এশিয়া কাপে বাংলাদেশের শীর্ষ দশ রান সংগ্রাহক

১৯৮৬ সালে এশিয়া কাপে প্রথম অংশ নেওয়ার পর থেকে এখনো অবধি এশিয়ান অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় মোট ১২টি আসরে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। যার মধ্যে এগারো আসরে একদিনের ফরম্যাট অর্থাৎ ৫০ ওভারের লড়াইয়ে ও একবার টি-টোয়েন্টি অর্থাৎ ২০ ওভারের প্রতিযোগিতায় লড়েছে দলটি।

কঠিন"-ছিল-প্রথম-দশ-ওভার
ওয়ানডেতেও বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান, শতক ও অর্ধশতকের মালিক তামিম ইকবাল।

এশিয়া কাপের বিগত আসরগুলোতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন একাধিক ক্রিকেটার। প্রতিযোগিতাটিতে নিজ দেশের হয়ে শীর্ষ দশ রান সংগ্রাহকের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের পাশাপাশি একাধিক সাবেক জাতীয় দলের সদস্যও।

১. ১২ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি রান তামিম ইকবালের। প্রতিযোগিতায় শতক হাঁকানোর অর্জন অধরা থাকলেও ৬ অর্ধশতকের সাহায্যে ৮১.৫৪ স্ট্রাইক রেটে তার সংগ্রহ ৫১৭ রান। শতক ০, অর্ধশতক ৬; স্ট্রাইক রেট ৮১.৫৪, চার ৫৯, ছক্কা ৩।

২. তালিকার দ্বিতীয়স্থানে অবস্থান আরেক বর্তমান জাতীয় দলের ব্যাটিং স্তম্ভ মুশফিকুর রহিমের। তামিমের চেয়ে চার ম্যাচ বেশি খেলে ২৮.৩৫ গড়ে তার সংগ্রহ ৩৯৭ রান। শতক ১, অর্ধশতক ১; স্ট্রাইক রেট ৮৭.২৫, চার ৩০, ছক্কা ৫।

Also Read - সেরা দলটাই নামাবে বাংলাদেশ

ব্যাটিং করছেন মুশফিকুর রহিম

৩. তালিকার তিনে অবস্থান সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার আতহার আলি খানের। জাতীয় দলকে বিদায় বলার আগে এশিয়া কাপের ১১ ম্যাচে অংশ নিয়ে ৩৬.৮০ গড়ে দুই অর্ধশতকে ৩৬৮ রান করেন তিনি। যা বাংলাদেশের পক্ষে এশিয়া কাপের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত তৃতীয় সেরা সংগ্রহ। শতক ০, অর্ধশতক ২; স্ট্রাইক রেট ৫৭.৪১, চার ২৭+, ছক্কা ২+।

৪. আতহার আলি খানের চেয়ে ১৫ রান পিছিয়ে থেকে তালিকার চারে অবস্থান সময়ের অন্যতম ও দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের। মাত্র ৯ ম্যাচ থেকে ৪৪.১২ গড়ে ১১০.৩১ স্ট্রাইক রেটে তার সংগ্রহ ৩৫৩ রান। শতক ০, অর্ধশতক ৩; স্ট্রাইক রেট ১১০.৩১, চার ৩৬, ছক্কা ৫।

৫. বাংলাদেশের পক্ষে শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহকের মধ্যে দ্বিতীয় সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে তালিকার পঞ্চমস্থানে রয়েছেন আকরাম খান। তার সংগ্রহ ২৮.৭৫ গড়ে ১৩ ম্যাচ থেকে ৩৪৫ রান। শতক ০, অর্ধশতক ২; স্ট্রাইক রেট ৬৩.৩০, চার ২৩+, ছক্কা ১+।

৬. মোহাম্মদ আশরাফুলের অবস্থান ছয় নম্বর অবস্থানে। ২৬.৩৩ গড়ে ১২ ম্যাচ থেকে সমান ১ শতক ও অর্ধশতকে তার রান ৩১৬। শতক ১, অর্ধশতক ১; স্ট্রাইক রেট ৬২.৬৯, চার ২৯, ছক্কা ২।

এপিএল খেলতে মুখিয়ে আশরাফুল

৭. ৪১.৬৬ গড়ে ৭ ম্যাচ থেকে ২৫০ রান করে তালিকার সপ্তম অবস্থানে রয়েছেন আরেক সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার জাবেদ ওমর বেলিম। ৩ অর্ধশতকে এ রান সংগ্রহ তার। শতক ০, অর্ধশতক ৩; স্ট্রাইক রেট ৫৫.৯২, চার ১৬, ছক্কা ১।

৮. তালিকার অষ্টম অবস্থানে রয়েছেন আরেক সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এক সময়কার বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং নির্ভরতার এ প্রতীক ১৯৮৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মোট ১৪ ম্যাচ করে এশিয়া কাপে করেছিলেন ২৩৮ রান। শতক ০, অর্ধশতক ৩; স্ট্রাইক রেট ৫১.৫১, চার ১৩, ছক্কা ১।

৯. আমিনুল ইসলাম বুলবুলের চেয়ে মাত্র ১ রানে পিছিয়ে থেকে পরের অবস্থানে রয়েছেন নাসির হোসেন। ৮ ম্যাচ খেলা নাসিরের সংগ্রহ ৩৯.৫০ গড়ে ২৩৭ রান। শতক ০, অর্ধশতক ১; স্ট্রাইক রেট ৬৮.৪৯, চার ১৪, ছক্কা ২।

১০. এশিয়া কাপের এক আসরে মাত্র ৪ ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি গড় ৫৬.৭৫ গড়ে ২২৭ রান সংগ্রহ করে নিজের নাম তালিকার শীর্ষ দশে এখনো ধরে রেখেছেন জাতীয় দলের ওপেনার এনামুল হক বিজয়। শতক ১, অর্ধশতক ১; স্ট্রাইক রেট ৬৮.১৬, চার ১৩, ছক্কা ৮।

সবচেয়ে বেশি চার হাঁকানো ব্যাটসম্যান- তামিম ইকবাল (৫৯টি)।
সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকানো ব্যাটসম্যান- এনামুল হক বিজয় (৮টি)।
সবচেয়ে বেশি স্ট্রাইক রেট-
সাকিব আল হাসান ১১০.৩১।
সবচেয়ে বেশি অর্ধশতক-
তামিম ইকবাল (৬টি)

[বি.দ্র: এখানে শুধুমাত্র ওয়ানডে ফরম্যাটের এশিয়া কাপের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। পরিসংখ্যান ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তারিখ অনুযায়ী।]


আরও পড়ুনঃ রানের খাতা খুলেই কুকের মাইলফলক স্পর্শ