Scores

করোনা প্রতিরোধ করতে হবে টেস্ট ক্রিকেটের মত : শচীন

ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তী শচীন টেন্ডুলকার মনে করেন, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে হবে টেস্ট ক্রিকেটের দর্শন নিয়ে। সম্প্রতি করোনাভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ক এক কলামে শচীন সবাইকে ধৈর্য ধরে বিপর্যয় মোকাবেলার আহ্বান জানান। 

করোনা প্রতিরোধ করতে হবে টেস্ট ক্রিকেটের মত শচীন

শচীন বলেন, ‘এই মুহূর্তে, যখন গোটা বিশ্ব যুদ্ধ করছে কভিড-১৯ মহামারির বিরুদ্ধে, তখন সম্ভবত আমাদের সকলের সময় এসেছে এই খেলার সবচেয়ে পুরনো সংস্করণটি থেকে শিক্ষা গ্রহণের।’

Also Read - এভাবে কাছে আসা যাবে না : মাশরাফি






টেস্ট ক্রিকেট থেকে শিক্ষা নিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের বার্তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শচীন বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেট আপনাকে অনুপ্রাণিত করে ধৈর্যের মূল্য উপলব্ধি করতে। যখন আপনি পিচের অবস্থা কিংবা বোলারকে বুঝে উঠতে পারেন না, তখন রক্ষণই হয়ে ওঠে আক্রমণের শ্রেষ্ঠ রূপ। আমাদের এখন যা প্রয়োজন, তা হলো ধৈর্য। আমাদেরও এখন নিজেদের রক্ষা করতে হবে।’

পুরো বিশ্বের এই দুঃসময় দেখে হতবাক শচীনও। এমন বিপর্যয় আসতে পারে- নিজে কখনোই ভাবেননি শচীন। বিশ্ব ক্রিকেটের বিস্ময় বলেন, ‘আমার গোটা জীবনে, পেশাদার ক্রিকেট কিংবা সেটি ছাপিয়ে অন্য সকল ক্ষেত্রেও, আমি কখনো ভাবিনি একদিন আমাকে এমন দিন দেখতে হবে যে ভারতে এবং বিশ্বব্যাপী ক্রিকেটসহ সবকিছু সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। ক্রিকেটীয় উপমা ব্যবহার করেই বলতে হয়, একজন ব্যক্তিবিশেষ হয়তো নিজস্ব অসাধারণত্ব দিয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে দলকে জেতাতে পারে, কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট মানেই হলো জুটি ও দলীয় সহযোগিতা। একজন ব্যাটসম্যান যদি নিজে কেবল সহজ ওভারগুলোর মোকাবিলা করে এবং তার সঙ্গীকে ঠেলে দেয় ভয়ঙ্কর বোলারটিকে সামলাতে, তাহলে সে নিজে হয়তো রান করতে পারবে, অপরাজিতও থাকবে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ইনিংসটি ভেঙে পড়বে।’






ক্রিকেটীয় দর্শনে অনুপ্রাণিত শচীন বলেন, ‘এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা যা আমাদের আত্মস্থ করা উচিৎ। নভেল করোনাভাইরাস হলো এমন একটি রোগ যেটিকে বিশ্ব এখনো বুঝতে পারেনি। আমরা দেখতে পাচ্ছি যেসব দেশ সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি, সেসব দেশে সংক্রমণ ও মৃতের পরিমাণ ক্রমশ বেড়ে চলেছে। অথচ স্রেফ দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করে, যা হচ্ছে তাকে মেনে নিয়ে, পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা লম্বা দৌড়ে এই রোগটিকে প্রতিহত করতে পারি। আমাদের এখন শুধু নিজেকে নিয়েই ভাবলে হবে না, দায়িত্ব নিতে হবে এবং বিবেচনায় আনতে হবে আমাদের আশেপাশের সকলেরই।’

