ওয়ানডেতেও হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

0
945

টেস্টের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে একদিনের সিরিজেও হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্কে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ একদিনের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২০০ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা।

Advertisment

সকালে টসে জিতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস। এই ম্যাচে বিশ্রামে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হাশিম আমলার বদলে কুইন্টন ডি ককের সাথে ওপেন করতে নামেন টেম্বা বাভুমা। অধিনায়কের ব্যাটিং নেবার সিদ্ধান্তকে যথার্থ প্রমাণ করেন এই দুই ওপেনার। দ্রুত গতিতে ১৭.৫ ওভারে তোলেন ১১৯ রান। ৪৭ বলে ৪৮ রান করা বাভুমাকে আউট করে জুটি ভাঙ্গেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের দুই ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাননি এই ক্রিকেটার।

বাভুমার বিদায়ের পর ক্রিজে বেশিক্ষণ স্থায়ী হোন নি আরেক ওপেনার কুইন্টন ডি কক। ৬৮ বলে ৭৩ রান করে মিরাজের দ্বিতীয় শিকার হোন ডি কক। এরপর অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিসের সাথে ক্ষণস্থায়ী বিপর্যয় কাটান অভিষিক্ত অ্যাইডেন মারক্রাম। গড়ে তোলেন ১৫১ রানের জুটি। মাত্র ৬৭ বলে ৯১ রান করে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন ফাফ। এরপর দলীয় ২৮৯ রানে ৬৬ রান করে আউট হোন মারক্রাম। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান এবি ডি ভিলিয়ার্স আজ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেন নি। ১৫ বলে ২০ রান করে রুবেলের বলে আউট হোন এই ডানহাতি মারকুটে ব্যাটসম্যান।

শেষের দিকে বেহারদিয়েনের ২৪ বলে ৩৩ এবং কাগিসো রাবাদার ১১ বলে ২৩ রানের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৬৯ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ১০ ওভারে ৮৬ রান তোলে প্রোটিয়ারা। বাংলাদেশের পক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ দুইটি করে উইকেট নেন।

৩৭০ রানের পাহাড়সম টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে অনেক বাজে সূচনা হয় বাংলাদেশের। দলীয় স্কোর ২০ রান হতেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে হারায় টাইগাররা। ইমরুল কায়েস ১ ও লিটন কুমার ৬ রান করেন। অন্যদিকে তামিমের পরিবর্তে সুযোগ পাওয়া সৌম্য সরকার একদমই সুবিধা করতে পারেন নি। মাত্র ৮ রান করেই সাজঘরে ফিরেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান।

আগের দুই ওয়ানডেতে শতক ও অর্ধশতক হাঁকানো মুশফিক এই ম্যাচে ছিলেন ব্যর্থ। মাত্র ৮ রান করেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। ক্রিজের একপ্রান্তে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মাঝে দুর্দান্ত কিছু শট খেলেন সাকিব আল হাসান। ৬১ রানে ৫ উইকেট হারানো বাংলাদেশ সাকিব-সাব্বিরের ব্যাটে শতকের মাইলফলক অতিক্রম করে। ৮২ বলে ৮ চারের সাহায্যে ৬৩ রান করা সাকিবের বিদায়ের পর বাংলাদেশ পরাজয় ছিল সময়ের ব্যাপার। শেষের দিকে সাব্বির রহমানের ৩৯, মাশরাফির ১৭ ও মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ১৫ রান শুধুমাত্র পরাজয়ের ব্যবধান কমিয়েছে। ৪০.৪ ওভারে ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে প্যাটারসন তিনটি, ইমরান তাহির ও অ্যাইডেন মারক্রাম দুইটি করে উইকেট নেন।

এই বিশাল জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো দক্ষিণ আফ্রিকা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ 
দক্ষিণ আফ্রিকাঃ ৩৬৯/৬ (৫০ ওভার)
ফাফ ডু প্লেসিস ৯১*, কুইন্টন ডি কক ৭৩, অ্যাইডেন মারক্রাম ৬৬, টেম্বা বাভুমা ৪৮
মেহেদী হাসান মিরাজ ৫৯/২, তাসকিন আহমেদ ৬৬/২

বাংলাদেশঃ ১৮৫/১০ (৪০.৩ ওভার)
সাকিব আল হাসান ৬৩, সাব্বির রহমান ৩৯
ড্যান প্যাটারসন ৩/৪৪

ফলাফলঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ২০০ রানে জয়ী 

ম্যাচ সেরাঃ ফাফ ডু প্লেসিস
সিরিজ সেরাঃ কুইন্টন ডি কক