SCORE

কাঠগড়ায় এবার ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ পদ্ধতি

‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ হচ্ছে দেশের ক্রিকেটারদের রুটি-রুজির যোগান খ্যাত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের বর্তমান খেলোয়াড় বাছাই পদ্ধতি। পরীক্ষামূলকভাবে একদফা আয়োজনের পর গত আসরে ডিপিএলের কপালে পাকাপোক্তভাবে লেগে যায় এই পদ্ধতির ছাপ। আসরটির ২০১৭-১৮ মৌসুম শেষের অনেকদিন পর আবারও আলোচনায় এই ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’।

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের ২০১৫-১৬ আসরে কে কোন দলে?

অতীতে অবশ্য এই পদ্ধতির প্রচলন ছিল না ডিপিএলে। ২০১২-১৩ মৌসুমে হুট করেই ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস- সিসিডিএম জানায়, ডিপিএলের খেলোয়াড় বাছাই হবে ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ- বেঁধে দেওয়া থাকবে খেলোয়াড়দের মূল্য এবং সেই দামেই তাকে দলভুক্ত করবে ক্লাব। সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের ক্ষোভের মুখে গত বছর সেই নিয়ম তুলে নিতে বাধ্য হয় সিসিডিএম। কিন্তু সর্বশেষ মৌসুমে আবারও সেই পুরনো প্রথা ফিরিয়ে আনা হয়।

বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রিকেটাররাই। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ক্রিকেটাররা ক্লাবের সাথে কথা বলে নিজেদের দাম নির্ধারণ করতেন। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকত বেশি। কিন্তু ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ পদ্ধতিতে আগে থেকেই নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় সেই সুযোগ পাচ্ছেন না ক্রিকেটাররা। তার চেয়েও বড় কথা, আগে যে পরিমাণ পারিশ্রমিক ক্রিকেটাররা পেতেন, ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ পদ্ধতিতে কারও কারও ক্ষেত্রে সেটা নেমে আসছে অর্ধেকে!

Also Read - ৬ মাসেও পরিশোধ হয়নি অলকদের বকেয়া

এ তো গেল সমালোচনার পুরনো উপাদান। নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে আসরের জনপ্রিয় দল ব্রাদার্স ইউনিয়ন খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক এখনও পরিশোধ না করায়। প্লেয়ার্স বাই চয়েজ পদ্ধতি আবির্ভাবের পর সিসিডিএম নিয়ম করেছিল, আসর শুরুর আগেই খেলোয়াড়দের অর্ধেক পারিশ্রমিক, আসর চলাকালে ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক এবং আসর শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে বাকি ২৫ শতাংশ পারিশ্রমিক পরিশোধ করতে হবে। বাকি দলগুলো নিয়ম মানলেও মানেনি ব্রাদার্স ইউনিয়ন। ক্লাবের সব খেলোয়াড়ের টাকাই এখনও রয়ে গেছে বকেয়া। রোববার দলের অধিনায়ক অলক কাপালি সতীর্থদের নিয়ে তাই দলবেঁধে এসেছিলেন কোয়াবের কাছে সমাধান খুঁজতে। সেই সাথে আবারও অভিযোগ দাখিল করে গেলেন বোর্ডের কাছে।

এমন পরিস্থিতিতে অলক জানিয়ে রাখলেন প্লেয়ার্স বাই চয়েজের কার্যকারিতা কতটুকু, সেই প্রশ্ন-

‘‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ আমাদের জন্য ভালো হচ্ছে কিনা সেটাও আরেকবার দেখা উচি‍ৎকেননা আগে আমরা এমনিতেই চুক্তি করে খেলতামতখন এসব সমস্যা হত না।’

প্রিমিয়ার লিগ খেলেই আসে দেশের ক্রিকেটারদের আয়ের বড় অংশ। তাই অনেক আগে থেকেই একে আখ্যা দেওয়া হত দেশের ক্রিকেটারদের রুটি-রুজি বলে। অন্যান্য ঘরোয়া আসরে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটাররাও খেলে থাকেন এখানে। প্লেয়ার্স বাই চয়েজ পদ্ধতিতে তাদের আয়ে পড়েছে ভাঁটা। সেই সাথে রয়েছে সময়মত পারিশ্রমিক না পাওয়ার বেদনা।

অলক বলেন, ‘সবাই তো আর বিপিএল খেলে নাপ্রিমিয়ার লিগ, এনসিএল, বিসিএলে খেলে; এমনকি বিসিএলেও সবাই খেলে নাতাই এই প্রিমিয়ার লিগ কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণএখানে সব কিছু মেনেও সময়মতো স্যালারি না পাওয়া দুঃখজনক।’

প্লেয়ার্স বাই চয়েজ পদ্ধতির উপকারিতা নিয়ে দ্বিধান্বিত খেলোয়াড়দের মঙ্গলের জন্য গড়া সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পালেরও। তিনি বলেন, ‘‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’ নিয়ে প্লেয়ারদের মধ্যেও কনফিউশন আছেতারপরেও এই নিয়মটি যেহেতু করা হয়েছে, এটাই কিভাবে শতভাগ কাজে লাগানো যায় ক্রিকেটারদের রাইটস অক্ষুণ্ণ রেখে এটাই দেখা উচিৎ এখন আমরা কিন্তু শুরুতেই ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েজ’র পক্ষে ছিলাম নাএই ক্রিকেটাররা মিলেই কিন্তু বলেছিল এর বিপক্ষেকিন্তু বিসিবির সামনে কয়েকজন ক্রিকেটার মিলেই ঠিক করেছিল এই নিয়মক্রিকেটাররা যদি সংঘবদ্ধ হয় তাহলে কিন্তু বিষয়টা সহজ হয়ে যায়তারাও আমাদের খুব কাছের, এদের সঙ্গে বোঝাপড়াও ভালোএখন বিষয়টি নিয়ে যদি তারা সহযোগিতা করে তাহলে সমাধান আসবে।’

আরও পড়ুন: সব ধরণের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা জনসনের

Related Articles

৬ মাসেও পরিশোধ হয়নি অলকদের বকেয়া

বদলে যাচ্ছে লঙ্গার ভার্সনের চেহারা

“ভালো করার স্পৃহা থাকতে হবে”

“আব্বা থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন”

‘সেরা অর্জন’ এর খোঁজে আশরাফুল