Scores

ওয়ানডেতে সাফল্যের বছরে দুই ফাইনালের আক্ষেপ

২০১৮ সালটা ওয়ানডেতেই ভালোই কেটেছে বাংলাদেশের। বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষার অবসান ঘটেছে। তবে বেড়েছে একটি ট্রফির অপেক্ষা। বিদায়ের অপেক্ষায় থাকা ২০১৮ সালে ওয়ানডেতে দুইটি ফাইনাল খেলেও শিরোপার স্বাদ পাওয়া হয়নি বাংলাদেশের।

বছরের শুরুটা দারুণ হয়েছিল বাংলাদেশের জন্য। বছরের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে আট উইকেটে হারিয়ে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে-শ্রীলঙ্কা নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় সিরিজে শুভসূচনা করে টাইগাররা। এরপর শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালের পথ সুগম করে বাংলাদেশ। ১৬৩ রানে জিতে বাংলাদেশ। এরপর জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করলেও ফাইনালের স্মৃতিটা সুখকর ছিল বাংলাদেশের জন্য।

Also Read - টাইগারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট প্রধান নির্বাচক


ফাইনালে আঙুলে চোট পেয়ে মাঝপথে ছিটকে যান সাকিব আল হাসান। আর ম্যাচে ফেরা হয়নি তার। ফাইনালে ২২২ রান তাড়া করতে নেমে ৭৯ রানে হারে বাংলাদেশ।

পরবর্তী ওয়ানডে ম্যাচের জন্য প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে টাইগারদের। উইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৪৮ রানে জিতে যায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে সিরিজ জয়ের হাতছানি থাকলেও শ্বাসরূদ্ধকর ম্যাচে স্লগ ওভারের ব্যাটিং ব্যর্থতায় হাতের মুঠোতে থাকা ম্যাচ হারতে হয় তিন রানে। অবশ্য পরের ম্যাচে স্বাগতিকদের ১৮ রানে হারিয়ে ২-১ এ সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ। নয় বছর পর দেশের বাইরে সিরিজ জিতে বাংলাদেশ। ঐ সিরিজে তিন ম্যাচে দুইটি শতক হাঁকান ওপেনার তামিম ইকবাল।

 

ফের ভারতই হাতে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব

এ বছর বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অধ্যায় এশিয়া কাপ। সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজিত হয় এশিয়া কাপ। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ১৩৭ রানে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচেই শুরুতেই বল এসে লাগে তামিম ইকবালের হাতে। কব্জিতে চোট পেয়ে তামিম ইকবাল মাঠ ছাড়েন। তবে দলের প্রয়োজনে নয় উইকেট পতনের পর এক হাত দিয়েই ব্যাটিং করেন তামিম। দলের প্রয়োজনে তার এমন নিবেদন ঝড় তুলে ক্রিকেটবিশ্বে। ঐ ম্যাচেই পাঁজরের চোটকে পাত্তা না দিয়ে ১৪৪ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছিলেন মুশফিকুর রহিম। পরিস্থিতি  বিবেচনায় ইনিংসের গুরুত্ব, পারিপার্শ্বিকতাকে জয় কিংবা রানের হিসেব- সব মাপকাঠিতেই মুশফিকুর রহিমের ঐ ইনিংসটি বাংলাদেশের জন্য এ বছরের সেরা ওয়ানডে ইনিংস।

এরপর আফগানিস্তানের কাছে ১৩৬ রানে ও ভারতের কাছে ৭ উইকেটে হেরে ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। তবে এরপর ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। আফগানিস্তানকে টান টান উত্তেজনার ম্যাচে ৩ রানে ও পাকিস্তানকে ৩৭ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে চলে যায় বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে ম্যাচটি হারতে হয় তিন উইকেটে। শিরোপা থেকে যায় অধরা।

 

রেকর্ডের কথা জানতেনই না ইমরুল -

এরপর দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশ জিতেছে দাপটের সঙ্গে। চোটের কারণে সাকিব আল হাসান তামিম ইকবাল না খেললেও তাদের অনুপস্থিতি টের পাওয়া যায়নি। ব্যাটিংয়ে ইমরুল কায়েস প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৪ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন। এ সিরিজ দিয়ে ফের দলে ফিরেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

উইন্ডিজদেরকে তাদের মাটিতে হারানোর পর দেশের মাটিতেও সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ২-১ এ সিরিজ জিতে নেয় বাংলাদেশ।

পুরো বছরে ২০ ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১৩ টি জিতেছে বাংলাদেশ। জয়ের শতাংশ ৬৫। সাফল্যের হারে ২০১৮ সালের ওয়ানডেতে  চতুর্থ সেরা দল। বাংলাদেশের ওপরে তিন দল নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড এবং ভারত।

সাফল্যের রঙয়ের ছটা পুরো বছর জুড়ে থাকলেও ট্রফি না জেতার আক্ষেপ মনের কোণা থেকে সরানো হয়নি। তবে যে ধারাবাহিকতা বছরজুড়ে বিরাজমান ছিল তাতে দরজায় কড়া নাড়া ২০১৯ সালের জন্য আত্মবিশ্বাসী মাশরাফির দল। ২০১৯ সালের প্রথম মিশন নিউজিল্যান্ড সফর। যে সফরে এর আগে কোনো ম্যাচই জিতেনি বাংলাদেশ। সাথে রয়েছে বিশ্বকাপও। আসন্ন বছরটাকে স্মরণীয় করে রাখার মতো প্ল্যাটফর্মও কম নেই। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ চাইবে ২০১৯ সালটাতেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।


আরো পড়ুনঃ  ওয়ানডে’তে বাংলাদেশের ২০১৮ সালের পরিসংখ্যান



 

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

হ্যাকারদের কবলে নাসির হোসেন

সাকিব-রিয়াদের অনুপ্রেরণাতেই সফল আমিনুল

‘এখন তো নির্বাচক অনেক’

চোট পেয়েছেন আমিনুল ইসলাম, দিতে হয়েছে ৩ সেলাই

‘প্রথম দেখায় আমিনুলকে এক্স ফ্যাক্টর মনে হয়েছিল’