‘আমাদের অনেকেরই হয়তো উচ্চ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু আমরা যদি এখনই প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন না করি, তাহলে আমরাই হয়তো বয়স্কদের মাঝে অথবা সেইসব শরীরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেব, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। টেস্ট ক্রিকেট মানে হলো ফিরে আসা। সবসময়ই সেখানে একটি দ্বিতীয় ইনিংস থাকে, যদি প্রথম ইনিংসে আপনি ব্যর্থ হন।’– বয়স্কদের সুস্থার জন্য সবার সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন শচীন।

শচীন মনে করেন, নিজ নিজ জায়গা থেকে সবাই সতর্ক হলে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের জন্য কাজ আর সহব হবে।

তার ভাষ্য, ‘বিভিন্ন দেশ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু একটি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে, তারা সকলেই পারে এই বৈশ্বিক মহামারীকে নিজ নিজ প্রক্রিয়ায় জয় করতে। সকল দেশেরই উচিৎ নিজেদেরকে একক দলের অংশীদার মনে করা। তাদের উচিৎ একে অন্যের সাথে কথা বলা, একে অন্যকে উদ্বুদ্ধ করা, লম্বা দিনের খেলার পর পরস্পরের পিঠ চাপড়ে দেয়া যেন পরের দিন তারা আরো শক্তিশালীভাবে ফিরে এসে আরো জোরালো সংগ্রাম শুরু করতে পারে।’

‘বর্তমানে এয়ারপোর্টগুলোতে স্ক্রিনিংয়ের ব্যাপারে অনেক গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে, টেস্টিং ল্যাব ও হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। আমাদের অবশ্যই উচিৎ তাদের এই সাহসী কাজের প্রশংসা করা, কিন্তু সেই সাথে তাদের কাজের পরিমাণ কমানোও আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমরা যদি প্রয়োজনহীন সকল ভ্রমণ ও সামাজিক মিলন কিছুদিনের জন্য পরিহার করি, তাহলে হয়তো স্ক্রিনিং এর জন্য স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাবে। এতে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যোদ্ধারা উপকৃত হবেন, এবং কেবল গুরুতর কেসগুলোতে তারা মনোযোগ দিতে পারবেন। আর এতে করে বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকেরাও কিছুটা সময় পাবেন রোগটির প্রকৃতি সম্পূর্ণরূপে অনুধাবন করার।’

‘মনে রাখবেন, আমরা কভিড-১৯ এর সংক্রমণ তখনই প্রতিহত করতে পারব, যখন আমরা আমাদের গোটা সম্প্রদায়কেই সুরক্ষিত করব, কেবল নিজেদেরকে নয়। চলুন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দেয়া পরামর্শগুলো মেনে চলি। এই বৈশ্বিক মহামারী আমাদের চরিত্রের সত্যিকারের পরীক্ষা নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এটি আমাদেরকে একতাবদ্ধও করে তুলেছে। আমরা এখন প্রতিটি সেশন ধরে ধরে এই লড়াই চালিয়ে যাব, এবং শেষ পর্যন্ত বিজয়ী বেশে মাঠ ছাড়ব।’– উল্লেখ করেন শচীন।

বল বাই বল লাইভ স্কোর পেতে আর নয় বিদেশি অ্যাপ। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক খবর এবং বল বাই বল লাইভ স্কোর আপনার মুঠোফোনে পেতে এখনি প্লে-স্টোর থেকে BDCricTime সার্চ করে ডাউনলোড করুন বাংলাদেশের নাম্বার ওয়ান ক্রিকেট অ্যাপটি। অথবা ডাউনলোড করতে ক্লিক করুন এখানে। ভালো লাগলে অবশ্যই রেটিং দিয়ে উৎসাহী করুন।

নিউজটি বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Related Articles

অস্ট্রেলিয়ার ইংল্যান্ড সফর চূড়ান্ত; স্কোয়াড ঘোষণা

আগেই ট্রফিতে লেখা হয় ‘ভারত’; কিন্তু জয়ী হয় পাকিস্তান

‘সামাজিক মাধ্যম এড়িয়ে চলো’, ক্রিকেটারদের ল্যাঙ্গারের পরামর্শ

ডি ভিলিয়ার্সের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

আইসিসির প্রধান পদের ভোটাভুটি নিয়ে বিবাদে ভারত-পাকিস্তান