ফেরা যায়

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ছয়টি ম্যাচের মধ্যে দুইটিতে জিতেছে পাকিস্তান, পরাজয় তিনটিতে। একটি ম্যাচ ভেসে গিয়েছে বৃষ্টিতে। পাকিস্তান হারলেও বল হাতে প্রায় প্রতি ম্যাচেই ব্যাটসম্যানদের ত্রাস হয়ে উঠছেন মোহাম্মদ আমির। নতুন বলে তার সুইংয়ে নাকাল হচ্ছেন প্রতিপক্ষ দলের ওপেনাররা। স্লগ ওভারেও করছেন নিয়ন্ত্রিত বোলিং। কোনো ম্যাচের পাকিস্তানের সব বোলার খরুচে বোলিং করলেও একমাত্র ব্যতিক্রম থাকেন মোহাম্মদ আমির। বিশ্বকাপে এখন যে ক্রিকেটাররা আলোচনায় আছেন তাদের একজন তিনি।

Also Read - প্রোটিয়াদের বিদায় করে বাংলাদেশের নাগাল পেল পাকিস্তান


জীবনে ঝড়ঝাপ্টা কম আসেনি। ২০০৯ সালে টেস্টে যখন অভিষেক হয় তখন সবে পা দিলেন আঠারোতে। সুলতান অব সুইং ওয়াসিম আকরামকে আদর্শ মেনে শুরু করেছিলেন ক্রিকেট ক্যারিয়ার। তার বিষাক্ত সুইংয়ে ব্যাটস্যানদের অবস্থা তখন থেকেই ত্রাহি ত্রাহি!

নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছিলেন।  আকাশ ছোঁয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু করা আমির পা বাড়িয়েছিলেন স্পট ফিক্সিংয়ের অন্ধকার গলিতে।  খেলাধুলায় অন্যতম ঘৃণ্য এ কাজের সাথে জড়ানোর পর অনেকেই দেখে ফেলেছিলেন আমিরের ক্যারিয়ারের পরিসমাপ্তি।  ২০১০ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে পাকিস্তানের ইনিংস পরাজয়ের ম্যাচে ৮৪ রানে নিলেন ৬ উইকেট। সেটা ছিল তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ফিক্সিং করে ম্যাচে নো বল দেওয়ার দায়ে নিষেধাজ্ঞা পান আমির। নিষেধাজ্ঞার আগে এটিই ছিল শেষ ম্যাচ।

টগবগে তরুণ আমিরই শুধু নন, সালমান বাট আর মোহাম্মদ আসিফও ছিলেন কাঠগড়ায়। পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ২০১৬ সালে পাকিস্তানের জার্সিতে ফিরেন আমির।

নিষেধাজ্ঞার আগে যে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন, সেখানেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই করেন প্রত্যবর্তন। ঐ টেস্টে নেন তিন উইকেট। শেষ ৬ টেস্টে আমিরের ঝুলিতে আছে ২৪ উইকেট। ওয়ানডেতে ফিরেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ওয়েলিংটনে সেদিনও নিয়েছিলেন তিন উইকেট।

এভাবেও ফেরা যায়

২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিলেন পাঁচ উইকেট। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ৬ ওভারে ১৬ রান দিয়ে তিন উইকেট নেন। সেদিন আমিরের সামনে যেন দাঁড়াতেই পারছিলেন না ভারতের ব্যাটসম্যানরা। রোহিত শর্মা, শিখর ধাওয়ান আর বিরাট কোহলি- ভারতের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানই হয়েছিলেন তার শিকার। ২০১৮ সালটা আবার ভালো কাটেনি আমিরের। এক টানা ৬ ম্যাচেও ছিলেন উইকেট ছাড়া। বিশ্বকাপের আগে আমিরের শেষ দশ ম্যাচে উইকেট মাত্র তিনটি।

এমন বিবর্ণ পারফরম্যান্স ছিল ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালে বিশ্বকপে প্রথমে দলে না থাকলেও এরপর অন্তর্ভুক্তি ঘটে। প্রথম ম্যাচ থেকেই ঝড়াচ্ছেন আগুন।

প্রথম ম্যাচে উইন্ডিজের বিপক্ষে ২৬ রানে নেন ৩ উইকেট। পাকিস্তানের ১০৫ রানে অলআউট হওয়ার দিনে উইন্ডিজের উইকেটের পতন ঘটেছিল এ তিনটিই। পরের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। হাই স্কোরিং ঐ ম্যাচে ১০৩ রান করা জস বাটলার হয়েছিলেন আমিরের শিকার। এরপর ফেরান জোফরা আর্চারকে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক প্রান্ত থেকে যেন দুর্দমনীয় হয়ে উঠেছিলেন আমির। তার সুইংয়ের কোন জবাব ছিল না অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের কাছে। তবে অন্য প্রান্ত থেকে খরুচে বোলিং চলছিলই। দশ ওভার পূর্ণ করা অন্য দুই পেসার শাহিন আফ্রিদি আর হাসান আলির ইকোনমি যখন যথাক্রমে ৭ আর ৬.৭০ তখন আমির দশ ওভারে ৩০ রান দিয়ে নিলেন ৫ উইকেট। মেইডেন নেন দুইটি। ভারতের বিপক্ষেও অনেকটা একই চিত্র। ঐ ম্যাচে হাসান আলির ইকোনমি ৯.৩৩ আর ওয়াহাব রিয়াজের ইকোনমি ৭.১০। আমির দশ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তার মধ্যে ছিল বিরাট কোহলির উইকেটটাও।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটা হলো সেই লর্ডসে। নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার আগে এবং প্রত্যবর্তনের ভেন্যুতেই। এবারও অদম্য আমির। শুরুতেই হাশিম আমলার উইকেট এনে দিয়ে ম্যাচে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এ ম্যাচেও তার একের পর এক দারুণ বলে পরাস্ত হচ্ছিল ব্যাটসম্যানরা। এ ম্যাচে দুই উইকেট নিয়ে আমির বিশ্বকাপে এখন মিচেল স্টার্ক আর জোফরা আর্চারের সাথে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। তিনজনেরই উইকেট এখন ১৫ টি করে।

এখন পর্যন্ত জোফরা আর্চার ৫৪.৫ ওভার আর মিচেল স্টার্ক ৫৬ ওভার বোলিং করলেও আমির করেছেন ৪৬ ওভার। ইকোনমিটা তার ৪.৭৬। বোলিং গড়টা ১৪.৬০ যা দশ ওভারের বেশি বল করা বোলারদের মাঝে সেরা।

ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পাঁচ বছরের বিশাল নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন আমির। সেই কালো অধ্যায় বন্ধ করে মোহাম্মদ আমির ছুটছেন আলোর পানে। পারফরম্যান্সের দ্যুতি ছড়িয়ে সেই কালো দাগকে মোছার প্রচেষ্টাটা সফল হবে কিনা সেটা ক্যারিয়ার শেষে হয়তো বোঝা যাবে। তবে মোহাম্মদ আমির হতে পারেন ক্রিকেটে দুর্দান্ত প্রত্যবর্তনের এক উদাহরণ।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

অনিশ্চয়তায় রিয়াদের বাকি বিশ্বকাপ

মঙ্গলবার জানা যাবে রিয়াদের চোটের সর্বশেষ

ভারতের বিপক্ষে সেরাটা ঢেলে দেওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

উইকেট শিকারীদের প্রথম পাঁচে সাইফউদ্দিন

দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বাজে সূচনা